সংসদ সদস্যরা যেসব সুযোগ-সুবিধা পান

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী ২৯৭ জন সংসদ সদস্যের গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। ১৯৭৩ সালের ‘সংসদ সদস্য পারিশ্রমিক ও ভাতা আদেশ’ অনুযায়ী নির্বাচিত প্রতিনিধিরা রাষ্ট্রীয়ভাবে নির্ধারিত বিভিন্ন বেতন ও সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। ২০১৬ সালে সর্বশেষ সংশোধিত আইন অনুযায়ী তাঁদের এ আর্থিক কাঠামো নির্ধারিত হয়েছে।

একজন সংসদ সদস্য মাসিক ৫৫ হাজার টাকা মূল বেতন পান। এর সাথে তিনি নির্বাচনি এলাকা ভাতা বাবদ মাসিক ১২ হাজার ৫শ টাকা এবং আপ্যায়ন ভাতা হিসেবে ৫ হাজার টাকা পেয়ে থাকেন। এসবের পাশাপাশি নির্বাচনি এলাকায় অফিস পরিচালনার জন্য প্রতি মাসে ১৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।

পরিবহন সুবিধার জন্য সংসদ সদস্যরা মাসিক ৭০ হাজার টাকা ভাতা পান। এর মধ্যে জ্বালানি খরচ,গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ এবং চালকের বেতন অন্তর্ভুক্ত। সদস্যদের জন্য সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো শুল্ক ও করমুক্ত গাড়ি আমদানির সুযোগ। একজন সদস্য তাঁর মেয়াদকালে একটি গাড়ি বা জিপ সম্পূর্ণ শুল্কমুক্তভাবে আমদানি করতে পারেন।

বাসস্থান ও দৈনন্দিন খরচের জন্য সংসদ সদস্যরা ১ হাজার ৫শ টাকা ধোলাই ভাতা এবং ৬ হাজার টাকা বিবিধ ব্যয় ভাতা পান। চিকিৎসার ক্ষেত্রে তাঁরা সরকারি প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের সমান সুবিধা এবং মাসিক ৭শ টাকা চিকিৎসা ভাতা পান। নিরাপত্তার জন্য প্রত্যেক সদস্যের ১০ লাখ টাকার বীমা সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।

ভ্রমণ সুবিধার ক্ষেত্রে সদস্যরা রেল, বিমান বা নৌ-পথে যাতায়াতের জন্য সর্বোচ্চ শ্রেণির ভাড়ার দেড় গুণ ভাতা পান। দেশের অভ্যন্তরে ভ্রমণের জন্য বছরে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ট্রাভেল পাস বা সমপরিমাণ ভাতা দেয়া হয়। সংসদীয় দায়িত্ব পালনকালে তাঁরা নির্দিষ্ট হারে দৈনিক ভাতা ও যাতায়াত ভাতাও পেয়ে থাকেন।

অন্যান্য সুবিধার মধ্যে রয়েছে বার্ষিক ৫ লাখ টাকার ঐচ্ছিক অনুদান তহবিল এবং বাসভবনে সরকারি টেলিফোন সংযোগ। টেলিফোন কল খরচ বাবদ মাসে ৭ হাজার ৮শ টাকা প্রদান করা হয়। উল্লেখ্য যে সংসদ সদস্যদের প্রাপ্ত সকল প্রকার ভাতা সম্পূর্ণ আয়করমুক্ত থাকে।

১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
এ জি