অধ্যক্ষ ড.মো.আলমগীর কবির পাটওয়ারী :
সাপ্তাহিক হাজীগঞ্জ পত্রিকায় তারা লেখা-লেখির কাজে পরিপূর্ণ মনোযোগ এবং আগ্রহের সাথে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে পত্রিকা প্রকাশ করে যাচ্ছে। তাদের উৎসাহকে মূল্যায়ন করে পূর্ণাঙ্গ প্রেসক্লাব প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়ে আলাপ-আলোচনাক্রমে রূপরেখা তৈরি করে যাচ্ছি। এরই মধ্যে সংযোজন-বিয়োজন হয়েছে। বিতর্কের উর্ধ্বে, ঝামেলা একং প্রাসঙ্গিক প্রতিবন্ধকতা দিয়ে কাজ করতে হয়। সমালোচনা, প্রতিবন্ধকতা ছাড়া কাজ করার কথা চিন্তাই করা যায় না। অনেক কষ্ট করে কাজ এগিয়ে নিতে হয়। এরই মধ্যে নানা আলোচনা, সমালোচনার মধ্য দিয়ে প্রেসক্লাবের পূর্ণাঙ্গ কমিটি সাজানোর চিন্তা করতে হচ্ছে। কমিটিসহ বিভিন্ন দিক আলোচনা পূর্বক নতুনভাবে অনেক সংযোজন,বিয়োজনের পর ১৩ সদস্যের সাংগঠনিক কমিটির সর্বাত্মক সহযোগীতায় ২১ সদস্য বিশিষ্ট হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ১৫ মে ১৯৯৬ ঘোষিত ও প্রকাশিত হয়। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের লক্ষ্যকে মাথায় নিয়ে আরও ৫ জন সদস্যেও অন্তর্ভুক্তির মধ্যে দিয়ে হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের জন্য ২৬ সদস্য বিশিষ্ট কার্যকরি কমিটি ঘোষণার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। প্রেসক্লাবের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এরই মধ্যে দু’বছর অতিবাহিত হওয়ার প্রাক্কালে দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন অপরিহার্য হয়ে পড়ে।
জেলা প্রশাসক মহোদয়কে প্রধান অতিথি করি। অত্যন্ত জাক-জমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে ২য় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী হিসেবে হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাব এর ‘কার্যকরি পরিষদ’ এর সদস্যগণের নাম ১৫ মে ১৯৯৮ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করি। অনুষ্ঠানটি স্টেশান রোডের প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি ভবনের দো’তলায় বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠান উদযাপিত হয়। যা আজও হৃদয় পটে স্মরণীয় হয়ে আছে। আমাদের মধ্যে সরকারি চাকুরিজীবী মাহবুবুল আলম চুন্নু ভাই। এ সম্পর্কে সরকারিভাবে বিধি নিষেধ ছিলো মর্মে আমার জানা ছিল না। উপজেলার সমাজ সেবা দপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা কমিটি ঘোষণার পরবর্তী সময়ে একদিন আলাপ চারিতার সময় আমাকে সতর্কতার সহিত বিষয়টি অবহিত করেন।
চুন্নু ভাইকে আমি বিষয়টি অবহিত করেছি। লিখিতভাবে আপত্তি আসলে তিনি তা দেখবেন বলে,আমার সহযোগিতা চাইলেন। অন্য কেউ বিষয়টি জানলে আমার জন্যই সমস্যা। যেহেতু প্রেসক্লাবের কমিটি আমি ঘোষণা করেছি। আমি প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বিতর্কিত হয়ে পড়বো এবং বিপাকে পড়বো। বিষয়টি নিরবে হজম করলাম, কাউকে বুঝতে দিলাম না। ঐ সময় মানুষ সাধারণ বিষয় নিয়ে এতোটা খোঁচা-খুঁচি করতো না। আজ এটাই সান্ত্বনা। ইতোপূর্বে প্রেসক্লাব গঠনে ৩ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি, ১৩ সদস্যের সাংগঠনিক কমিটি। অতঃপর ২১ এর পরিবর্তে ২৭ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রেসক্লাবের কার্যকরি কমিটি হিসেবে পর্যায়ক্রমে ঘোষিত হয়।
কার্যকরি পরিষদের সদস্যরা হলেন : ১. অধ্যক্ষ আলমগীর কবির পাটওয়ারী, সভাপতি, ২. আলী আশরাফ দুলাল- সহ-সভাপতি, ৩. ইকবালুজ্জামান ফারুক- সহ-সভাপতি, ৪. মাহবুবুল আলম চুন্নু- সাধারণ সম্পাদক, ৫. আমীর হোসেন মজুমদার- যুগ্ম-সম্পাদক, ৬. কাজী শহীদুজ্জামান ঝুটন- সাংগঠনিক সম্পাদক, ৭. ফারুক-ই-আজম- অর্থ সম্পাদক, ৮. জাকির মজমদার- দপ্তর সম্পাদক, ৯. জহিরুল ইসলাম লিটন- প্রচার সম্পাদক, ১০. খালেকুজ্জামান শামীম- সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক, ১১. হাবিবুর রহমান- সাংস্কৃতিক সম্পাদক, ১২. কবি সামছুল হক মোল্লা- কার্যকরি ও আজীবন সদস্য, ১৩. অধ্যাপক মাহমুদুল বাসার- কার্যকরি সদস্য, ১৪. মো. আবদুল হক- কার্যকরি সদস্য, ১৫. মো. আবদুল হক- কার্যকরি সদস্য ১৬. নুরুল ইসলাম বিএসসি- কার্যকরি সদস্য, ১৭. কাজী শাহাদাত- সদস্য, ১৮. প্রভাষক মো. সেলিম- সদস্য, ১৯. প্রভাষক বশির হোসেন চৌধুরী- সদস্য, ২০. যুগল কুষ্ণ হালদার- সদস্য, ২১. প্রভাষক ফাতেমা আক্তার- সদস্য, ২২. তপন কুমার পাল- সদস্য, ২৩. আবু ইউছুফ- সদস্য, ২৪. কাজী মোরশেদ আলম- সদস্য, ২৫. জসিম উদ্দিন- সদস্য, ২৬. আরিফ ইমাম মিন্টু- সদস্য, ২৭.গাজী সালাহউদ্দিন- সদস্য।
হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের স্বপ্নদ্রষ্টা, প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে আমি ৭ আগস্ট ১৯৯৪ এর প্রথম আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক। অত:পর সাংগঠনিক কমিটির সভাপতি। তারপর কার্যনির্বাহী কমিটিতে পূর্ণাঙ্গ কমিটির সভাপতি হিসেবে আমাকে প্রায় ১০ বছর একটানা দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে। এক পর্যায়ে আমার উপর উন্নয়নমুখী কার্যক্রমের চাপ বেড়ে গেলো। আমিও সময় দিতে পারছিলাম না। সভাপতির দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালাম। প্রেসক্লাবের কার্যক্রম এগিয়ে যাচ্ছে। প্রেসক্লাবের কার্যক্রম এগিয়ে যাচ্ছে। পরবর্তীতে একটা সময়ে প্রেসক্লাবের সদস্যগণের মাঝে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ বাড়তে থাকে। সময়ে সময়ে সদস্যগণের মাঝে ভুল বুঝাবুঝি চরম পর্যায়ে উঠে। সংকট যেন ঘনীভূত হতে থাকে।
১০ জানুয়ারি ২০০৫ সরকারি ব্যাংকে চাকরি সংক্রান্ত কারণ দেখিয়ে মাহবুবুল আলম চুন্নু ভাই আমার বরাবরে প্রেসক্লাবের দায়িত্ব হতে অব্যাহতি চেয়ে পদত্যাগপত্র পেশ করেন। ২৪ জুলাই ২০০৭ প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইকবালুজ্জামান ফারুক এবং সাধারণ সম্পাদক জাকির মজুমদার আমার বরাবর ক্লাবে বিদ্যমান সমস্যার আলোকে লিখিত আবেদন পেশ করেন। তাদের আবেদনের বিবেচনায় জরুরি ভিত্তিতে প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে ২৮ জুলাই ২০০৭ জরুরি সভা আহ্বান করি। উক্ত সভায় বিভিন্ন জনের বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। উত্থাপিত অভিযোগ সংক্রান্ত বিষয় এবং ব্যক্তিদের সম্পর্কে এখানে প্রকাশ হওয়া বাঞ্চনীয় নয় বলে মনে করি। সংকটাপন্ন অবস্থার বিবেচনায় প্রেসক্লাবের কার্যক্রম বেশ কিছু সময়ের জন্য স্থগিত করা হয়। প্রেসক্লাবের সংকটাপন্ন অবস্থার বিবেচনায় প্রেসক্লাবের সুনাম নষ্ট ও ক্ষতিকর ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ভাবে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এককভাবে ক্ষমতা প্রয়োগের জন্য প্রেসক্লাবের সদস্যগণ মিলে আমাকে পূর্ণ দায়িত্ব প্রদান করেন। সে সময় প্রেসক্লাবের যে সকল দায়িত্বশীলগণ সভায় উপস্থিত থেকে রেজুলেশানে স্বাক্ষর প্রদান করেন। স্বাক্ষরের ক্রমানুযায়ী তাঁরা হলেন : ১. ইকবালুজ্জামান ফারুক, ২. জাকির মজুমদার, ৩. গাজী সালাউদ্দিন, ৪. যুগল কৃষ্ণ হালদার, ৫. নূরে আলম পাটওয়ারী, ৬. মো. জসিম উদ্দিন, ৭. মাহবুব আলম আজাদ, ৮. হাবিবুর রহমান, ৯. কামরুজ্জামান টুটুল, ১০. এস এম মিরাজ মুন্সি, ১১. জহিরুল ইসলাম লিটন, ১২. মো. মনিরুজ্জামান বাবলু, ১৩. মো. কামাল হোসেন, ১৪. মো. বাহাদুর খান, ১৫. মুন্সি মোহাম্মদ মনির, ১৬. মহিউদ্দিন আল আজাদ, ১৭. আলী আশরাফ দুলাল, ১৮. খালেকুজ্জামান শামীম, ১৯. মো. এনায়েত হোসেন, ২০. তপন কুমার পাল, ২১. মো. সাখাওয়াত হোসেন, ২২. মো. হাছান মাহমুদ, ২৩. কাজী শাহাদাত, ২৪. এইচ. এম. আলমগীর, ২৫. মাহমুদুল বাসার।
তাদের সর্বসম্মতিতে গৃহিত সিদ্ধান্ত মোতাবেক নিরঙ্কুশ ক্ষমতা আমার থাকা সত্ত্বেও আমি কাউকে কখনো তার কৃতকর্মের জন্য লজ্জিত করি নি। চেষ্টা করেছি বুঝিয়ে-শুনিয়ে মেনেজ করার জন্য। বার বার সমস্যা দেখা দিয়েছে। আমার সর্ব সময় ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও এক বিন্দু ক্ষমতা প্রয়োগ করি নি। সমস্যা দেখা দিলে বুঝানোর চেষ্টা করেছি। না বুঝলে কি আর করতে পারি। বরং শত্রুতার বা অপপ্রচারের সম্মুখীন হয়েছি, সহ্য করেছি। প্রতিহিংসা পরায়ন অন্য ব্যক্তিরা ঐ সুযোগ কাজে লাগিয়েছে। এ কথা অক্ষরে অক্ষরে বুঝতে পেরেছি। কারো কারো অযাচিত হস্তক্ষেপ উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভূমিকায় প্রেসক্লাবের শৃঙ্খলাকে বার বার প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। আমি প্রতিষ্ঠাতা, আমাকে অনেক দূর ঠেলে দিয়েছে। আপত্তি ছিলো না, তারপারও তারা ভালো থাকুক। কিন্তু সামলাতে পারে নি।
অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা চরমে। পারস্পরিক বিরোধীতায় মামলার প্রেক্ষিতে প্রেসক্লাবকে আদালতের কাঠগড়ায়ও দাঁড়াতে হয়েছে। যা প্রেসক্লাবের মতো মর্যাদাশীল প্রতিষ্ঠানের জন্য শোভনীয় হয় নি। দূর থেকে দেখা ছাড়া কিছুই করার ছিল না। এখন বুঝলাম আমার উপর অর্পিত ক্ষমতা প্রয়োগ করলে হয়তো এতোটা হতো না। কিন্তু উন্নয়নমুখী কাজের কারণে আমি প্রেসক্লাবের বিষয়ে সময় দিতে পারি নি। ভেবেছিলাম ওরা পারবে। এ বিশ্বাস আমার ছিলো। তাই মনোযোগ দেই নি। দায়িত্ব পালনকালে বুঝলাম যত অভিজাত সংগঠনই হোক না কেন, কোন না কোন কারণে ভুল বুঝাবুঝি হতেই পারে। আমরা মানুষ। একই পরিবারের মা-বাবার ঔরষজাত সন্তান সকলে যেমন এক মন-মানসিকতার হয় না। একটি সংগঠন করতে গেলে মতের ভিন্নতা থাকবে, বহু জনের বহুমত, চিন্তা-চেতনা নিয়ে কাজের গতি প্রকৃতির ভিন্নতা থাকবে। এ সবকে একত্রিত করেই সংগঠন করতে হয়, চালাতে হয়। আমি দীর্ঘ সময় বিভিন্ন সংগঠন এবং প্রেসক্লাব চালাতে গিয়ে দেখেছি ভুল বুঝা-বুঝি হবেই, এটা স্বাভাবিক। তাছাড়া নিজের দিক থেকে ভুল করাও স্বাভাবিক। আমি মানুষ, ভুল-ত্রুটি আমার জীবনেরই অংশ। তারপরও আমার সহকর্মীবৃন্দের সর্বাত্মক সহযোগীতা, সম্মান এবং ভক্তি নিয়ে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছি। প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে যতটুকু ব্যর্থতা, তার সবটুকু আমার। সকল সফলতা অন্য সবার। সফলতা-ব্যর্থতার মধ্যে দিয়ে সকলের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। তুলনামূলকভাবে প্রেসক্লাবে মাত্র অল্প কয়েকজন সদস্য। তাই ক্লাবের কোন নির্বাচনে আমি ভোট দেইনি। ভেবেছি সবাইতো আমার। আমার এক ভোটের কারণে যদি কেউ পরাজিত হয়, তাহলে সে বা তার পক্ষ বা তাদের কাছে কিংবা বিবেকের কাছে আমি কি জবাব দেবো। পিতার দৃষ্টিতে সবাই যোগ্য, সবাই ভালো। পিতা পক্ষপাতিত্ব করতে পারে না। বিবেকের বিচারে আমি তা করি নি। আমি বিরত ছিলাম।
আমি ব্যতীত অন্য বা বাকি সদস্যগণ যাদেরকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে, আমি মনে করি ওরা আমার কর্তৃকই নির্বাচিত। যারা পাস করতে পারে নি ওদেরকে শান্তনা দিলে ওরা শান্তনা খুঁজে পাবে। যারা যেভাবে এসেছে তাদেরকে সেভাবে বুঝানোর চেষ্টা করেছি। হয়তো সফল হয়েছি, নয়তো হই নি। এতে আমার দুঃখ নেই। মনের দিক দিয়ে আমি পরিচ্ছন্ন ছিলাম। আমি কারো ক্ষতি করেছি এ কথা আমার প্রতিপক্ষ বা শত্রুও বলতে পারবে না। তারপরও আমি বার বার বিভিন্ন জনের প্ররোচনায় শত্রুতার সম্মুখীন হয়েছি। আমি বিশ্বাস করি, ‘শত্রু বানানোর জন্য কারো ক্ষতি করতি হয় না, আপনি ভালো কাজ করুন, আপনা আপনি শ্রত্রু তৈরি হয়ে যাবে’। তবে বিবেক বলে কথা, বিবেকবানদের কাছে শত্রুতা চিরস্থায়ী কিছু নয়। সময়ের পরিক্রমায় চরম শত্রুকেও শক্তিশালী মিত্র হতে দেখেছি। এমন নজির চারপাশে বহু আছে এবং এটাই বাস্তবতা, এটাই আমার সান্ত্বনা।
প্রেসক্লাবের যতোদিন সদস্য সংখ্যা কম থাকবে ততোদিন ভোটা ভোটি করে ভোট কেনা বেচা, সুনাম, দুর্নামে না জড়িয়ে সিলেকশান বা মনোনীত করে কমিটি গঠন করাই সম্মান বা সৌহার্দ্যপূণ্য অবস্থা ধরে রাখার স্বার্থে ভালো মনে করি। ছোট ছোট সংগঠনে ইলেকশান না হয়ে সিলেকশানই ভালো। যার ফলে সম্প্রীতি যতটা সম্ভব বজায় থাকে। শত্রুতা বা গ্রুপিং কমে যায়। নিজেদের মধ্যে কাদা ছোড়া ছুড়ি কম হয়। সে আলোকে ক্লাবের সংকটাপন্ন অবস্থার এক পর্যায়ে আমার আহ্বানে কাজী শাহাদাত ভাই হাজীগঞ্জ আসেন। ওনাকে সাথে নিয়ে হাজীগঞ্জ মডেল কলেজের শ্রেণি কক্ষে বসে আলোচনা করে উপস্থিত সদস্যগণের সর্বসম্মতিক্রমে বছরওয়ারী সভাপতি, সেক্রেটারি মনোনীত করে পর্যায়ক্রমিভাবে প্রেসক্লাবের কমিটি গঠন করা হয়।
উক্ত সিদ্ধান্ত মোতাবেক সিলেকশান কমিটির প্রথম দায়িত্ব পালন শুরু হয় জহিরুল ইসলাম লিটনকে- সভাপতি এবং হাছান মাহমুদকে- সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করার মধ্যে দিয়ে। সে থেকে ইলেকশানের পরিবর্তে বছরওয়ারী সিলেকশান কমিটির মধ্যে দিয়ে প্রেসক্লাবের সূচনা ঘটে। সমস্যার প্রতিকূলতায় মামলা মোকাদ্দমাসহ অনেক চড়াই-উৎরাই অতিক্রম করে হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের পরিসংখ্যান মোতাবেক দেখা যায়, হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবে ভোটে নির্বাচিত কমিটির চেয়ে মনোনীত কমিটি সবচেয়ে বেশি সময় ধরে প্রেসক্লাব সংক্রান্ত কার্যক্রম সুন্দরভাবে পরিচালনা করতে সক্ষম হয়েছে। প্রেসক্লাবের কমিটি গঠন ও মেয়াদান্তে দায়িত্ব হস্তান্তরের বিষয়ে সিলেকশান প্রক্রিয়া হয়ে উঠেছে শান্তিপূর্ণ কমিটি গঠন ও হস্তান্তর প্রক্রিয়া।
যার ধারাবাহিকতায় বর্তমানে ২০২৫-’২৬ প্রেসক্লাব বর্ষে কার্যকরি কমিটিতে দায়িত্ব পালন করছেন- ১. খালেকুজ্জামান শামীম- সভাপতি, ২. মো. সাইফুল ইসলাম- সহ-সভাপতি, ৩. মো. মেহেদী হাসান সর্দার- সহ- সভাপতি, ৪. মো. এনায়েত মজুমদার- সাধারণ সম্পাদক, ৫. পাপ্পু মাহমুদ- যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, ৬. গাজী নাছির উদ্দিন- যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, ৭. মঞ্জুর আলম- সাংগঠনিক সম্পাদক, ৮. মো. হাŸীব উল্যাহ- অর্থ সম্পাদক, ৯. মো.আলমগীর কবির- দপ্তর সম্পাদক, ১০. মো. হুমায়ুন কবির- প্রচার সম্পাদক, ১১. আবু বক্কর ছিদ্দিক সুমন- ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক, ১২. সুজন দাস- তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক, ১৩. মো. আরিফ ইমাম মিন্টু- কার্যকরি সদস্য, ১৪. মো. হাছান মাহমুদ- কার্যকরি সদস্য, ১৫. মহিউদ্দিন আল আজাদ- কার্যকরি সদস্য, ১৬. কামরুজ্জামান টুটুল- কার্যকরি সদস্য, ১৭. মো. সাখাওয়াত হাসেন- কার্যকরি সদস্য, ১৮. কাউছার আহম্মদ রিপন- কার্যকরি সদস্য, ১৯. কবির আহমেদ- কার্যকরি সদস্য, ২০. খন্দকার আরিফ- কার্যকরি সদস্য, ২১. সাখাওয়াত হোসেন শামীম- কার্যকরি সদস্য। অন্য সাধারণ সদস্যরা হলেন: অধ্যক্ষ ড.মো.আলমগীর কবির পাটওয়ারী, ইকবালুজ্জামান ফারুক, ফারুক-ই-আজম, কাজী শহীদুজ্জামান ঝুটন, মো. জাকির হোসেন মজুমদার, জহিরুল ইসলাম লিটন, মো. হাবিবুর রহমান, মো. আবু ইউছুফ, রোটা. কাজী শাহাদাত, অধ্যাপক মো. সেলিম, যুগল কৃষ্ণ হালদার, অধ্যাপক ফাতেমা আক্তার, তপন কুমার পাল, কাজী মোরশেদ আলম, মো. জসিম উদ্দিন বি.এস.সি, গাজী মো. সালাহউদ্দিন, মো.নূরে আলম পাটওয়ারী, মুন্সী মো. মনির, মো. কামাল হোসেন, মো. শাহ্জাহান মুন্সী, হাবিবুর রহমান জীবন,কাজী মো.হারুন অর রশিদ, শফিউল বাশার রুজমন, এস.এম. মিরাজ মুন্সী, ইমাম হোসেন হীরা, মো. আহসান হাবীব অরুন, মনিরুজ্জামান বাবলু, মো. আবুল কাশেম মুন্সী, মুনছুর আহমেদ বিপ্লব, এস.এম চিশ্তি, অমর দাস, জহিরুল ইসলাম জয়, শেখ তোফায়েল আহমেদ, মো. মহিন উদ্দিন, মো. রেজাউল করিম নয়ন, মো.জসিম উদ্দিন, মো. সাইফুল ইসলাম সিফাত।
প্রেসক্লাবের সহযোগী সদস্যরা হলেন : এম. আলী মুজিব, মো.জাহিদ হাসান, নজরুল ইসলাম জসিম, জহির হোসেন, হোসেন বেপারী, রিয়াজ শাওন, জাহাঙ্গীর হোসেন, মোশারফ হোসেন, মেহেদী হাছান রিমেল,নূর মোহাম্মদ, মোহাম্মদ উল্যাহ বুলবুল, মো. মাইনুদ্দিন। তাদের সুন্দর জীবন প্রত্যাশা করি। আমার চিন্তা ভাবনা, শ্রম, সাধনা, অর্থ-বিত্ত বিনিয়োগ করে সামাজিক কল্যাণে, বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন সংগঠন আমি প্রতিষ্ঠা করেছি। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ন্যায় আমি ‘সাপ্তাহিক হাজীগঞ্জ’ এবং ‘হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাব’ এর স্বপ্ন দ্রষ্টা, প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। আগামি দিনগুলোতে হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সম্মান, মর্যাদা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে। তা মর্যদার সাথে ধরে রাখলে আমার স্বপ্ন স্বার্থক হবে। আর এতেই আমার প্রশান্তি। আমাদের জীবন সীমিত সময়ের। সীমিত জীবনে আল্লাহর মেহেরবাণীতে যার যার অবস্থান এবং কাজ-কর্মের মধ্যে দিয়ে আমরা যেনো ভালো থাকি। এ প্রত্যাশায়- সকলের কাছে দোয়াপ্রার্থী। (শেষ পর্ব )
লেখক : ড.আলমগীর কবির পাটওয়ারী, প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ, হাজীগঞ্জ মডেল সরকারি কলেজ, হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর । ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। শেষ পর্ব ।
২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
এ জি
Chandpur Times | চাঁদপুর টাইমস Top Newspaper in Chandpur