সরকারের দু’মাসে ৬০ পদক্ষেপ

বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর গত দুই মাসে ৬০টি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ বাস্তবায়নের মাধ্যমে এক অবিস্মরণীয় অর্জন নিশ্চিত করেছে।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের ৬০টি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণের ভোটে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার গত দুই মাস পূর্ণ করেছে। বিগত দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের রক্তস্নাত অধ্যায় অতিক্রম করে গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার পথে জাতিকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় ও সাহসী নেতৃত্ব দিয়েছেন।

পদক্ষেপগুলো হলো:

১. ফ্যামিলি কার্ড: নারীর ক্ষমতায়নে ৩৭,৫৬৭ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান (মাসিক ২,৫০০ টাকা সহায়তা)।

২. কৃষক কার্ড: ১০ জেলায় ২২ হাজার কৃষকের মাঝে ১০টি সুবিধা ও নগদ অর্থায়ন সংবলিত কার্ড বিতরণ।

৩. ঋণ মওকুফ: ১২ লাখ ক্ষুদ্র কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ সুদসহ মওকুফ।

৪. সংসদীয় নজির: প্রথম অধিবেশনে ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিষ্পত্তি।

৫. জলাশয় খনন: ৫৪ জেলায় ২০,০০০ কিলোমিটার নদী-খাল খনন শুরু।

৬. জ্বালানি তেলের দাম: বৈশ্বিক সংকটেও ভর্তুকি দিয়ে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা।

৭. সৌর বিদ্যুৎ: জাতীয় গ্রিডে ৩৫ মেগাওয়াট যুক্ত হওয়া ও ১০ হাজার মেগাওয়াটের লক্ষ্যমাত্রা।

৮. ফুয়েল কার্ড: জ্বালানি সংগ্রহের জন্য পাইলট প্রজেক্ট চালু।

৯. দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ: রমজান ও পরবর্তী সময়ে খাদ্যপণ্যের সরবরাহ ও দাম স্থিতিশীল রাখা।

১০. ধর্মীয় সম্মানী: ৪, ৯০৮টি মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন, ৯৯০টি মন্দিরের পুরোহিত, ১৪৪টি বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ এবং ৩৯৬টি গির্জার যাজক ও পালককে মাসিক সম্মানীর আওতায় আনা।

১১. জাকাত আধুনিকায়ন: দারিদ্র্য বিমোচনে জাকাত ব্যবস্থার সংস্কার ও ঈদে উপহার বিতরণ।

১২. প্রবাসী কার্ড: প্রবাসীদের জন্য বিশেষ কার্ড চালুর উদ্যোগ।

১৩. হজ খরচ কমানো: টিকিট প্রতি ১২,০০০ টাকা হ্রাস ও ‘নুসুক হজ কার্ড’ প্রদান।

১৪. শূন্য পদ পূরণ: সরকারি অফিসের ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি পদ পূরণের কর্মপরিকল্পনা।

১৫. শিল্প কারখানা: বন্ধ চিনিকল, রেশম ও পাটশিল্প পুনরায় চালুর উদ্যোগ।

১৬. ইকোসিস্টেম তৈরি: ইকোনমিক জোন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ব্যবসায়িক সংযোগ।

১৭. ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতি: ২০৩৪ সালের মধ্যে অর্থনৈতিক রূপান্তরের লক্ষ্যমাত্রা।

১৮. জিডিপি প্রবৃদ্ধি: ২০৩০ সালের মধ্যে প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশে উন্নীত করার কৌশল।

১৯. বিদেশি বিনিয়োগ: ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ প্রত্যাবাসনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমতি মওকুফ।

২০. শ্রমিক অধিকার: ঈদুল ফিতরের আগে সব কারখানার বেতন-বোনাস নিশ্চিতকরণ।

২১. মালয়েশিয়া শ্রমবাজার: অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে পুনরায় বাজার উন্মুক্ত করা।

২২. বিকল্প শ্রমবাজার: ইউরোপের ৭টি দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির উদ্যোগ।

২৩. দক্ষ জনশক্তি: কারিগরি শিক্ষা ও ভাষা শিক্ষার মাধ্যমে বিদেশে জনশক্তি রপ্তানি।

২৪. অ্যাগ্রো হাব: উত্তরবঙ্গকে কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা।

২৫. পেমেন্ট গেটওয়ে: পে-পালসহ আন্তর্জাতিক গেটওয়ে বাংলাদেশে চালুর উদ্যোগ।

২৬. স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ: ১ লাখ নতুন কর্মী নিয়োগ (যার ৮০ শতাংশই নারী)।

২৭. ই-হেলথ কার্ড: ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা কার্ড ও হাসপাতালের নিরাপত্তা বৃদ্ধি।

২৮. ভর্তি ফি বাতিল: প্রতি বছর পুনরায় ভর্তি ফি নেওয়া বন্ধ ও বৃত্তির অর্থ দ্বিগুণ করা।

২৯. শিক্ষা ঋণ: উচ্চশিক্ষার জন্য ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জামানতবিহীন ব্যাংক গ্যারান্টি।

৩০. শিক্ষক নিয়োগ: ৯,০০০ ধর্মীয় শিক্ষকসহ শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগ।

৩১. ক্রীড়া শিক্ষক: উপজেলা পর্যায়ে ১৮ জন করে ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ ও খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করা।

৩২. নতুন কুঁড়ি: প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগিতার পুনরুত্থান ও সংসদে শিক্ষার্থীদের জন্য ১৫০ আস বরাদ্দ।

৩৩. বিনামূল্যে সামগ্রী: ২ লাখ শিশুর মাঝে স্কুল ড্রেস, জুতা ও ব্যাগ বিতরণ।

৩৪. মাদ্রাসা আধুনিকায়ন: স্মার্ট ক্লাসরুম স্থাপন ও কারিগরি কোর্স অন্তর্ভুক্তি।

৩৫. স্পোর্টস কার্ড: শতাধিক ক্রীড়াবিদকে ভাতা প্রদান শুরু।

৩৬. বনায়ন: ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি (চলতি বছর ১.৫ কোটি)।

৩৭. প্রধানমন্ত্রীর কৃচ্ছ্রসাধন: যমুনা ব্যবহার না করে নিজ বাড়ি, গাড়ি ও তেল খরচ বহন।

৩৮. প্রটোকল সংকোচন: ৯টায় অফিস ও বিমানবন্দরে ভিভিআইপি প্রটোকল সীমিতকরণ।

৩৯. অনলাইন ভূমি সেবা: ই-নামজারি বাধ্যতামূলক ও ডিজিটাল সার্ভের পাইলটিং।

৪০. পদ্মা ব্যারেজ: কৃষি অঞ্চল রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্প।

৪১. ভিআইপি সুবিধা ত্যাগ: এমপি-মন্ত্রীদের শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট না নেয়ার সিদ্ধান্ত।

৪২. পাটজাত পণ্য: সরকারি-বেসরকারি খাতে পাটের বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিতকরণ।

৪৩. পরিচ্ছন্নতা অভিযান: ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাপ্তাহিক জাতীয় কর্মসূচি।

৪৪. টিকাদান: দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা হামের টিকাদান কর্মসূচি পুনরায় চালু।

৪৫. আইনশৃঙ্খলা: চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা ও জনবান্ধব পুলিশ গঠন।

৪৬. পিংক বাস: নারীদের জন্য বিশেষায়িত নিরাপদ বাস সার্ভিস চালু।

৪৭. নদী রক্ষা আইন: দখল-দূষণে ৫ বছরের কারাদণ্ড ও ১৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান।

৪৮. বিদ্যুৎ সাশ্রয়: রাষ্ট্রীয় ইফতার সীমিতকরণ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে ১১ দফা নির্দেশনা।

৪৯. মেধাভিত্তিক নিয়োগ: এনটিআরসি-র মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষ নিয়োগ।

৫০. তেল শোধনাগার: ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা।

৫১. হকার পুনর্বাসন: ফুটপাত ব্যবসায়ীদের নির্দিষ্ট স্থানে পুনর্বাসনের উদ্যোগ।

৫২. বাকস্বাধীনতা: মুক্ত ও নিরাপদ মতপ্রকাশের পরিবেশ নিশ্চিতকরণ।

৫৩. বিমানবন্দর আধুনিকায়ন: শাহজালাল বিমানবন্দরের ৩য় টার্মিনাল দ্রুত চালুর উদ্যোগ।

৫৪. ফ্রি ইন্টারনেট: প্রধান বিমানবন্দরগুলোতে উন্নত ফ্রি ওয়াই-ফাই সেবা।

৫৫. ট্রেনে ইন্টারনেট: চলন্ত ট্রেনে এবং ১০ হাজারেরও বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াই-ফাই।

৫৬. অর্থনৈতিক কূটনীতি: দূতাবাসগুলোর মাধ্যমে বিনিয়োগ ও জনশক্তি রপ্তানিতে অগ্রাধিকার।

৫৭. দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক: সীমান্ত হত্যা বন্ধ ও পানি বণ্টন নিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা।

৫৮. পাচারকৃত অর্থ: বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ ফেরাতে ১০ দেশের সঙ্গে আইনি সহায়তা জোরদার।

৫৯. উপকূলীয় সুরক্ষা: নদীভাঙন রোধ ও জলবায়ু মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।

৬০. মানবাধিকার: গুম ও খুনের বিচার নিশ্চিত করে মানবাধিকার রক্ষা।

মাহদী আমিন আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষের আস্থা ফিরিয়ে এনেছেন এবং ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কাজ করছেন।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ, প্রধানমন্ত্রীর স্ক্রিপ্ট রাইটার মাহফুজুর রহমান, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম রনি, হাসান শিপলু, সুজাউদ্দৌল্লা সুজনসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উইংয়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।