ইমাম-মুয়াজ্জিন-পুরোহিতরা প্রতি মাসে সম্মানী পাবেন
নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগেই পরীক্ষামূলকভাবে দেশের ৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খতিবদের মাসিক সম্মানী নির্ধারণ করেছে নতুন সরকার। একই সঙ্গে ৯৯০টি মন্দির, ১৪৪টি বৌদ্ধবিহার এবং ৩৯৬টি গির্জার পুরোহিত,বিহারের অধ্যক্ষ,যাজকসহ উপাসনালয়ের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদেরও এ সম্মানী দেয়া হবে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী,এবার পরীক্ষামূলকভাবে কার্যক্রম শুরু হলেও আগামী চার অর্থবছরে ধাপে ধাপে সারা দেশের সব মসজিদ ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের এই সম্মানীর আওতায় আনা হবে।
৮ মার্চ সচিবালয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এক সভা শেষে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা মো.ইসমাইল জবিউল্লাহ।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ,পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ সাকিসহ কয়েকজন সচিব। মো.ইসমাইল জবিউল্লাহ জানান, মাসিক সম্মানীর পাশাপাশি ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে বিশেষ ভাতাও দেওয়া হবে। পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এক হাজার টাকা করে উৎসব ভাতা দেয়া হবে। অন্যদিকে দুর্গাপূজা,বুদ্ধপূর্ণিমা ও বড়দিন উপলক্ষে দু’হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে।
চলতি অর্থবছরে এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রায় ২৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা প্রয়োজন হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘১৫ মার্চের মধ্যে সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে উপকারভোগী ব্যক্তিদের কাছে সম্মানীর টাকা পৌঁছে দেওয়া হবে।’ ১৪ মার্চ রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন বলেও জানান তিনি।
তিনি জানান, দেশের সব মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধবিহার বা প্যাগোডা এবং গির্জাকে অন্তর্ভুক্ত করে পুরো কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হলে বার্ষিক ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী,ইমামরা মাসে পাঁচ হাজার টাকা, মুয়াজ্জিনরা তিন হাজার টাকা এবং খাদেমরা দু হাজার টাকা করে সম্মানী পাবেন।
এছাড়া মন্দিরের পুরোহিতরা পাবেন পাঁচ হাজার টাকা,সেবায়েত তিন হাজার টাকা,বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ পাঁচ হাজার ও উপাধ্যক্ষ তিন হাজার টাকা এবং গির্জার যাজকেরা পাঁচ হাজার ও সহকারী যাজকেরা তিন হাজার টাকা করে মাসিক সম্মানী পাবেন।
৯ মার্চ ২০২৬
এ জি