শীর্ষ সংবাদ

সবাই চাইলে সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব : শাহরাস্তিতে জেলা প্রশাসক

আমরা নির্বাচন সুষ্ঠু করতে শতভাগ চেষ্টা করছি, আপনারা সবাই সুষ্ঠু নির্বাচন চাইলে সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব। আপনারা শাহরাস্তির ঐতিহ্য নষ্ট করবেন না। আমরা সরকারের কর্মচারী, আমরা আপনাদের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছি। এ এলাকার প্রার্থীরা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পক্ষে, আমরা আপনাদের চাওয়াকে গুরুত্ব দিচ্ছি। প্রশাসনকে সহযোগিতা করুন, আমরা আপানাদের পাশে রয়েছি। আমাদেরকে সহযোগিতা করুন।

মঙ্গলবার বেলা ১২টায় শাহরাস্তি উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত নির্বাচনী আচরণ বিধি অবহিতকরণ ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুস সবুর মন্ডল উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার বলেন, কাউকে জিতানোর জন্য পুলিশ নীতি নৈতিকতার বিসর্জন দিবে না। নির্বাচনে প্রভাব বলে কিছু নেই। আমরা কোন মার্কা চিনি না। আমাদের সহযোগিতা করেন, না হয় পুলিশ কাকে বলে চিনে নিবেন। পুলিশের অস্ত্র-গুলি বিশৃঙ্খলাকারীদের সোহাগ করার জন্য নয়। নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা করলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন প্রার্থী তাদের অভিযোগ আপত্তি তুলে বক্তব্য রাখেন।

চিতোষী পূর্ব ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী একরাম হোসেন ভূঁইয়া অভিযোগ তুলে বলেন, নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আমাকে তুলে নিয়ে যাবেন এবং আমাকে থাকতে দিবে না বলে হুমকি দিচ্ছেন। আমার অনুরোধ আমি আমার ভোটটা যেন সুন্দও ভাবে দিতে পারি।
ইঞ্জিঃ আলম বেলাল অভিযোগ তুলে বলেন, আমাদের এলাকার ভোটারদের প্রশ্ন আমরা নাকি ভোট দিতে পারবো কিন্তু ফলাফল পাবো না। এসব কথা শুনলে জনগণ ভোট দিতে আসবে বলে আমার মনে হয় না।

নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আবু ইউসুফ পাটোয়ারী বলেন, জনগণের ভোট জনগণ দিবে জোর করে ক্ষমতায় আসতে চাই না। আমি সরকারের আচরণ বিধিমালা মেনে চলবো।

চিতোষী পশ্চিম ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী শামছুল হক মিয়াজী বলেন, আমরা কি ভোট কেন্দ্রে যেতে পারবো, আমরা কি ভোট দিতে পারবো? আমার প্রতি হুমকি দেয়া হচ্ছে। মামলা করা হবে ও ধরে নিয়ে যাওয়া হবে বলে প্রচার করা হচ্ছে।

চিতোষী পূর্ব ইউনিয়নের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আলী হোসেন বলেন, আমরা এলাকায় বলা হচ্ছে ভোট গ্রহণ না কি সকাল ১০টার মধ্যে শেষ হয়ে যাবে।

সূচীপাড়া উত্তরের হাবিবুর রহমান পাটোয়ারী সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের দাবী করেন। একই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মিজানুর রহমান বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধে আমরা এমন ভয় পাই নাই, নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে জনগন যে ভয় পাচ্ছে। পুরো নির্বাচনে নৌকা মার্কার প্রার্থীরা পরিবেশ ঘোলাটে করছে।

আবু ইউসুফ বাবুল বলেন, নৌকা প্রতীক প্রার্থীর কর্মীরা হুমকী ধমকী দিয়ে আসছেন। ৭ তারিখ শুধু ফুলের মালা দেওয়া বাকি তিনি নির্বাচিত হয়ে গেছেন। তিনি আচরণ বিধি ভঙ্গ করে আসছেন। কোন ব্যক্তি বা প্রশাসনের হস্তক্ষেপের কারনে নির্বাচন যেন প্রশ্নবিদ্ধ না হয়। আমি ফলাফল মেনে নিবো তবে সুষ্ঠু নির্বাচন আশা করছি।

রায়শ্রী দক্ষিণের আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আবদুল মমিন বলেন, আমি ভোটের দিন কালিমা পড়ে নির্বাচনে নামবো। আমি ৯টি কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ মনে করি। আমার প্রশ্ন নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু হবে কি না?

একই ইউনিয়নের বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আবু হানিফ বলেন, জনগণ আশংকা প্রকাশ করছে তারা সুষ্ঠুভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে কি না?

সূচীপাড়া দক্ষিণের বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ডাঃ আবদুর রশিদ বলেন, বর্তমান চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রাথীর ভোট কেন্দ্র দখল হবে। আমি ৮ ও ৯ ওয়ার্ডে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। গত নির্বাচনে ওই কেন্দ্রে মৃত ও প্রবাসীদের ভোট গ্রহণ হয়ে গেছে। আমি মামলা করায় ধীর গতি দেখে মামলা তুলে নিয়েছি। এবারও একই রকম আশংকা করছি।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ আতাউর রহমান, নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সৈকত ইসলাম, শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সামিউল মাসুদ, সহকারী কমিশনার (ভুমি) মোছাঃ জেসমিন আকতার বানু, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (হাজীগঞ্জ সার্কেল) মোঃ আবু হানিফ, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নিশাদ পারভীন, শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মিজানুর রহমান, অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মোঃ দিলদার আজাদ।

মো. মাহবুব আলম, শাহরাস্তি করেসপন্ডেন্ট [/author] : আপডেট ২:২০ এএম, ০৪ মে ২০১৬, বুধবার
ডিএইচ

Share