সকলের সহযোগিতায় আধুনিক উন্নত চাঁদপুর গড়তে পারব: নবাগত ডিসি

 চাঁদপুরের নবাগত জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আহমেদ জিয়াউর রহমান এঁর সাথে জেলার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের সাথে পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (৫ এপ্রিল) বিকাল ৪টায় জেলা প্রশাসক সস্মেলন কক্ষে এই সভার আয়োজন করা হয়। সভায় জেলা সম্পর্কে সাংবাদিকদের বিভিন্ন তথ্য উপস্থাপন শেষে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক নবাগত জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আহমেদ জিয়াউর রহমান।

তিনি বলেন, গত দুদিন ঘুরে দেখলাম এই চাঁদপুর শহর অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে। বিদ্যালয়গুলোর সামনে খেলা-ধুলার মাঠ নেই। এটি খুবই দু:খজনক। আলাপ করে দেখলাম স্বাস্থ্য সচেতনতার জন্য হাঁটার জায়গাও নেই। যদি আমার মন খারাপ হয়েছে, তবে সবাই মিলে একসাথে কাজ করলে যে ক’দিন থাকি এই অবস্থাকে উন্নত করতে পারবো।

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনাদের দায়িত্ব সম্পর্কে আপনারা ভালোভাবে জানেন। তারপরেও বলছি-আপনাদের দায়িত্ব হচ্ছে নিরপেক্ষতা, জবাবদিহিতা ও ক্ষমতাকে প্রশ্ন করা। ক্ষমতাকে প্রশ্ন করা আপনার কাছে প্রধান হতে পারে, যদি আপনি প্রথম দুটি ঠিক রাখতে পারেন, তাহলে আমাদের কাছে প্রশ্ন করার পুরো নিশ্চয়তা ও সহযোগিতা পাবেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, প্রশাসনকে ঢেলে সাজানোর জন্য আপনারা আমাকে পরামর্শ দিতে এবং সমস্যা তুলে ধরতে পারেন। অন্য কিছু নয়। আমি দেখবো কাকে কোথায় দায়িত্ব দেয়া যায়। তবে আপনাদের পরামর্শগুলো আমি গ্রহণ করার চেষ্টা করবো। সকলের সহযোগিতায় একটি আধুনিক উন্নত চাঁদপুর গড়তে পারব।

আমেরিকা-ইসরাইয়েল ও ইরান যুদ্ধে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট নিয়ে ডিসি বলেন, যুদ্ধের কারণে বিশেষ পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে। গত বছর এ সময়ে এত জ্বালানী প্রয়োজন হয়নি। আমার ধারণা অনেকে সামনে সংকট হবে এমন ভেবে জ্বালানি জমিয়ে রাখছেন। যে কারণে এই সমস্যা তৈরি হচ্ছে। কারণ এই মন্ত্রণালয়ে আমার কাজ করা এবং অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ হয়েছে। তবে জ্বালানি তেল মজুদদারির বিরুদ্ধে খুব দ্রুতই অভিযানে যাবো।

ডিসি বলেন, জাটকা সংরক্ষণের বিষয়ে অনেকেই তথ্য তুলে ধরেছেন। অভিযানের দ্বিতীয় মাস চলছে। এটি নিয়ে কাজ করবো। এছাড়াও সামনে এসএসসি পরীক্ষা, সেখানে পূর্বের সফলতার কথা জেনেছি। সেটি বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করবো। শিক্ষামন্ত্রী আমাদের চাঁদপুরের। তিনি নকল প্রতিরোধে সফল হয়েছিলেন। আমরা চেষ্টা করবো শতভাগ নকলমুক্ত রেখে এবং জিরো ট্রলারেন্স নীতিতে চাঁদপুরে সেই সফলতা ধরে রাখতে।

জিয়াউর রহমান বলেন, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে যেসব সভা ও মিটিং হয়, সবগুলোতে আপনাদের আমন্ত্রণ জানানোর সুযোগ নেই। মূলত যারা সদস্য তারাই থাকবেন। বিশেষ ক্ষেত্রে উপস্থিত থাকতে পারেন। তবে আমাদের সভা শেষে সভার আলোচনা ও সিদ্ধন্তগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরা যেতে পারে। যাতে আপনারা সংবাদ হিসেবে উপস্থাপন করতে পারেন। জেলা পর্যায়ের অনেক কর্মকর্তা আপনাদের মেহমান। সে হিসেবে আমাদের কাজ করার এবং সংশোধন হওয়ার সুযোগ দিতে হবে।

তিনি বলেন, কোন ঘটনা ঘটলে টেলিভিশন স্ক্রলে দেয়ার আগা আমাদের জানাবেন এটা আপনাদের কাছে অনুরোধ। আপনারা নিউজে দিবেন তবে আমাদেরকে জানাবেন যাতে ব্যবস্থা নিতে পারি। সারাজীবন সততার সাথে কাজ করেছি। সারাজীবন কাজ করে এসময় এসে সততা লুন্ঠিত হবে তা আমি অবশ্যই চাইবো না। 

চাঁদপুরে কাজ করার আগ্রহের বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, এখানকার পানি, বায়ু, ইটভাটা নিয়ে। যদি ইটভাটার ক্ষতিকর দিক থাকে সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়। নোংড়া পরিবেশের বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে আমার কাজ করার আগ্রহ আছে। এছাড়াও শিল্প-সাহিত্য, ধর্মীয় চর্চা ও ক্রীড়াকে এগিয়ে নিতে কাজ করবো। আশা করি সুন্দর একটি চাঁদপুর গড়ে তুলতে আমরা অব্যশই মাদক, ইভটিজিং, কিশোর গ্যাং ও বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে একসঙ্গে কাজ করবো।

মতবিনিময় শুরু করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. এরশাদ উদ্দিন। সাংবাদিকদের পরিচিতি পর্ব শেষে নবাগত জেলা প্রশাসকের ব্যাক্তিগত পরিচিতি স্লাইডের মাধ্যমে উপস্থাপন করেন সহকারী কমিশনার তানভীর রাব্বী।

এরপর সভার সঞ্চালনায় ছিলেন চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী। 

সূচনা বক্তব্যে চাঁদপুর প্রেসক্লাব সভাপতি সোহেল রুশদী বলেন,ঐতিহ্যবাহী  চাঁদপুর প্রেস ক্লাব ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। বর্তমানে প্রেসক্লাবের গঠনতন্ত্র খুবই শক্তিশালী। চাঁদপুর প্রেসক্লাব সারাদেশের জন্য মডেল। চাঁদপুর প্রেসক্লাব সাংবাদিকদের কল্যাণে, মানবতার কল্যাণে ও সৃজনশীলভাবে কাজ করছে। চাঁদপুরের সাংবাদিকরা জনপ্রশাসন বান্ধব। সাংবাদিকরা জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ সহ সকলের সাথে পেশাদারিত্ব বজায় রেখে কাজ করে।   চাঁদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও চাঁদপুর-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য ফরিদ আহমেদ মানিক মহোদয় চাঁদপুরের উন্নয়নে অনেক  পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন।এক্ষত্রে আশা করছি প্রশাসনও সহযোগিতা করবে। চাঁদপুর প্রেসক্লাব পাশে রয়েছে।

তিনি বলেন, সাংবদপত্র ও সাংবাদিকতা হচ্ছে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। সাংবাদিকতা পেশা কে সম্মানজনক পেশা হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের গুরুত্ব দেন।  এবারের পবিত্র ঈদুল ফিতরের সাংবাদিকদের ফোন করেছেন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে হবে,সম্মান দিতে হবে । আমরা পেশা দারিত্বের সাথে সাংবাদিকতা করি। চাঁদপুরের সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করছে। 

উন্মোক্ত আলোচনায় সাংবাদিকদের মধ্যে বক্তব্য দেন চাঁদপুর সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট ইকবাল বিন বাশার, ইকবাল হোসেন পাটওয়ারী, শরীফ চৌধুরী, গিয়াস উদ্দিন মিলন, শাহাদাত হোসেন শান্ত, রহিম বাদশা, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক এম এ লতিফ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিএম শাহীন, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আউয়াল রুবেল,যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক মোশারফ  হোসেন লিটন সিনিয়র সাংবাদিক মুনির চৌধুরী,প্রথম আলোর জেলা প্রতিনিধি  আলম পলাশ,সময় টিভির স্টাফ রিপোর্টার  ফারুক আহম্মদ,দৈনিক চাঁদপুর সংবাদের সম্পাদক আবদুর রহমান ।

আরো বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি ও ক্রীড়া সংবাদিক অ্যাডভোকেট চৌধুরী ইয়াছিন ইকরাম, টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক তালহা জুবায়ের, প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ কেএম সালাহউদ্দিন, সাংবাদিক শরীফুল ইসলাম, সাংবাদিক ইলিয়াছ পাটোয়ারী ও মাওলানা সাইফুল্লাহ।

সাংবাদিকরা উন্মুক্ত আলোচনায় চাঁদপুরের চলমান উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন, জাটকা সংরক্ষণ, বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজের কাজ বাস্তবায়নে অগ্রগতি, লঞ্চঘাট ও শহর রক্ষা বাঁধের কাজের তদাররিক বৃদ্ধি করা, নকল প্রতিরোধ করা, উদয়ন শিশু বিদ্যালয় বিষয়ে অবহিত করা, বৈষম্যমুক্ত জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা, ওএমএস এর তদারকি বৃদ্ধি করা, সাংবাদিকদের বক্তব্য প্রদান করতে অকৃপণ না হওয়া, ক্লিনিকাল বর্জ্য অপসারণ ব্যবস্থা, জেলা ক্রীড়া সংস্থার বিষয়ে অবগত হয়ে খেলাধুলা চালু রাখা, বালু উত্তোলন বন্ধে ভুমিকা নেয়া, ভিক্ষুকমুক্ত জেলা হিসেবে গড়তে পূর্বে পরিকল্পনা রিভিউ করা, সঠিক সময়ে গাছ লাগানোর বিষয়ে নির্দেশনা, ইলিশের সেলফি স্ট্যান্ড আরো সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি করা, খোলা জায়গায় যাতে জ¦ালানি বিক্রি না হয়, গণমাধ্যমে জ¦ালানি দিতে বলে দেয়া, চাঁদপুর মাদকের ট্রানজিট এই বিষয়ে সতর্ক হওয়া, ক্ষতিকর ট্রাক্টরের বিষয়ে জরুরি প্রদক্ষেপ, ইউনিয়ন পরিষদে সাধারণ মানুষ সেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করা, চাঁদপুরের ঐতিহ্য ইলিশ রক্ষা, বিভিন্ন পদক্ষেপ, ইলিশ নিয়ে প্রতারণা ইত্যাদি বিষয়ে বিগত দিনের পরিকল্পনা ও কর্মসূচি অব্যাহত রাখা, চাঁদপুরে আগত পর্যটকদের জন্য সু-ব্যবস্থা করা, বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তোলা, লেকগুলো পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখা, ওয়ানমিনিট থেকে প্রেস ক্লাব পর্যন্ত সড়ক সংস্কার করা, যানজট নিরসনে বায়তুল আমিন চত্বরে অটোরিকশার স্ট্যান্ড তুলে দেয়া, চাঁদপুরের নদীতে ইলিশ না থাকার কারণ উদঘাটনে গবেষণা বৃদ্ধির বিষয়ে তুলে ধরেন।

চাঁদপুর প্রেসক্লাব সভাপতি সোহেল রুশদী জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আরো বলেন, চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক চাঁদপুরের উন্নয়নে অনেকগুলো পরিকল্পনা নিয়েছেন। কিছু পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ শুরু হবে। এসব কাজ বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন কাজ করবে এবং প্রেস ক্লাব পাশে থাকবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক/
৫ এপ্রিল ২০২৬