সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেন এম এ হান্নান
যতক্ষণ পর্যন্ত দল আমাকে গ্রহন না করবে ততক্ষণ পর্যন্ত শপথ গ্রহণ করবো না। এ ঘোষণা থেকে সরে গিয়ে শপথ গ্রহণ করছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনী আসনের ২৬৩ নং চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসন থেকে স্বতন্ত্র জয়ী প্রার্থী মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এম এ হান্নান জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের শপথ কক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন নবনির্বাচিত অন্যান্য সংসদ সদস্যদের সঙ্গে তাকে শপথবাক্য পাঠ করান এবং শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন।
এর আগে একই দিনে সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে প্রথম ধাপে তারেক রহমান-সহ বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেন। পরে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে জামায়াতে ইসলামীর এবং দুপুর ১টায় এনসিপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-৪ আসনে ‘চিংড়ি’ প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এম এ হান্নান পেয়েছেন ৭৪ হাজার ১৭৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী লায়ন মো. হারুনুর রশিদ ধানের শীষ প্রতীকে
পেয়েছেন ৬৯ হাজার ১৫৫ ভোট। এছাড়া ১১ দলীয় জোটের ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা বিল্লাল হোসেন মিয়াজী পেয়েছেন ৬৬ হাজার ৬৯২ ভোট। প্রায় পাঁচ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন এম এ হান্নান।
শপথ না নেওয়ার ঘোষণা থেকে সরে আসা নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় উপজেলা বিএনপির আহ্বায়কসহ দলীয় সব পদ থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়। নির্বাচনে জয়লাভের পর ১২ ফেব্রুয়ারি শনিবার ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি ঘোষণা দেন তার প্রিয় রাজনৈতিক দল বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে গ্রহণ না করা পর্যন্ত সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন না।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ছাত্রজীবন থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে রাজনীতি করে আসছেন এবং দলীয় আদর্শের প্রতি তার অঙ্গীকার অটুট থাকবে।
তবে গতকাল সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি পূর্বের ঘোষণা থেকে সরে এসে লেখেন, “আলহামদুলিল্লাহ, আপনাদের অগাধ ভালোবাসা, বিশ্বাস ও দোয়া নিয়ে আজ সকাল ১০টায় আমি আপনাদের দেওয়া পবিত্র আমানত বুকে ধারণ করে জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করতে যাচ্ছি, ইনশাআল্লাহ।”
এর আগেও এম এ হান্নান বিএনপির মনোনয়নে ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে চাঁদপুর-৪ আসনে প্রার্থী হয়েছিলেন। তবে ঋণখেলাপি সংক্রান্ত আইনি জটিলতায় দুইবার তার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। তিনি বরাবরই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হারুনুর রশিদকে মিথ্যা অভিযোগের মাধ্যমে তার মনোনয়ন বাতিলের জন্য দায়ী করে আসছেন।
প্রায় তিন দশক ধরে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এম এ হান্নান ফরিদগঞ্জে একজন পরিচিত ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। ধানের শীষের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে জয়লাভ করে তিনি রাজনৈতিকভাবে নতুন বার্তা দিয়েছেন বলে মনে করছেন স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা।
উল্লেখ্য, এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট সাতটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন। জানা গেছে, তাদের অধিকাংশই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। ২৯৯টি আসনের মধ্যে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ২১২টি, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ৭৭টি এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি আসনে জয় পেয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চাঁদপুর-৪ আসনে এম এ হান্নানের এই বিজয় স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।
এখন দেখার বিষয়-দলীয় অবস্থান ও জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপটে তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল কী দাঁড়ায়।
প্রতিবেদক: শিমুল হাছান,
১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬