দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল যেন পুরো মৌসুমের সবচেয়ে দীর্ঘ ঠান্ডার বৃত্তে আটকে গেছে। শনিবারও ১৯ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেছে। রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৬ জেলা এবং যশোর,চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া– এই তিনটিতেও মৃদু শৈত্যপ্রবাহ ছিল। আবহাওয়া অফিস বলছে,সামান্য ওঠানামা থাকলেও শৈত্যপ্রবাহ পুরোপুরি কাটছে না।
গতকাল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে দু’ জায়গায়– পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া ও চুয়াডাঙ্গায় ৮ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগের দিনের তুলনায় তাপমাত্রা সামান্য বেড়েছে, কিন্তু শীত কমেনি। শুক্রবার পর্যন্ত মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ ছিল,গতকাল সেটি পরিণত হয়েছে মৃদুতে।
পেছনের কয়েক দিনের হিসাব বলছে, শীতের তীব্রতা এক দিন বাড়ছে,পরের দিন কিছুটা কমছে, আবার পরদিন নেমে যাচ্ছে আগের অবস্থায়। বৃহস্পতিবার ২৪ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ বইছিল,শুক্রবার তা কমে ২০ জেলায় দাঁড়ায়। আর গতকাল ছিল ১৯ জেলায়। তবে এর মধ্যেই নওগাঁর বদলগাছীতে তাপমাত্রা নেমেছিল ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা এখনও পর্যন্ত সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবীর বলেন, আজ রোববার থেকে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও শৈত্যপ্রবাহ পুরোপুরি কাটবে না। আগামীকাল সোমবার থেকে আবার কমতে পারে তাপমাত্রা। স্থায়ীভাবে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করতে পারে ২০ জানুয়ারির পর।
তেঁতুলিয়া-চুয়াডাঙ্গায় পরপর দুই দিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হওয়া নিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উত্তর দিক থেকে নামা শুষ্ক ও ঠান্ডা বায়ুর প্রবাহ এখনও অটুট। ফলে অনুভূত তাপমাত্রা অনেকটাই নিচে।
তেঁতুলিয়ায় ঘন কুয়াশা গতকাল কিছুটা কমলেও ঠান্ডা বাতাসে জমে আছে চারদিক। ভোরে রাস্তা ফাঁকা, রিকশা-ভ্যানচালকরা কাজে নামতে পারছেন দেরিতে। কৃষিকাজও ব্যাহত হচ্ছে। বয়স্ক মানুষ, শিশু এবং দরিদ্র পরিবারের জন্য পরিস্থিতি সবচেয়ে কঠিন। অনেক এলাকায় শীতবস্ত্রের অভাব রয়েছে। সরকারি সাহায্য মিললেও তা পর্যাপ্ত নয় বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।
১১ জানুয়ারি ২০২৬
এ জি
Chandpur Times | চাঁদপুর টাইমস Top Newspaper in Chandpur