শাহরাস্তিতে পছন্দের ঠিকাদারদের উপস্থিতিতে লটারি করার অভিযোগ!

চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় দুর্যোগ ব্যবস্থপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে হেরিং বোন বন্ত (এইচবিবি) করণ (দ্বিতীয় পর্যায়) সংশোধন প্রকল্পের দরপত্র অংশগ্রহনকারী সকল ঠিকাদারকে নির্ধারিত তারিখ না জানিয়ে পছন্দের ঠিকাদার উপস্থিত রেখে লটারির কার্যক্রম সম্পন্ন করার অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (১৫ নভেম্বর) রাতে আহবানকৃত দরপত্রে অংশগ্রহনকারী ২৮ জন ঠিকাদার স্বাক্ষরিত অভিযোগের কপি গণমাধ্যমের হাতে আসে।

অভিযোগ থেকে জানাগেছে, প্রকল্প পরিচালকের কার্যালয় দুর্যোগ ব্যবস্থা অধিদপ্তরের অধীনে গত ২০ সেপ্টেম্বর হেরিং বোন বন্ত (এইচবিবি) করণ (২য় পর্যায়) দ্বিতীয় সংশোধন প্রকল্পের দপরত্র প্রকাশিত হয়। সেই দরপত্রের অধীনে চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলার একটি প্যাকেজ এর বিপরীতে ১৭১টি সিডিউল বিক্রি হয়। গত ৩০ অক্টোবর ওই দরপত্র খোলা হয়। কিন্তু অধিকাংশ ঠিকাদার বিভিন্ন মাধ্যমে লটারির তারিখ জানার চেষ্টা করলেও নির্দিষ্ট কোন তারিখ শাহরাস্তি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অফিস থেকে জানা যায়নি।

যার ফলে বুধবার (১৫ নভেম্বর) আনুমানিক দুপুর ১২টার দিকে অধিকাংশ ঠিকাদারকে না জানিয়ে নিজস্ব পছন্দের ঠিকাদার নির্ধারিত হয় এবং যারা উপস্থিত ছিলেন না এমন প্রতিষ্ঠানের নাম ও স্বাক্ষর করিয়ে অবৈধ লটারির কাজটি বৈধ করার চেষ্টা করেন। প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অফিস বলছে লটারির সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু ঠিকাদারদের মধ্যে অনেকেই ইউএনও এর সাথে যোগাযোগ করে জানতে পারেন তিনি লটারির সময় উপস্থিত ছিলেন না।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স সরওয়ার এন্টারপ্রাইজের সত্ত্বাধিকারী সরোয়ার গাজী জানান, আমরা সকল ঠিকাদারগণ এই অবৈধ নিজস্ব পছন্দের ঠিকাদার নির্ধারিত হবার নেপথ্যে যারা জড়িত তাদের যথাযোগ্য তদন্ত এবং পুনরায় ঠিকাদারদের উপস্থিতিতে লটারি করার দাবী জানাচ্ছি। আমরা এই বিষয়ে বৃহস্পতিবার (১৬ নভেম্বর) জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ প্রদান করবো।

এই বিষয়ে শাহরাস্তি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. খায়রুল আলম জানান, লটারি নিয়ম মত হয়েছে। ২৯জন ঠিকাদার উপস্থিত ছিলেন। যারা উপস্থিত ছিলেন না, তারা যদি এই বিষয়ে আপত্তি করেন, তাহলে পুনরায় লটারি করা হবে। আমাদের অফিস থেকে অংশগ্রহনকারী ১৭১জন ঠিকাদারকেই ফোন করে সময় জানানো হবে।

শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএওন) মোহাম্মদ হুমায়ন রশিদ জানান, আমার কাছে আজকে দুপুরে শাহরাস্তির প্রায় ১৫জনের মত ঠিকাদার এসেছেন। আমি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করেছি লটারি যেভাবে হয়েছে কোন প্রশ্ন থাকবে নাতো। তারা বলেছে কোন সমস্যা নেই। পরে বিকেলে আমাকে বেশ কয়েকজন ঠিকাদার ফোন করে লটারির বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে। আমি তাদেরকে বলেছি, আপনারা অভিযোগ দেন। তাহলে বিষয়টি তদন্ত হওয়ার পর ব্যবস্থা গ্রহণ হবে।

প্রতিবেদক: মাজহারুল ইসলাম অনিক, ১৫ নভেম্বর ২০২৩

Share