চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার দিগধাইর পশ্চিম এলাকায় প্রায় ১শ ৫০ থেকে ১শ ৬০ একর কৃষিজমির পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
পুরোনো কালভার্টের মুখ মাটি ভরাট করে বন্ধ করে দেয়ায় রবি মৌসুমের আবাদ পুরোপুরি থমকে গেছে। এতে এলাকার শতাধিক কৃষক কার্যত বিপর্যয়ের পথে।
রাগৈ ভাসমান বিল খাল পাম্পের স্কিম ম্যানেজার মানিক হোসেন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে তিনি জানান, দিগধাইর এলাকায় পাঁচ দশক আগে নির্মিত একটি কালভার্ট দীর্ঘদিন ধরে পুরো এলাকার পানি নামানোর একমাত্র পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সেচ সুবিধার ওপর নির্ভর করেই আশপাশের কৃষকেরা নিয়মিত আবাদ করতেন।
কিন্তু স্থানীয় দুই ব্যক্তি রুবিয়া ও সাকিল ওই কালভার্টের একপাশ মাটি ভরাট করে পানি প্রবাহ পুরোপুরি আটকে দেন। ফলে কৃষকের জমিতে জমে থাকা পানি এখন আর বের হচ্ছে না। রবি মৌসুমের আবাদ তো বন্ধ হয়েছেই, বর্ষায়ও ভয়ংকর জলাবদ্ধতার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মানিক হোসেন বলেন, “এই জলাবদ্ধতা এখন কৃষকদের জন্য সরাসরি জীবন-জীবিকার সংকট। আমরা বারবার অনুরোধ করেও কোন সমাধান পাইনি। কালভার্টে শুধু একটি পাইপের জায়গা রাখলেই কৃষকরা বাঁচত।”
স্থানীয় কৃষক আবুল কালাম, নূর মিয়া শেখ, মোর্শেদ আলম, মোশরফ হোসেন ও আমির হোসেন বলেন, “আমরা জন্মের পর থেকেই এই কালভার্ট দেখছি। পানি চলাচলের একমাত্র পথ এটি। বন্ধ হওয়ায় আমরা ফসল রোপণই করতে পারছি না। পরিবার চালানোই কঠিন হয়ে পড়বে।”
দিগধাইর ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মোরছালিন জানান, “বিষয়টি লিখিতভাবে ইউএনওকে জানিয়েছি। স্থানীয় এমপি ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হকেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। সেচ প্রকল্পে বাধা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা হওয়া জরুরি।”
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা দাবি করেছেন, দ্রুত সরেজমিন তদন্ত করে পানি নিষ্কাশনের পথ পুনরুদ্ধার না হলে আসন্ন মৌসুমে তাদের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ভয়াবহ আকার নেবে।
অভিযুক্ত রুবিয়া ও সাকিলের বক্তব্য জানতে তাদের বাড়িতে যোগাযোগ করা হলেও পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদক: মো: জামাল হোসেন/
২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Chandpur Times | চাঁদপুর টাইমস Top Newspaper in Chandpur