‘লেংটার মেলায়’ শতাধিক গাঁজার দোকান, জুয়া ও অশ্লীলতা নিয়ন্ত্রণহীন

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের বেলতলী এলাকার বদরপুরে চলমান ১০৭তম লেংটার মেলাকে কেন্দ্র করে মাদক, জুয়া ও অশ্লীলতায় চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মেলা এলাকা ও আশপাশের তিন থেকে চার কিলোমিটারজুড়ে কয়েক লক্ষ মানুষের সমাগম হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, মেলায় অন্তত তিন শতাধিক গাঁজার দোকান বসেছে।

বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে মেলা এলাকা পরিদর্শনে দেখা যায়, মাজারের পশ্চিম-উত্তর পাশের পুকুরপাড়সহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় পাগল ও ফকির পরিচয়ে আসা ব্যক্তিরা প্রকাশ্যে গাঁজার দোকান বসিয়েছে। দিনের বেলায়ই চলছে মাদক বিক্রি ও সেবন। আর রাত নামলেই মেলার বিভিন্ন স্থানে বসছে জুয়ার আসর, অশ্লীল গান-বাজনা এবং নারী-পুরুষের একসঙ্গে নাচগানের আয়োজন।

মেলার প্রথম দিন মঙ্গলবার বিকেলে জুয়া ও মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জুয়ার টাকা ও মাদকের ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরে কয়েকজনের মধ্যে মারামারি শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে মাজারের খাদেম মতিউর রহমান লাল মিয়ার ওপর হামলা চালায় জুয়ারি ও মাদক ব্যবসায়ীরা। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছরই মেলাকে কেন্দ্র করে এ ধরনের অনিয়ম দেখা গেলেও কার্যকর নিয়ন্ত্রণের অভাব রয়েছে। এবারের মেলায় জনসমাগম এতটাই বেশি যে পুরো এলাকা কার্যত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে মোবাইল নেটওয়ার্কও ঠিকভাবে কাজ করছে না, ফলে যোগাযোগে ভোগান্তিতে পড়ছেন দর্শনার্থীরা।
পুকুরপাড়ে অবস্থান করা কয়েকজন ফকির জানান, তারা নিজেরা সেবন করলেও বিক্রি করেন না। পুলিশের উপস্থিতির কারণে আগের মতো খোলামেলাভাবে বসা যায় না এবং সবসময় ভয়ে থাকতে হয়।

কুষ্টিয়া থেকে আসা মোকাব্বের আলী, জয়নব বেগম, দিলরুবা আক্তার ও মনজ্জুরুল হক ফকির বলেন, তারা প্রতিবছরই এখানে আসেন। লেংটা বাবার দরবারে এসে জিকির-আসকার ও গান-বাজনা করেন। কেউ কেউ নেশা করলেও তা সবার জন্য নয়।
নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা নেয়ামত উল্ল্যা নামে এক আশেকান বলেন, “এই মেলা আমাদের জন্য আধ্যাত্মিক মিলনমেলা। আমরা মানত নিয়ে আসি। তবে কিছু লোকের কারণে পরিবেশ খারাপ হয়। প্রশাসন কড়াকড়ি করলে ভালো হয়।”

কুমিল্লা থেকে আসা রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা এখানে শান্তির জন্য আসি। কিন্তু মাদক ও জুয়ার কারণে অনেক সময় সমস্যায় পড়তে হয়। এসব বন্ধ হওয়া দরকার।”

শরীয়তপুর থেকে আগত গাফফার হোসেন ফকির বলেন, “এখানে আসলে মন ভালো হয়ে যায়। তবে খারাপ কার্যকলাপগুলো বন্ধ করলে মেলার পরিবেশ আরও সুন্দর হবে।”

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, ঐতিহ্যবাহী এই ধর্মীয় আয়োজনকে ঘিরে যদি মাদক, জুয়া ও অশ্লীলতার মতো কর্মকাণ্ড বন্ধ করা না যায়, তাহলে এর সামাজিক প্রভাব ভয়াবহ হতে পারে। তারা দ্রুত প্রশাসনের কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কামরুল হাসান বলেন, “মেলায় বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে পোশাকধারী পুলিশসহ সিভিল টিম কাজ করছে। মাদক ও জুয়ার বিষয়ে অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

প্রতিবেদক: মুসাদ্দেক আল আকিব/
১ এপ্রিল ২০২৬