রমজানে বন্দীদের ইবাদত ও পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগ
পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে চাঁদপুর জেলা কারাগারে বন্দীদের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান জানিয়ে নেওয়া হয়েছে নানামুখী মানবিক উদ্যোগ। ৬৫০ জন বন্দীর জন্য স্বাস্থ্যসম্মত ইফতার ও সেহরির ব্যবস্থা করার পাশাপাশি ইবাদত-বন্দেগির অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করেছে কারা কর্তৃপক্ষ।
কারা সূত্রে জানা যায়, রোজাদার বন্দীদের জন্য প্রতিদিনের ইফতারে রাখা হয়েছে মুড়ি, ছোলা, কলা, ডিম, খেজুর, জিলাপি, পেঁয়াজু ও শরবতের মতো পুষ্টিকর খাবার। এছাড়া রাতের প্রধান খাবারে মাছ, মুরগি ও গরুর মাংসসহ বিভিন্ন ধরনের তরকারি পরিবেশন করা হচ্ছে। সেহরিতেও গরম ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
খাবারের মান বজায় রাখতে কারাগারের রান্নাঘরে বিশেষ তদারকি জোরদার করা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশনের বিষয়টি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে কারা কর্তৃপক্ষ। বন্দীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কারাগারের চিকিৎসা শাখাকেও সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
রমজানের ধর্মীয় পরিবেশ নিশ্চিত করতে কারাগারের অভ্যন্তরে তারাবির নামাজ, পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও বিশেষ দোয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বন্দীরা যেন শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে ধর্মীয় আচার পালন করতে পারেন, সেজন্য নামাজের উপযোগী পরিবেশ, প্রয়োজনীয় ধর্মীয় বই ও অন্যান্য সামগ্রীও সরবরাহ করা হয়েছে।
কারাগারে থাকা কয়েকজন বন্দী জানান, রমজান উপলক্ষে কারা কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগে তারা সন্তুষ্ট। নিয়মিত ইবাদত-বন্দেগি ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের কারণে তারা স্বস্তির সাথে রোজা পালন করতে পারছেন।
চাঁদপুর জেলা কারাগারের জেল সুপার মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন ভূঞা জানান, পবিত্র রমজান মাসকে কেন্দ্র করে বন্দীদের জন্য একটি আধ্যাত্মিক ও মানবিক পরিবেশ তৈরিতে কারা কর্তৃপক্ষ আন্তরিকভাবে কাজ করছে।
তিনি বলেন, “রমজান আত্মশুদ্ধি, সংযম ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়। কারাগারে অবস্থানরত বন্দীরাও যেন এই পবিত্র মাসের তাৎপর্য উপলব্ধি করতে পারেন এবং তাদের মধ্যে ইতিবাচক মানসিক পরিবর্তন আসে, সেজন্য আমরা বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছি।”
তিনি আরও বলেন, “বন্দীদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টির বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। ইফতার ও সেহরির খাবার প্রস্তুত থেকে শুরু করে পরিবেশন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ আমরা নিয়মিত তদারকি করছি। পাশাপাশি চিকিৎসা শাখাকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে কোনো বন্দী অসুস্থ হলে দ্রুত চিকিৎসা সেবা দেওয়া যায়।”
জেল সুপার আশা প্রকাশ করে বলেন, “রমজানের এই আধ্যাত্মিক চর্চা বন্দীদের মধ্যে আত্মসমালোচনা ও ইতিবাচক মানসিক পরিবর্তন আনতে সহায়ক হবে। মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কারাগারের শৃঙ্খলা আরও সুদৃঢ় হবে এবং সমাজের কাছেও একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছাবে।”
কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, রমজানজুড়ে বন্দীদের ধর্মীয় চর্চা ও সুস্থতা নিশ্চিত করতে এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
প্রতিবেদক: সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী/
৭ মার্চ ২০২৬