রমজানের ৫ প্রস্তুতি
প্রতিবছরের ন্যায় রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের বার্তা নিয়ে আমাদের দ্বারে আবারও কড়া নাড়ছে পবিত্র মাহে রমজান। এটি মূলত সওয়াব অর্জন, আত্মিক পূর্ণতা এবং নেক আমলের মাস। এ মাসের প্রতিটি আমলের সওয়াব অন্য মাসের তুলনায় বহুগুণ বেশি। তাই একজন সাধারণ মুমিনের মনেও এই আকাঙ্ক্ষা জাগে, কীভাবে মাসটিকে ইবাদতের মাধ্যমে সার্থক করে তোলা যায়।
আমাদের প্রিয় নবী (সা.),তাঁর সাহাবায়ে কেরাম ও আল্লাহর ওলিগণ রমজানের জন্য বিশেষ প্রস্তুতি নিতেন। এ নিবন্ধে আমরা তাঁদের সেই প্রস্তুতির স্বরূপ নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করব।
১.দোয়া
রাসুলুল্লাহ (সা.) শাবান মাস থেকে দোয়া করতেন, ‘হে আল্লাহ, আমাদের জন্য রজব ও শাবান মাসে বরকত দিন এবং আমাদের রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দিন।’ (মুসনাদে আহমাদ: ২৩৪৬)। হজরত মাআলা ইবনে ফাদল (রহ.) বলেন, ‘সালাফগণ রমজানের ছয় মাস আগে থেকে আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন যেন তিনি তাঁদের রমজান পাওয়ার তওফিক দেন। আবার রমজান শেষ হওয়ার পর পরবর্তী ছয় মাস এ দোয়া করতেন যে আল্লাহ যেন তাঁদের রমজানের ইবাদতগুলো কবুল করে নেন।’ (লাতায়িফুল মাআরিফ)
২. নফল রোজার অভ্যাস
রমজানের প্রস্তুতি হিসেবে নবীজি (সা.) শাবান মাসে প্রচুর পরিমাণে রোজা রাখতেন। উসামা ইবনে জায়দ (রা.) নবীজিকে এর কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘এটি এমন একটি মাস, যা রজব ও রমজানের মাঝে অবস্থিত এবং মানুষ এ মাস সম্পর্কে গাফিলতি করে। অথচ এ মাসেই আল্লাহর দরবারে আমলসমূহ পেশ করা হয়। তাই আমি চাই,রোজা রাখা অবস্থায় যেন আমার আমলগুলো আল্লাহর কাছে উপস্থাপিত হয়।’ (সুনানে নাসায়ি: ২৩৫৭)
শায়খুল হাদিস মাওলানা জাকারিয়া (রহ.)-এর মতে, আকাবিরগণ শাবান মাসে বেশি বেশি নফল রোজা রাখতেন,যাতে রমজানের ফরজ রোজাগুলো পালন করা তাঁদের জন্য সহজ ও আরামদায়ক হয়।
৩. কোরআন তিলাওয়াত ও আত্মশুদ্ধি
রমজান কোরআনের মাস। জিবরাইল (আ.) প্রতি রমজানে নবীজি (সা.)-এর সঙ্গে কোরআন তিলাওয়াত ও পর্যালোচনা করতেন। তাই আগে থেকে কোরআন তিলাওয়াতের অভ্যাস গড়া জরুরি। পাশাপাশি রমজানের প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজন আত্মশুদ্ধি। কারণ, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,‘যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও মন্দ কাজ ত্যাগ করে না, তার পানাহার বর্জনে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।’(সহিহ্ বুখারি: ১৯০৩)
৪. দান-সদকার মানসিকতা তৈরি
রমজানে নবীজির (সা.) দানশীলতা বহুগুণ বেড়ে যেত। বর্ণিত আছে যে রমজানে জিবরাইল (আ.) যখন আসতেন, তখন নবীজি (সা.) প্রবাহিত বাতাসের চেয়েও দ্রুত ও অকাতরে দান করতেন। সালাফগণ এই আদর্শ অনুসরণ করে রমজানের জন্য আগেভাগে দানের পরিকল্পনা করতেন, কারণ এ মাসের সদকা অন্য সময়ের তুলনায় অনেক বেশি মর্যাদাপূর্ণ।
৫. সময় ব্যবস্থাপনা ও মানসিক প্রস্তুতি
সালমান ফারসি (রা.) থেকে বর্ণিত, শাবান মাসের শেষ দিন নবীজি (সা.) এক দীর্ঘ খুতবায় রমজানের গুরুত্ব তুলে ধরতেন। তিনি বলতেন—এটি ধৈর্যের মাস,এটি সহমর্মিতার মাস। এ মাসে একটি নফল অন্য মাসের ফরজের সমান এবং একটি ফরজ সত্তরটি ফরজের সমান সওয়াব বয়ে আনে। (মুসনাদে আহমাদ)
আমাদের পূর্বসূরিগণ রমজানের প্রতিটি মুহূর্ত কাজে লাগানোর জন্য একটি সুশৃঙ্খল পরিকল্পনা করতেন। আমাদের উচিত রমজানকে ইবাদতের সৌরভে সাজাতে তাঁদের মতো প্রস্তুতি গ্রহণ করা।
লেখক: শিক্ষার্থী,দারুল উলূম মাদানীনগর, ঢাকা।
৬ ফেব্রুযারি ২০২৬
এ জি