যোগ্যদের বাদ দিয়ে প্রাথমিকের শিক্ষককে দিয়ে মূল্যায়ন হচ্ছে দাখিলের খাতা!

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার সন্তোষপুর ডিএস দাখিল মাদ্রাসায় দাখিল পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে নজিরবিহীন অনিয়ম ও তথ্য গোপন করার অভিযোগ উঠেছে। মাদ্রাসার যোগ্য শিক্ষকদের পাশ কাটিয়ে তথ্য জালিয়াতির মাধ্যমে একজন এবতেদায়ি (প্রাথমিক স্তর) শিক্ষককে দিয়ে বছরের পর বছর বোর্ডের উত্তরপত্র মূল্যায়ন করানোর তথ্য সামনে এসেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মাদ্রাসাসুপার নিজের দোষ স্বীকার করে ‘কবিরা গুনাহ’ করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির সুপার আবুল হাসান সাইফুল্লাহ তথ্য গোপন করে ওই মাদ্রাসার জনৈক এবতেদায়ি শিক্ষক সফিকুল ইসলামকে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের দাখিল পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের সুযোগ করে দেন। অথচ একই প্রতিষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দাখিল স্তরে পাঠদানের জন্য যোগ্য ও অভিজ্ঞ শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও তাদের নাম সুপারিশ করা হয়নি। অভিযুক্ত শিক্ষক সফিকুল ইসলাম দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে এভাবেই নিয়মবহির্ভূতভাবে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করে আসছেন বলে জানা গেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানপ্রধানের সরাসরি সুপারিশ ও বোর্ডে পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতেই কোনো শিক্ষক পরীক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান। ফলে একজন এবতেদায়ি শিক্ষকের পক্ষে তথ্য গোপন না করে মাধ্যমিক পর্যায়ের খাতা দেখার সুযোগ নেই। বিষয়টি ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা’র ১৮.১ (গ) উপধারার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। ওই নীতিমালায় বলা হয়েছে-ভুয়া বা অসত্য তথ্য প্রদান, তথ্য গোপন কিংবা জালিয়াতির মাধ্যমে কোনো সুবিধা গ্রহণ করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানপ্রধানের এমপিও বাতিলসহ বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত এবতেদায়ি শিক্ষক সফিকুল ইসলাম অকপটে নিজের দায় স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “আমি পঞ্চম শ্রেণির (এবতেদায়ি) শিক্ষক হয়েও দীর্ঘ বছর ধরে দাখিল পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করছি। আসলে খাতা মূল্যায়নের সঠিক নিয়ম বা নীতিমালা আমার জানা নেই। সুপারের স্বাক্ষরিত সুপারিশের ভিত্তিতেই আমি এই দায়িত্ব পালন করে আসছি।”

অভিযোগের বিষয়ে মাদ্রাসার সুপার আবুল হাসান সাইফুল্লাহর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। তবে তিনি আবেগতাড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমি কবিরা গুনাহ করেছি, আমাকে মাফ করে দিন।” কেন এবং কার স্বার্থে তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই অনিয়ম করে আসছেন, সে বিষয়ে কোনো সদুত্তর দেননি তিনি।

এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, “অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে এটি এমপিও নীতিমালার চরম লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে। বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে এমপিও বাতিলসহ কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।”

ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, “শিক্ষা নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হবে। তদন্তে তথ্য গোপনের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এদিকে, একজন অযোগ্য শিক্ষককে দিয়ে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের ভাগ্য নির্ধারণী খাতা মূল্যায়নের খবরে স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষাবিদদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তাঁরা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

প্রতিবেদক: শিমুল হাছান,
১০ জুলাই ২০২৬