যুবদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে ঝিনাইদহের কামরুজ্জামান
যুবদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হলেন ঝিনাইদহের কামরুজ্জামান জাতীয়তাবাদী যুবদলের নবগঠিত ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ ‘যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক’ পদে স্থান পেয়েছেন ঝিনাইদহের কৃতি সন্তান ও মাঠপর্যায়ের পরীক্ষিত নেতা মো. কামরুজ্জামান।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার আবদুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি এবং মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক করে যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি অনুমোদন করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা প্রকাশ করা হয়। নতুন এই কমিটিতে মো. কামরুজ্জামান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়ায় তার নিজ জেলা ঝিনাইদহসহ খুলনা বিভাগের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ ও উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।
দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদল ও যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত মো. কামরুজ্জামান মাঠপর্যায়ের রাজপথের পরিচিত মুখ। তিনি যুবদলের বিগত কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) হিসেবেও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। খুলনা বিভাগের যুব রাজনীতির ইতিহাসে তিনিই সবচেয়ে বড় ও শীর্ষস্থানীয় কেন্দ্রীয় পদ অলংকৃত করলেন।
দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হতে হয়েছে কামরুজ্জামানকে। রাজপথে সক্রিয় থাকার কারণে তার নামে দেশের বিভিন্ন থানায় রেকর্ডসংখ্যক ২০৬টি রাজনৈতিক মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এসব মামলায় একাধিকবার তাকে গ্রেপ্তার হয়ে কারাবরণ ও নির্মম জেল-জুলুমের মুখোমুখি হতে হয়েছে। তবে শত প্রতিকূলতা ও নির্যাতনের মধ্যেও তিনি দলীয় আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একজন বিশ্বস্ত ‘ভ্যানগার্ড’ ও পরীক্ষিত সৈনিক হিসেবে রাজপথে আন্দোলনের অগ্রভাগে থেকেছেন তিনি।
কেন্দ্রীয় যুবদলের গুরুত্বপূর্ণ এই পদ পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক এক প্রতিক্রিয়ায় মো. কামরুজ্জামান বলেন, “প্রথমেই আমি মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি। আমার ওপর আস্থা রেখে দেশনায়ক তারেক রহমান ভাই যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে যে গুরুদায়িত্ব অর্পণ করেছেন, আমি রক্তের শেষ বিন্দু দিয়ে হলেও তার মর্যাদা রক্ষা করব। বিগত ১৭ বছর রাজপথে অসংখ্য মামলা, হামলা ও জেল-জুলুমের শিকার হয়েও আমরা মাঠ ছাড়িনি। এই পদপ্রাপ্তি আমার একার নয়, এটি খুলনা বিভাগ তথা ঝিনাইদহের সর্বস্তরের ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের ত্যাগের মূল্যায়ন। আগামী দিনে দলের যেকোনো আন্দোলনে যুবদলকে আরও শক্তিশালী, ঐক্যবদ্ধ ও গতিশীল করতে এবং দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে আনার লড়াইয়ে আমি রাজপথে সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত।”
রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি মো. কামরুজ্জামান পেশাগত ভাবে একজন আইনজীবী ও সামাজিক অঙ্গনেও সুপরিচিত। তিনি জাতীয় দৈনিক ‘বাংলার প্রতিচ্ছবি’ পত্রিকার আইন উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর মো. কামরুজ্জামানের অনুসারী ও তৃণমূলের নেতাকর্মীরা গভীর আশা প্রকাশ করে বলেন, দলের এই ক্রান্তিকালে ত্যাগী নেতাদের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে নিয়ে আসায় যুবদলের সাংগঠনিক গতিশীলতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। তারেক রহমানের দিকনির্দেশনায় কেন্দ্রীয় যুবদলকে আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করতে কামরুজ্জামান আগামী দিনে রাজপথে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন বলে তারা বিশ্বাস করেন।
স্টাফ করেসপন্ডেট/
৫ জুন ২০২৬