মাতৃছায়া কিন্ডারগার্টেন ফরিদগঞ্জে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা-মা সমাবেশ ও পুরস্কার বিতরণ

ফরিদগঞ্জে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে যথাযোগ্য মর্যাদা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগীতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা, মা সমাবেশ ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) উপজেলা সদরে সুনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মাতৃছায়া কিন্ডারগার্টেন ফরিদগঞ্জের উদ্যোগে বিদ্যালয়টির মিলনায়তনে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সিনিয়র সাংবাদিক আবু হেনা মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে ও মাতৃছায়া কিন্ডারগার্টেনের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক রেজাউল করিম মাসুদের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক মো. মহসীন পাটওয়ারী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রতিটি রাষ্ট্র ও সমাজে এমন কিছু ক্ষণজন্মা মানুষ জন্ম নেন, যারা সমাজ, সংস্কৃতি, মূল্যবোধ ও মনোজগতে গভীর প্রভাব রেখে যান। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম তেমনই একজন ব্যক্তিত্ব। পরাধীনতা, জুলুম, নির্যাতন, শোষণ, অসাম্য, বৈষম্য, কুসংস্কার এবং সব ধরনের অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে কবির কলম ছিল শানিত অস্ত্র। কৈশোর থেকে পরিণত বয়স পর্যন্ত জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে তার প্রভাব অপরিসীম। অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে তিনি আজও অনুপ্রেরণা। তার প্রাসঙ্গিকতা কখনো ফুরাবে না। বিপ্লব, বিদ্রোহ, রণসংগীত, ইসলামী মূল্যবোধের গান, ভজন-কীর্তন, শ্যামাসংগীত, প্রেম, প্রকৃতি কিংবা মানবিক মূল্যবোধ প্রতিটি ক্ষেত্রেই নজরুল আমাদের শুদ্ধ প্রকাশ।

সভাপতির বক্তব্যে আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, বিদ্রোহী কবি, প্রেমের কবি, বিরহের কবি, তারুণ্যের কবি এবং বাংলাদেশের ঐতিহ্যের কবি কাজী নজরুল ইসলাম জাতীয় সাহিত্য-সংস্কৃতির ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় নাম। মহান মুক্তিযুদ্ধে নজরুলের কবিতা ও গান যেমন অনুপ্রেরণার শক্তিশালী উৎস ছিল, তেমনি দেশের সব আন্দোলন-সংগ্রামে তার সৃষ্টিশীলতাই হয়ে উঠেছে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের ভাষা। শুধু অতীত নয়, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছেও নজরুল সমান প্রাসঙ্গিক। সে কারণেই জাতীয় কবির জীবন ও কর্মের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের সম্পর্ক আরও গভীর করতে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে ‘নজরুল বর্ষ’ শুরু হয়েছে। পরাধীন, পর্যুদস্ত ও পরাভূত জাতির ভাগ্যাকাশে তার আবির্ভাব ছিল আলোকবর্তিকার মতো।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদগঞ্জ সরকারি কলেজের সাবেক জিএস মো. মাইনুল আহসান মামুন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মাওলানা শহীদ উল্লাহ পাটওয়ারী, শিক্ষানুরাগী আবুল বাশারসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী-শিক্ষকমণ্ডলী, অভিভাবক ও এলাকার সুধীজন।

অনুষ্ঠান শেষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থী ও গুণী কলাকুশলীদের হাতে বিশেষ পুরস্কার তুলে দেন আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।

ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধি/
২৪ অক্টোবর ২০২৬