চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের ঘোড়াধারী গ্রামের এক মুদী ব্যবসায়ী আবুল কাশেমের (৩৮) অত্যাচারে গ্রামবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে।তুচ্ছ ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে এলাকার সাধারণ ও নিরীহ মানুষদের হুমকি,ধমকি এবং নানা ধরনের মামলা মোকদ্দমা করে হয়রানি ও কৌশলে তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়ার অসংখ্য অভিযোগ ওই আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে স্থানীয় এলাকাবাসীর।
গত বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারী) একটি ট্রলি গাড়ীর চালককে বেধড়ক মারধর করতে দেখে এগিয়ে আসে স্থানীয় লোকজন। এবং এর প্রতিবাদ করার কারনে এলাকাবাসীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করে আবুল কাশেম। সে ঘোড়াধারী গ্রামের শহিদ উল্যাহর ছেলে।মিথ্যা ও হয়রানি মুলক মামলা করায় গ্রামবাসী তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিল করেছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, আবুল কাশেম ঘোড়াধারী সড়কের মোড়ে একই গ্রামের আর্জু মোল্লার কাছ থেকে দীর্ঘদিন যাবৎ দোকান ভাড়া নিয়ে মুদী ব্যবসা করে আসছে। গেল বৃহস্পতিবার বিকেলে একটি ট্রলি গাড়ী সিএনজিকে সাইট দিতে গিয়ে আবুল কাশেমের দেকানের সামনে পিলার ভেঙে ফেলে।আবুল কাশেম দোকান থেকে বের হয়ে ট্রলির চালক জাভেদকে সে এবং তার সাথে থাকা ৪/৫ জন বেধড়ক মারধর করতে থাকে।তখন ট্রলি গাড়িটি বন্ধও করার সুযোগ দেয়নি তারা।পাশে থাকা সফিক মোল্লা, সাদেক মিয়াজীসহ স্থানীয় লোকজন এগিয়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করলে তাদেরকেও গালমন্দ করে আবুল কাশেম।
ছাদেক মিয়াজী (৭০) বলেন,আমি গিয়ে আবুল কাশেমকে বলি, তোমরা ট্রলি চালককে মারধর করছ কেন? তার অন্যায় হলে বিচার হবে।আগে তো ট্রলি গাড়ীটা বন্ধ করবে। তা না শোনে মারতেই থাকে চালককে।এক পর্যায়ে ট্রলি পিছনে ছিটকে গিয়ে একটি কড়ই গাছের সাথে আটকে যায়।এতে আমি পায়ে মারাত্মক আঘাতগ্রস্থ হই।
অপরদিকে সফিক মোল্লাসহ আরো অনেকে এগিয়ে যায় এবং চালক জাভেদকে মারধর না করতে বলায় উল্টো তাদেরকেও হুমকি ধমকি ও গালমন্দ করে আবুল কাশেম।
পরে স্থানীয় এলাকাবাসীর সহায়তায় ট্রলি গাড়া ও চালক জাভেদকে নিরাপদে বাড়ী পৌছে দেয়া হয়।
এদিকে সফিক মোল্লাকে হুমকি ধমকি ও গালমন্দ কেন করেছে সি বিষয়ে তার ছেলে ফরহাদ মোল্লা ওই দিন রাতে আবুল কাশেমের নিকট জানতে গেলে সেখানে উভয়ের মধ্যে তর্কবিতর্কের সৃষ্টি হয়।একপর্যায়ে ওই এলাকায় উত্তেজনা পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
ট্রলি গাড়ীর দুর্ঘটনার বিষয়টি স্থানীয় লোকজন প্রতিবাদ করার জের ধরে ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য আবুল কাশেম বাদী হয়ে ফরহাদ মোল্লা,সফিক মোল্লা,সাইফুল,রায়হান,রাকিব, সাব্বির, রানাসহ অজ্ঞাতনামা আসামী করে চাঁদপুর আদালতে মামলা করা হয়। তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে
গণহারে মিথ্যা মামলা করায় ঘোড়াধারী ও কালিয়াইশ গ্রামবাসী মঙ্গলবার বিকেকে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিল করে কালিয়াইশ মোড়ে। আবুল কাশেমের দোকানের মুল মালিক আর্জু মোল্লা বলেন, সে দোকানটি ভাড়া নেয়ার পর থেকেই তার বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ এলাকাবাসীর।ছোট খাট বিষয় নিয়ে সে সাধারণ মানুষকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে এবং কৌশলে টাকা আদায় করে।
গত বৃহস্পতিবার যে ঘটনাটি ঘটেছে, তার জন্য আমি নিজে দোকানের মালিক,সে হচ্ছে আমার ভাড়াটিয়া। ক্ষতিপুরণ চাইলে আমি চাইবো।সে তো চাওয়ার কেউনা এবং চালককে মারধর করাও তার ঠিক হয়নি।আমি তাকে বলে দিয়েছি দেজান ছেড়ে দিতে।
এ ব্যাপারে আবুল কাশেমের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।
প্রতিবেদক: মাহফুজ মল্লিক/
৫ মার্চ ২০২৬
Chandpur Times | চাঁদপুর টাইমস Top Newspaper in Chandpur