মতলব উত্তর

মতলবে স্বাস্থ্যকর্মীসহ পাঁচজনের করোনা শনাক্ত : করোনায় মৃত্যু ১

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় করোনা পজিটিভ রোগীর মৃত্যু হয়েছে। তার নাম নিত্যলাল সরকার (৬৫) শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার সময় তার নিজ গ্রামের বাড়িতে সে মারা যান। তার বাড়ি মতলব উত্তর উপজেলার ইসলামবাদ ইউনিয়নের রায়পুর ইসলামবাজ। এ নিয়ে মতলব উত্তরে করোনায় মারা গেছে ৭ জন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.নুশরাত জাহান মিথেন।

সে পর পর দু’বার তার নমুনা রিপোর্টে করোনা পজেটিভ ধরা পড়ে। প্রথম পজেটিভ ধরা পরার পর সে ঢাকায় চিকিৎসাধীন ছিলেন। এরপর সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিড়েন। এরপর গ্রামের বাড়িতে সে চলে আসেন। সেখানে আবারো তার নমুনা পরীক্ষা করে দ্বিতীয়বার পজেটিভ ধরা পড়ে। করোনা পজেটিভ নিয়েই বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন। গ্রামের বাড়িতেই শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার সময় তার মৃত্যু হয়।

পরে খবর পেয়ে ইসলামী আন্দোল বাংলাদেশ (চরমোনাই) স্বেচ্ছাসেবকরা ওই বাড়িতে যান। সন্ধ্যারপর মরদেহ উদ্ধারের পর সৎকারেরও ব্যবস্থা করে স্বাস্থ্যবিধি মোকাবেক মরদেহ উদ্ধারের পর সৎকারেরও ব্যবস্থা করে

এদিকে মতলব উত্তর উপজেলায় এক স্বাস্থ্যকর্মীসহ নতুন করে পাঁচজনের করোনা (কোভিড-১৯) শনাক্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত ১১টায় ঢাকার রোগতত্ত¡, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পাঠানো নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানানো হয়। এ নিয়ে এ উপজেলায় এখন করোনায় সংক্রমিত মোট ব্যক্তির সংখ্যা ৪০।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নুসরাত জাহান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক স্বাস্থ্যকর্মী (২২), উপজেলার এখলাশপুর এলাকার একে মৌলভী (৬০), একটি ওষুধ কোম্পানির স্থানীয় এক বিক্রয় প্রতিনিধি (৩৫) ও একটি বেসরকারি হাসপাতালের প্যাথোলজিস্ট (৫০) নতুন করে করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন। এ ছাড়া গত মঙ্গলবার মারা যাওয়া উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আব্দুল বারেকেরও (৫৬) করোনা পজিটিভ এসেছে।

আব্দুল বারেক জ্বর, সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। ১৫ জুন তাঁর নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকার আইইডিসিআরে পাঠানো হয়। নমুনা দেওয়ার পর থেকে তিনি চাঁদপুর শহরে নিজের বাসায় আইসোলেশনে (বিচ্ছিন্ন) ছিলেন। গত মঙ্গলবার বিকেলে তাঁকে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন পরিবারের লোকজন। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে ওই দিন দিবাগত রাত তিনটায় মারা যান তিনি। বৃহস্পতিবার রাতে আইইডিসিআর থেকে পাঠানো নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদনে জানা যায়, তিনি করোনা ‘পজিটিভ’ ছিলেন।

নুসরাত জাহান বলেন, নতুন করে সংক্রমিত ব্যক্তিদের নিজ নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে (বিচ্ছিন্ন) রাখা হয়েছে। তাঁদের বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টিনে (সঙ্গনিরোধ) থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নতুন পাঁচজন নিয়ে উপজেলায় মোট ৪০ জন করোনায় সংক্রমিত হিসেবে শনাক্ত হলেন। গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এখানে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ২৩০টি। মতলব উত্তর উপজেলায় মৃত সংখ্যা শুক্রবারের নিত্য লাল সরকারসহ ৭ জন।

প্রতিবেদক:কামাল হোসেন খান,২৬ জুন ২০২০

Share