চাঁদপুর সদর

বিষ্ণপুরে বাঁশ কাটাকে কেন্দ্র করে বাড়িঘরে হামলা

বাঁশঝাড়ের বাঁশ কাটাকে কেন্দ্র করে বাড়িঘরে ব্যাপক হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। হামলাকারীদের ভয়ে পাঁচটি পরিবার পাঁচদিন যাবৎ বাড়ি ছাড়া। চাঁদপুর সদর উপজেলার বিষ্ণপুর গ্রামের হাওলাদার বাড়িতে এ ঘটনাটি ঘটে। হামলায় একই পরিবারের দশজন আহত হয়েছে।

আহতরা হচ্ছে দ্বীন ইসলাম, তাঁর স্ত্রী রোকেয়া বেগম, মেয়ে খাদিজা বেগম, আমেনা আক্তার, ভাই রফিকুল ইসলাম, ভাতিজা আবুল বাশার, ভাবী সাফিয়া বেগম ও শ্যালিকা নাসিমা বেগম ।

আহতদের মধ্যে পাঁচজনকে গুরুতর অবস্থায় চাঁদপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। এ ঘটনায় দ্বীন ইসলাম বাদী হয়ে চাঁদপুর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।

এলাকাবাসী ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবাররা বলেন, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে তাঁদের নিজেস্ব জায়গার বাঁশঝাড় থেকে বাঁশ কাটছিলো। এ সময় একই বাড়ির মৃত আবদুল হাকিম হাওলাদারের ছেলে বিল্লাল হোসেন হাওলাদার বাঁশ কাটতে বাঁধার সৃষ্টি করে। এ নিয়ে দুুই পক্ষের মধ্যে তর্ক-বির্তক ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

বিল্লাল হোসেন হাওলাদার বিষয়টি পাশ্ববর্তী ওয়ার্ডের রফিক মেম্বারকে অবহিত করলে ওইদিন বিকেলে তাঁর দলবল এসে দ্বীন ইসলাম ও তাঁর ভাই ভাতিজাদের বসতঘরে ব্যাপক হামলা ভাংচুর ও লুটপাট করে। এতে বাঁধা দিতে গেলে দ্বীন ইসলামসহ তাঁর পরিবারের ১০জনকে বেধড়ক মারধর ও রক্তাক্ত জখম করে। সংবাদ পেয়ে ওই ওয়ার্ডের মেম্বার ও এলাকাবাসীর সহায়তায় আহতদেরকে উদ্ধার করে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

৪নং ওয়ার্ডের মেম্বার মজিবুর রহমান বলেন, হামলা ও মারামারির ঘটনা শুনে সাথে সাথে বাড়িতে গিয়ে দেখি দ্বীন ইসলামদের বেশ কয়েকটি বসতঘর ভাংচুর করে রেখেছে। এ ছাড়া তাঁদের পরিবারের বেশ কয়েকজন নারী-পুরুষ রক্তাক্ত জখম অবস্থায় পড়ে আছে। এলাকাবাসীর সহায়তায় আহতদেরকে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

তিনি বলেন, হামলাকারীরা ছিল বহিরাগত। ওই ওয়ার্ডের রফিক মেম্বারকে মেবাইল ফোনের মাধ্যমে ঘটনাটি অবহিত করা হয় এবং ঘটনাস্থলে আসার জন্য তাঁকে অনুরোধ করা হলেও তিনি এ ব্যাপারে কোনো কর্নপাত করেননি।

ক্ষতিগ্রস্ত দ্বীন ইসলাম বলেন, যেখান থেকে বাসটি কাটা হয়েছে ওই জায়গাটি নিয়ে দীর্ঘদিন বিরোধ ছিল। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিরা বসে সমঝোতা করে আমাদের জায়গার ওপর এ বাঁশঝাড়টি সে সীমানা নির্ধারণ করে দিয়ে যান। ওই দিন বাঁশ কাঁটতে গেলে বিল্লাল হাওলাদার বাধা দেয় এবং মারধর করে। ওইদিন বিকেলে পুনরায় পাশ্ববর্তী ৭নং ওয়ার্ডের রফিক মেম্বারের নির্দেশে দলবল নিয়ে এসে আমাদের বেশ কয়েকটি বসতঘর ভাংচুর, পরিবার পরিজনদের ওপর হামলা এবং একটি গর্ভবতী গাভীর ওপরও অমানবিক নির্যাতন করে। হামলাকারীদের ভয়ে আমরা বাড়ি ছাড়া হয়ে আছি।

এ ব্যাপারে প্রতিপক্ষ বিল্লাল হাওলাদার ও ইউপি সদস্য রফিক এর সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তাদের পাওয়া যায়নি।

স্টাফ করেসপন্ডেট,৬ এপ্রিল ২০২০

Share