চাঁদপুরে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে এইচএসসি ফরম ফিলাপ বঞ্চিত শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে পুনরায় টেস্ট পরীক্ষা শুরু হয়েছে। গত ৩ এপ্রিল সোমবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এ পরীক্ষায় ১৪৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১২৫ জন অংশগ্রহণ করেছে বলে জানা গেছে।
জানা যায়, সাম্প্রতিক বিক্ষোভ ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির পর শিক্ষার্থীদের জন্য পুনঃটেস্ট পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩ এপ্রিল সোমবার দিন ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষার মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয় এবং গতকাল ৪ এপ্রিল মঙ্গলবার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পূর্বে সহকারী প্রিন্সিপাল ইব্রাহিম খলিল হেলালের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা শিক্ষার্থী ঐশীও এ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। কিন্তু ইসরাত ওহি নামের যে শিক্ষার্থী সবচেয়ে বেশি গুরুতর অভিযোগ তুলেছে, সেই শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়নি।
এই পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষ ৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করেছছেন। কমিটির সদস্যরা হলেন, ড্যাফোডিল স্কুলের অধ্যক্ষ নুর হোসেন খান, চাঁদপুরের ড্যাফোডিল কো-অর্ডিনেটর মাহাবুল হোসাইন, সহকারী কো-অর্ডিনেটর মো. ইকবাল হোসেন এবং দু’জন অভিভাবক প্রতিনিধি। তাদের তত্ত্বাবধানে পরীক্ষা গ্রহণ করা হচ্ছে।
এদিকে দ্বিতীয় দিনের পরীক্ষায় নকলের অভিযোগে দুইজন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। এতে করে পরীক্ষার স্বচ্ছতা রক্ষায় কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত মিলেছে।
অন্যদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে বিক্ষোভ ও উদ্ভূত পরিস্থিতির সার্বিক বিষয় তদন্তে দুই সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা হলেন, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজ, লালমাটিয়া, ঢাকার অধ্যক্ষ অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাদিকুল বারী এবং ড্যাফোডিল গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খানের বিশেষ সহকারী কাফিউল বিন ইসলাম। তারা আন্দোলনের পটভূমি, উসকানিদাতা এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে আন্দোলনে উসকানি দেওয়ার অভিযোগে কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষক নাসরিন সুলতানাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলেও জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
ঘটনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে, কলেজের সাবেক শিক্ষক নুরুল ইসলাম নয়নের ভূমিকা নিয়ে। বিভিন্ন সূত্রে অভিযোগ উঠেছে, আন্দোলনের পেছনে তিনিই অন্যতম ইন্ধনদাতা হিসেবে কাজ করেছেন। জানা যায়, তিনি একসময় কলেজে কর্মরত ছিলেন এবং পরবর্তীতে চাকরি ছাড়ার পর থেকে প্রতিষ্ঠানের প্রতি ক্ষোভ পোষণ করছিলেন। সাম্প্রতিক এই আন্দোলনে তাকে সরাসরি ক্যাম্পাসে উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে এবং শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রভাবিত করার অভিযোগও উঠেছে। মূলত শিক্ষার্থী ও অভিবাবকদের মনে ক্ষোভ সৃষ্টি করে এই আন্দোলনের মূল ইন্দনদাতা হচ্ছে কলেজের সাময়িক বরখাস্ত হওয়া শিক্ষিকা নাসরিন সুলতানা ও সাবেক শিক্ষক নুরুল ইসলাম নয়ন।
এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ সিবলী সাদিক বলেন, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আমরা চাই একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন হোক। ইতোমধ্যে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে।
আন্দোলনকে ঘিরে তদন্ত কমিটির সম্পর্কে তিনি বলেন, যেহেতু তদন্ত কমিটি এখনো কাজ করছেন, তাদের কোন রির্পোট হাতে না আসা পর্যন্ত কোন মন্তব্য বা বক্তব্য দিতে চাইনা। শিক্ষিকা নাসরিন সুলতানার সাময়িক বরখাস্ত হওয়া সম্পর্কেও তিনি একই কথা জানান।তবে আন্দোলনের পেছনের কারণ ও সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি পুরোপুরি পরিষ্কার করে কিছু বলা যাচ্ছেনা বলে মনে করছেন তিনি।
প্রতিবেদক: কবির হোসেন মিজি/
৮ মার্চ ২০২৬
Chandpur Times | চাঁদপুর টাইমস Top Newspaper in Chandpur