চাঁদপুর জেলা সদর থেকে লক্ষ্মীপুর সড়ক ও সদরের নানুপুর থেকে হরিণা ফেরিঘাট পর্যন্ত সড়কে সাতটি বালু ও পাথর বিক্রির প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের ছয় ও দশ চাকার ট্রাকগুলো মাল বহন করে চলাচল করায় দুটি সড়ক ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠান মালিকদের সড়ক বিভাগ থেকে নোটিশ দেওয়া হলেও এখনো আগের অবস্থায় রয়েছে এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।
সরেজমিন দেখা গেছে, সদরের ইসলামপুর গাছতলা থেকে শুরু করে বাগড়া বাজার পর্যন্ত রয়েছে বেশ কয়েকটি বালু ও পাথর বিক্রির ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। একই ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে ডাকাতিয়া নদী সংলগ্ন পানি উন্নয়ন বোর্ডের সম্পত্তিতে নির্মিত সড়কের দুই পাশে। বিশেষ করে ঢালিরঘাট, ওয়াপদা ও তার আশপাশে বেশ কয়টি বালুর ব্যবসা রয়েছে।
বাগড়া বাজার এলাকার বাসিন্দা আব্দুল্লাহ শেখ ও অটোরিকশা চালক ফারুক মজুমদার বলেন, বালুবহনকারী ট্রাক শুধুমাত্র সড়ক নষ্ট হয় না, পাশাপাশি যানবাহনের যাত্রী, চালক এবং পথচারীদের চোখে মুখে বালু ঢুকে প্রতিনিয়ত বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন। এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন।
সড়ক বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, সদরের মেসার্স সাইফুল এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স মো. আব্দুল হান্নান, আফিজ উদ্দিন মুন কনস্ট্রাকশন, মেসার্স মায়ের দোয়া এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স আবুল কালাম পাঠান, গাজী নির্মাণ সামগ্রী ও মেসার্স ফাতেমা ট্রেডার্সকে গেল বছর ১৯ নভেম্বর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে নোটিশে উল্লেখ করা হয়, অতিরিক্ত বালি ও পাথর ভর্তি ১০ চাকার ট্রাক চলাচলের কারণে রাস্তার পেভমেন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত পেভমেন্ট অংশ মেরামত করা হলেও অতিরিক্ত অর্থাৎ অধিক লোডের কারণে রাস্তার পেভমেন্ট পুনরায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্তের পরিমাণ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীরা এই ধরনের পরিবহন বন্ধ না করা হলে তাদের বিরুদ্ধে সড়ক আইনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এই বিষয়ে সাইফুল এন্টারপ্রাইজের মালিক জাহাঙ্গীর খান বলেন, আমার বালু ব্যবসা আছে। তবে অধিক লোডের গাড়ি নেই। পাশের মেসার্স মো. আব্দুল হান্নানসহ নদীর দক্ষিণ পাশে যাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে তাদের গাড়ি আছে।
এই সড়কের দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. জসিম উদ্দিন বলেন, এই দুই সড়কে থাকা বালু ও পাথর ব্যবসায়ীদের প্রতিষ্ঠানে গিয়ে অধিক লোডের গাড়ি বন্ধ করার জন্য মৌখিক বলা হয়েছে এবং তাদেরকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এসব অধিক লোডের গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়নি।
চাঁদপুর সড়ক বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী শাহিনুর রহমান বলেন, সড়কে এই ধরনের অধিক লোডের গাড়ি বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গত ১৪ জানুয়ারি জেলা প্রশাসক বরাবর নির্বাহী প্রকৌশলী চিঠি দিয়েছেন। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সমন্বিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
চঁদপুর টাইমস ডেস্ক/
৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Chandpur Times | চাঁদপুর টাইমস Top Newspaper in Chandpur