আগামীর সুন্দর বাংলাদেশের জন্য নিজেদের তৈরি করতে হবে : ডিসি
চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মোঃ নাজমুল ইসলাম সরকার বলেছেন, খেলা শুধু প্রতিযোগিতা নয়। খেলা তোমাদের দলনেতা হওয়া শেখায়, খেলা ধৈর্যধারণ ও শারীরিকভাবে ফিট রাখে। একজন উত্তম খেলোয়াড়ের চাইতে একজন সৎ খেলোয়াড় বেশী প্রয়োজন। যুবরাই আগামী দিনের ভবিষ্যত, তাই তোমরা স্বপ্ন দেখ বড় কিছু হওয়ার। আগামীর বাংলাদেশের জন্য হও, আগামীর সুন্দরের জন্য গড়ে উঠতে হবে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যাললয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরষ্কার বিতরণীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, শিক্ষামানে শুধুই পুথিগত বিদ্যা না, আমাদের চারপাশ থেকে শিখার অনেক কিছু আছে। তোমরা পরিবেশ থেকে ও শিক্ষা নিয়ে জীবনে তা প্রয়োগ করতে পার।অকারনে একটি গাছের পাতাও তোমরা ছিড়বে না, কারন তোমরা তারসৃষ্টি করতে পারবে না। অন্যের ক্ষতি করবেনা, কখনোই সৃর্ষ্টিকে নষ্ট করবে না।
তিনি অভিবাবক বিশেষ করে মায়েদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা প্রতিদিন আপনার সন্তানদের একবার হলেও জড়িয়ে ধরে তাকে বুঝাবেন।
যে সন্তান মা বাবার উষ্ণতা নিবে সে সন্তান কখনো কুসন্তান হবে না। প্রতিটি সন্তানকে সকাল থেকে রাত্রে ঘুমাতে যাওয়া পর্যস্ত গৃহস্থলী কাজের বিষয়ে বলবেন তাহলে সে সন্তান পরনির্ভরশীল হয়ে গড়ে উঠবে না। সে তার নিজেন কাজগুলো নিজেই করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
নিজ শিক্ষা জীবনের স্মৃতিচারণ করে ডিসি বলেন, আমি যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়তামম, তা ছিল জড়াজীর্ন টিনের চালা দিয়ে বর্ষকালে পানি ঝড়তো ক্লাশরুমে। আমাদের দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিদ্যুৎ পাওয়ার সুযোগ হয়নি। তোমরা বর্তমানে স্কুলে এসে অনেক সুযোগ সুবিধা ভোগ কর, তাই তোমাদের থেকে পিতামাতা ও জাতি অনেক ভাল কিছু আশাকরে। স্কুলে যেতে হতো কাঁদদামাখা পথ পরিয়ে। আমার স্কুলে যাওয়ার পথটি ছিল পূর্ব মুখি ও বাড়ি ফেরার পথটি ছিল পশ্চিম মুখী। তাই সূর্যই ছিল আমার স্কুল জীবনের সকল কিছুর স্বাক্ষী।
তিনি আরও বলেন, তিনটি জিনিস তোমাদের উদ্দেশ্যে বলছি, দুইটা জাতিকে কখনো অসম্মান করে না। প্রথমে নিজের পিতামাতা ও শিক্ষাগুরুতে অসম্মান করবে না। এটা আমার নির্দেশ রইলো। কখনো মিথ্যা বলবে না মিথ্যা সকল খারাপ কিছুর উৎপত্তি, তুমি এমন কিছু করবে না যা পরিবার ও সমাজকে কুলোশিত করে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মোঃ রবিউল হাসান বলেন, স্কুলের ক্রীড়া অনুষ্ঠানে আসলে নিজের শিক্ষা জীবনের কথা মনে পড়ে যায়। আমাদের স্কুলে একদিন ছেলে ও একদিন মেয়েরা জাতীয় সংগীত গাইতাম। তোমরা পিতা মাতা ও শিক্ষক মন্ডলীর কথা শুনবে। তারা যা আদেশ করে সে আদেশ অমান্য করবে না। আদেশ করেন যাহা মোর গুরু জনে এ বিষয়টির প্রতি তোমরা নজর রাখবে। আরেকটি কথা মোবাইল থেকে তোমরা দূরে থাকবে, মোবাইলের কারনে আজ সমাজের অনেক শিক্ষার্থী পিছিয়ে পড়ছে।
মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষক মোঃ শাহিন কাদিরের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) নাজমুন নাহার।
এছাড়ার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ ও বিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সম্পাদক সিনিয়র শিক্ষক সরকার মোহাম্মদ সেলিম, ক্রীড়া সম্পাদক আসাদ উল্লাহ ও আছমা আক্তারসহ সকল শিক্ষকমন্ডলী ও অভিভাবকগণ উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিবেদক: মাজহারুল ইসলাম অনিক/
২৬ জানুয়ারি ২০২৬