জাতীয়

বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচে’ বেশি ঋণনির্ভর বাজেট ঘোষণা

শাহজাহান শাওন, চাঁদপুর টাইমস :

বাংলাদেশের ইতিহাসে সংখ্যার হিসাবে সবচেয়ে বিশাল ঘাটতি তথা ঋণনির্ভর বাজেট ঘোষণা করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। বর্তমান সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদের এটা দ্বিতীয় বাজেট। ২ লাখ ৯৫ হাজার ১শ’ কোটি টাকার প্রস্তাবিত এ বাজেটের প্রায় ৩০ শতাংশই ঘাটতি বা ঋণনির্ভর।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় জাতীয় সংসদে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের এ প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট পেশ করেন। একই সঙ্গে চলতি ২০১৪-১৫ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট ও অর্থবিল ২০১৫ সংসদে উপস্থাপন করেন তিনি।

প্রস্তাবিত বাজেটে মোট অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৮ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা এবং সামগ্রিক ঘাটতির পরিমাণ হচ্ছে ৮৬ হাজার ৬৫৭ কোটি টাকা। অভ্যন্তরীণ ব্যাংক ব্যবস্থা ও সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ গ্রহণ এবং বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে এ ঘাটতি পূরণ করা হবে। সুতরাং বাজেট বাস্তবায়ন, লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় ও কাঙ্ক্ষিত বৈদেশিক সহায়তা অর্জন করা উচ্চাভিলাষী এ বাজেটের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রস্তাবিত বাজেটে কর ও ভ্যাটের আওতা বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে কিছু নতুন পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের ওপর করের বোঝা বাড়বে। অন্যদিকে নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে উদ্যোক্তাদের বেশ কিছু সুবিধা ও ছাড় দেওয়া হলেও বাণিজ্য উদারীকরণের লক্ষ্যে আমদানি শুল্ক ও সম্পূরক শুল্কের হার কমানো হয়েছে।

অন্যান্যের মধ্যে বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা ও ভর্তুকি খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি), পদ্মা সেতু, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন ইত্যাদি খাতেও বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া শিশুদের জন্য প্রথমবারের মতো ঘোষণা করা হয়েছে পৃথক শিশু বাজেট আর ছিটমহলবাসীদের জন্য রাখা হয়েছে বিশেষ বরাদ্দ।

প্রস্তাবিত বাজেটের মোট আকার বা ব্যয়ের পরিমাণ ধরা হয়েছে ২ লাখ ৯৫ হাজার ১০০ কোটি টাকা। এটি জিডিপির ১৭ দশমিক ২ শতাংশ।

এবারের বাজেট ২০১৪-১৫ অর্থবছরের মূল বাজেটের চেয়ে ৪৪ হাজার ৫৯৪ কোটি টাকা বেশি। গত অর্থবছরে বাজেটের আকার ছিল ২ লাখ ৫০ হাজার ৫০৬ কোটি টাকা।

নতুন বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ শতাংশ। যা গতবার ছিল ৭ দশমিক ৩ শতাংশ।

সম্পদ আহরণ, ঘাটতি ও অর্থায়ন : বাজেটে মোট অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৮ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা। এটি গত অর্থবছরের চেয়ে ২৫ হাজার ৪৮৯ কোটি টাকা বেশি। গতবার এ লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৫৪ কোটি টাকা।

অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণের বাইরে প্রস্তাবিত বাজেটে মোট ঘাটতির পরিমাণ হচ্ছে ৮৬ হাজার ৬৫৭ কোটি টাকা। এটা জিডিপির ৫ শতাংশ। গত অর্থবছরে মূল বাজেটে মোট ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৬৭ হাজার ৫৫২ কোটি টাকা টাকা।

বাজেট ঘাটতি পূরণ : বাজেটের ঘাটতি পূরণ করা হবে অভ্যন্তরীণ ব্যাংক ব্যবস্থা ও সঞ্চয়পত্র এবং বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে। এর মধ্যে বৈদেশিক ঋণ বাবদ ৩২ হাজার ২৩৯ কোটি টাকা (গত অর্থবছরে এ খাতে ছিল ২৬ হাজার ৫১৯ কোটি টাকা), বৈদেশিক অনুদান বাবদ ৫ হাজার ৮০০ কোটি টাকা (গত অর্থবছরে এ খাতে ছিল ৬ হাজার ২০৬ কোটি টাকা), ব্যাংকিং খাত থেকে ৩৮ হাজার ৫২৩ কোটি টাকা (গত অর্থবছরে এ খাতে ছিল ৩১ হাজার ২২১ কোটি টাকা) ও ব্যাংক বহির্ভূত খাত থেকে ১৮ হাজার কোটি টাকা (গত অর্থবছরে এ খাতে ছিল ১২ হাজার ৫৬ কোটি টাকা) নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে বাজেটে।

ব্যাংক বহির্ভূত খাতের মধ্যে সঞ্চয়পত্র খাত থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা (গত অর্থবছরে এ খাতে ছিল ৯ হাজার ৫৬ কোটি টাকা) ও অন্যান্য খাত থেকে ৩ হাজার কোটি টাকা (গত অর্থবছরে এ খাতে ছিল ৩ হাজার কোটি টাকা) নেওয়া হবে।

উন্নয়ন ব্যয় : প্রস্তাবিত বাজেটে উন্নয়ন খাতে মোট ১ লাখ ২ হাজার ৫৫৯ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) খাতে ৯৭ হাজার কোটি টাকা ও এডিপি বহির্ভূত খাতে ৩ হাজার ৩৩৯ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। এ ছাড়া কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) ও স্থানান্তর খাতে ১ হাজার ৫৮৭ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে।

বিদায়ী অর্থবছরের মূল বাজেটে উন্নয়ন খাতে মোট ৮৬ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। এর মধ্যে এডিপি-তে বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ৮০ হাজার ৩১৫ কোটি টাকা ও এডিপি বহির্ভূত খাতে ৩ হাজার ৪৬৯ কোটি টাকা। এছাড়া কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) ও স্থানান্তর খাতে ব্যয়ের পরিমাণ ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৪৯৩ কোটি টাকা।

অনুন্নয়ন ব্যয় : প্রস্তাবিত বাজেটে অনুন্নয়ন খাতে মোট ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫৫৯ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিদায়ী অর্থবছরের মূল বাজেটে অনুন্নয়ন খাতে মোট ব্যয়ের পরিমাণ ধরা হয়েছিল ১ লাখ ৫৪ হাজার ২৪১ কোটি টাকা।

অনুন্নয়ন ব্যয়ের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে অনুন্নয়ন রাজস্ব খাতে ব্যয়। মোট বাজেটের অর্ধেকেরও বেশি ব্যয় হচ্ছে এ খাতে। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ বাবদ ৩৩ হাজার ৩৯৬ কোটি টাকা (চলতি অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ২৯ হাজার ৩০৫ কোটি টাকা) ও বৈদেশিক ঋণের সুদ বাবদ ১ হাজার ৭১৩ কোটি (চলতি অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা) টাকাসহ অনুন্নয়ন রাজস্ব খাতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা (চলতি অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ১ লাখ ২৮ হাজার ২৩১ কোটি টাকা)।

এ ছাড়া প্রস্তাবিত বাজেটে অন্যান্য খাতের মধ্যে অনুন্নয়ন মূলধন খাতে ১৯ হাজার ৯৮৮ কোটি টাকা (চলতি অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ২৬ হাজার ১০ কোটি টাকা) এবং খাদ্য হিসাবে ২২৭ কোটি টাকা (চলতি অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৩০৯ কোটি টাকা) ব্যয় করা হবে।

অর্থমন্ত্রীর পূর্ণাঙ্গ বাজেট বক্তৃতা পড়তে এখানে ক্লিক করুন

: http://www.mof.gov.bd/en/budget/15_16/budget_speech/speech_bn_15-16.pdf

শুক্রবার ০৫ জুন ২০১৫ :  ১২:২৫

চাঁদপুর টাইমস : এমআরআর/২০১৫

চাঁদপুর টাইমস’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Share