সৌদি আরব ১৪টি দেশের মাল্টিপল-এন্ট্রি ভিসা স্থগিত করেছে। ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ থেকে নতুন এই ভিসা নীতি কার্যকর হয়েছে । একই দিন থেকে সৌদি আরব শুধুমাত্র ১৪টি দেশের নাগরিকদের জন্য একক-এন্ট্রি ভিসা প্রদান করছে। এই পরিবর্তনের উদ্দেশ্য হল দীর্ঘমেয়াদী ভিজিট ভিসা প্রাপ্ত অননুমোদিত হজযাত্রীদের সমস্যা মোকাবেলা করা।
১৪ দেশের মধ্যে রয়েছে : ১. আলজেরিয়া, ২. বাংলাদেশ, ৩. মিশর, ৪. ইথিওপিয়া, ৫. ভারত, ৬. ইন্দোনেশিয়া, ৭. ইরাক, ৮. জর্ডান, ৯. মরক্কো, ১০. নাইজেরিয়া, ১১. পাকিস্তান, ১২. সুদান, ১৩. তিউনিসিয়া এবং ১৪. ইয়েমেন ।
নীতিগত পদক্ষেপের অংশ হিসেবে সৌদি সরকার পর্যটন (মাল্টিপল রি-এন্ট্রি ভিসা), ব্যবসা (মাল্টিপল রি-এন্ট্রি বিজনেস ভিসা) এবং শ্রমিকদের পারিবার (ফ্যামিলি ভিজিট ভিসা) ভ্রমণের জন্য এক বছরের মাল্টিপল-এন্ট্রি ভিসা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করলো।
ভিসা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পরিবর্তন: নতুন নিয়ম অনুসারে, ১৪টি দেশের পর্যটকরা এখন ৩০ দিনের একবার প্রবেশ ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন, যার সর্বোচ্চ মেয়াদ ৩০ দিন। তবে কূটনৈতিক, শ্রমিক, হজ এবং ওমরাহ ভিসায় এর প্রভাব পড়বে না।
সৌদি আরবের কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, অনেক মাল্টিপল রি-এন্ট্রি ভিসাধারী ভিসা নীতি ভঙ্গ করে অবৈধভাবে সৌদি আরবে বসবাস করে আসছে এবং নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে । এমনকি অবস্থানের সময়সীমা অতিক্রম হওয়ার পরও পর্যটক ভিসার অপব্যবহার করে হজে অংশগ্রহন করেছে।
প্রতিটি দেশের জন্য সৌদি সরকারের হজ কোটা নির্ধারিত রয়েছে । কিন্তু ফ্যামিলি ভিজিট ভিসা, মাল্টিপল রি-এন্ট্রি ভিসায় সৌদি আরব প্রবেশ করে হজে অংশগ্রহন করায় অতিরিক্ত ভিড়ে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছিল। যার ফলে ২০২৪ সালে অতিরিক্ত ভিড় এবং তীব্র গরমে ১,২০০ জনেরও বেশি হজযাত্রী মারা গিয়েছিলেন।
সম্ভাব্য পরবর্তী পদক্ষেপ: কর্মকর্তারা মাল্টিপল রি-এন্ট্রি ভিসা স্থগিত করার একটি অস্থায়ী পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তবে পুনর্বিবেচনার জন্য কোনও নির্দিষ্ট তারিখ দেওয়া হয়নি। অতিরিক্ত কোনও পদক্ষেপ নেওয়ার আগে, সরকার নতুন নীতিটি কেমন চলছে তা পর্যবেক্ষণ করছে।
ভ্রমণকারীদের অবশ্যই যে তথ্য জানা উচিত: সৌদি আরবে প্রবেশ করতে ইচ্ছুক পর্যটকদের পরিকল্পিত ভ্রমণের কমপক্ষে এক মাস আগে একক-প্রবেশ ভিসার জন্য আবেদন করা উচিত। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, ভ্রমণের সময় জরিমানা বা বিড়ম্বনা এড়াতে নতুন ভিসা নিয়ম মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ঝামেলামুক্ত ভ্রমণের জন্য, উপরোল্লিখিত দেশগুলোর পর্যটকদের সৌদি আরবের কঠোর অভিবাসন নিয়ম মেনে চলতে হবে।