ফেরি চলাচল বন্ধ, আটকা পড়েছে শতাধিক যানবাহন

ঘন কুয়াশার কারণে শরীয়তপুর-চাঁদপুর নৌরুটে ফেরি চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এর ফলে নদীর দুই তীরে শতাধিক যানবাহন আটকা পড়েছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্পোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) জানায়, কুয়াশার কারণে দৃষ্টিসীমা কমে যাওয়ায় দুর্ঘটনা এড়াতে আজ শুক্রবার (২ জানুয়ারি) রাত ১২টা ৩০ মিনিট থেকে এই রুটে ফেরি চলাচল স্থগিত করা হয়।

বিআইডব্লিউটিসির নরসিংহপুর ফেরিঘাটের উপ-ব্যবস্থাপক মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ‘গভীর রাতে হঠাৎ করে ঘন কুয়াশা পড়ায় নদীপথে দৃশ্যমানতা মারাত্মকভাবে কমে যায়। নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দুর্ঘটনা এড়াতে সাময়িকভাবে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।’

বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুর–চাঁদপুর নৌপথে বর্তমানে ছয়টি ফেরি চলাচল করে। তবে ফেরিগুলোতে আধুনিক ফগ লাইট ও প্রয়োজনীয় নেভিগেশন সুবিধা না থাকায় কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ায় চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। এ কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে ফেরি চলাচল স্থগিত রাখা হয়েছে।

ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় নদীর উভয় পাড়ে বাস, ট্রাক, পণ্যবাহী কাভার্ড ভ্যানসহ ছোট ছোট শতাধিক যানবাহন আটকে পড়েছে। এসব যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা দীর্ঘ সময় ধরে পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছেন। এতে যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ছে, পাশাপাশি পণ্য পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।

নরসিংহপুর ও চাঁদপুর পাড়ের ফেরিঘাট এলাকায় ভোরের দিকে কুয়াশার ঘনত্ব আরও বেড়ে যায়। নদীর মাঝখানে কয়েক মিটার দূরের কিছুই স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল না। শীতের মধ্যে অনেক চালককে রাতভর ফেরিঘাট এলাকায় অপেক্ষা করতে হয়েছে।

বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কুয়াশা কেটে গিয়ে নদীপথে দৃশ্যমানতা স্বাভাবিক হলে ফেরি চলাচল পুনরায় চালু করা হবে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, শরীয়তপুর–চাঁদপুর নৌপথটি দক্ষিণাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগমাধ্যম। প্রতিদিন হাজারো যাত্রী ও বিপুল পরিমাণ পণ্য এই রুটে চলাচল করে। শীত মৌসুমে ঘন কুয়াশার কারণে প্রায়ই ফেরি চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি উঠেছে।

চাঁদপুর টাইমস ডেস্ক/
২ জানুয়ারি ২০২৫