ফরিদগঞ্জে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মহিউদ্দিনকে লাঞ্ছনার ঘটনায় সাবেক এমপির মধ্যস্থতায় নিষ্পত্তি

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি ও ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মহিউদ্দিনের ওপর হামলার জের ধরে সৃষ্ট উত্তেজনার অবসান ঘটেছে। স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ব্যাংক ও রাজস্ববিষয়ক সম্পাদক লায়ন মো. হারুনুর রশিদ এবং ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু হেনা মোস্তফা কামালের মধ্যস্থতায় এক সমঝোতা সভায় ঘটনার মর্যাদাপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ নিষ্পত্তি করা হয়।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পৌর ছাত্রদলের সাবেক নেতা কামরুল ইসলাম পাটোয়ারীর অতর্কিত হামলায় শারীরিক লাঞ্ছনার শিকার ও আহত হন সাংবাদিক মহিউদ্দিন। পরে সহকর্মীরা তাঁকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানেও প্রতিপক্ষ বাধার সৃষ্টি করে। তবে সাংবাদিকদের দৃঢ় প্রতিরোধের মুখে হামলাকারীরা পিছু হটতে বাধ্য হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে বাড়িতে নেওয়া হলেও এ নিয়ে উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাব কার্যালয়ে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সমন্বয়ে দুপুর ৩টায় এক জরুরি প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ক্লাবের সদস্যবৃন্দ বক্তব্য রাখেন এবং জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

এদিকে হামলার ঘটনাটি জানতে পেরে সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা লায়ন মো. হারুনুর রশিদ প্রেসক্লাব সভাপতির সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করে অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনার জন্য গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন। সাংবাদিক ও রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে সৌহার্দ্য বজায় রাখা এবং শান্তির স্বার্থে সংশ্লিষ্টদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি নিজ দায়িত্বে ক্লাবে উপস্থিত হয়ে বিষয়টি সম্মানজনক সমাধানের আশ্বাস দেন।

মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে সাবেক এমপি প্রেসক্লাব কার্যালয়ে পৌঁছালে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান ক্লাবের নেতৃবৃন্দ। পরবর্তীতে দুই পক্ষের দীর্ঘ বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন তিনি। এ সময় ঘটনাটি অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক উল্লেখ করে অভিযুক্ত পক্ষকে তাঁদের ভুল স্বীকার করার নির্দেশ দিলে অভিযুক্তরা নিজ অপরাধ মেনে নেন। এরপর প্রেসক্লাব সভাপতি ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সম্মতিতে পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে ঘটনাটির চূড়ান্ত অবসান ঘটানো হয়।

সমঝোতা সভায় সাবেক সংসদ সদস্য লায়ন মো. হারুনুর রশিদ বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্রান্তিকালে ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে শুরু করে সারা দেশের সাংবাদিক ভাইয়েরা সব সময় আমাদের পাশে ছিলেন। সত্য প্রকাশ করতে গিয়ে অনেক সাংবাদিক নির্যাতন, হামলা ও মামলার শিকার হয়েছেন। সাংবাদিকেরা আমাদের পরীক্ষিত বন্ধু ও দুঃসময়ের সাথী।

তিনি আরও বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গণমাধ্যমের অবাধ স্বাধীনতার প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল। স্থানীয় পর্যায়ে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, পেশাগত মর্যাদা এবং স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা আমাদের সকলের রাজনৈতিক ও নৈতিক দায়িত্ব।

প্রতিবেদক: শিমুল হাছান,
২১ অক্টোবর ২০২৬