ফরিদগঞ্জে ‘সম্প্রীতির মিছিল’ গড়ে উঠল এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত

সময় তখন গোধূলি লগ্ন। সূর্য অস্তাচলের পথে, প্রকৃতি ধীরে ধীরে অন্ধকারের চাদরে ঢেকে পড়ছে। ঠিক সেই মুহূর্তেই ফরিদগঞ্জের রাজনীতিতে ছড়িয়ে পড়ে এক অনন্য আলোকছটা-সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের এক বিরল দৃষ্টান্ত।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) শেষ বিকেলে
ফরিদগঞ্জ থানার মোড়ে বিএনপির প্রার্থী লায়ন মো. হারুনুর রশীদের উপস্থিতিতে ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থনে অনুষ্ঠিত হচ্ছিল পথসভা। সভায় বক্তব্য রাখছিলেন বিএনপি নেতা লায়ন আল-আমিন। শত শত নেতাকর্মী মনোযোগ দিয়ে তার বক্তব্য শুনছিলেন, চোখে পড়ছিল প্রার্থী লায়ন হারুনুর রশীদের হাসিমাখা মুখ।

ঠিক সেই সময় ফরিদগঞ্জ বাজারের পূর্ব দিক থেকে সাবেক মেয়র মঞ্জিল হোসেনের নেতৃত্বে স্বতন্ত্র প্রার্থী শিল্পপতি আলহাজ্ব এম এ হান্নানের চিংড়ি প্রতীকের সমর্থনে একটি মিছিল ‘চিংড়ি চিংড়ি’ স্লোগান দিতে দিতে এগিয়ে আসে পথসভার দিকেই।

মুহূর্তের মধ্যে থানার মোড়ের পরিবেশ হয়ে ওঠে কিছুটা উত্তেজনাপূর্ণ ও কৌতূহলভরা। সাধারণ মানুষের মনে জাগে প্রশ্ন-“কী হবে, কী ঘটবে?” তবে সকল শঙ্কাকে ভুল প্রমাণ করে চিংড়ি প্রতীকের সমর্থকরা সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে, কোনো ধরনের উসকানি বা সংঘাতে না জড়িয়ে স্লোগান দিতে দিতে ধানের শীষের পথসভার স্থান অতিক্রম করে চলে যান।

কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই ভিন্ন প্রতীকের দুটি রাজনৈতিক কর্মসূচির এভাবে মুখোমুখি হয়ে শান্তিপূর্ণভাবে অতিক্রম করার দৃশ্য ফরিদগঞ্জের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য ও ঐতিহাসিক অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

রাজনীতিতে সহনশীলতা, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সম্মানের এমন নজিরই কাম্য-এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন সচেতন মহল। তারা মনে করছেন, এই ‘সম্প্রীতির মিছিল’ ভবিষ্যতের রাজনীতিতে ইতিবাচক বার্তা বহন করবে।

প্রতিবেদক: শিমুল হাছান,
২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬