ফরিদগঞ্জে শিশুকে যৌ/ন হয়রানির প্রতিবাদ করায় পরিবারের ওপর হামলা, গ্রেফতার ২

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে সাত বছরের এক শিশুকে যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করায় ওই শিশুর পরিবারকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় শিশুর চাচা ও জেঠাসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্ত ও তার বাবাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

গত মঙ্গলবার (২৩ মার্চ ২০২৬) বিকেলে উপজেলার ১৪ নম্বর ফরিদগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়নের দক্ষিণ চর বড়ালি গ্রামের বেপারি বাড়িতে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন বিকেলে বাড়ির উঠোনে খেলা করছিল শিশুটি। এসময় একই বাড়ির তাফাজ্জল হোসেনের ছেলে লম্পট পারভেজ হোসেন (২৫) চকলেট ও আচারের লোভ দেখিয়ে শিশুটিকে নির্জনে নিয়ে যায়। সেখানে সে শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানি ও যৌন হয়রানি করে।

এদিকে দীর্ঘক্ষণ শিশুটিকে দেখতে না পেয়ে তার মা তাকে খোঁজাখুঁজি ও ডাকাডাকি শুরু করলে পারভেজ তাকে ছেড়ে দেয়। শিশুটি কান্নাকাটি করতে করতে মায়ের কাছে গিয়ে ঘটনার বিস্তারিত জানায়।

শিশুর পরিবার এ বিষয়ে পারভেজের কাছে কৈফিয়ত চাইতে গেলে পারভেজ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। পরে পারভেজ (২৫), তার ভাই ইয়াসিন (২০), বাবা তাফাজ্জল হোসেন (৫৫) এবং চাচা মানিক হোসেন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শিশুর পরিবারের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় শিশুর চাচা জামাল হোসেন (৩৩) ও জেঠা মিজান (৫২)-এর মাথা ফেটে যায়। এছাড়া জসিম ও শিশুর মাকেও বেদম মারধর করে আহত করা হয়। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। চিকিৎসা শেষে শিশুর মা বাদী হয়ে ফরিদগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ পাওয়ার পরপরই ফরিদগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) এমদাদুল হকের নির্দেশে সেকেন্ড অফিসার এসআই আমজাদ হোসেন চৌধুরী সঙ্গীয় ফোর্সসহ অভিযান পরিচালনা করেন। পুলিশ অভিযুক্ত পারভেজ ও তার বাবা তাফাজ্জল হোসেনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, “শিশুকে প্রলোভন দেখিয়ে যৌন হয়রানি এবং পরবর্তীতে প্রতিবাদ করায় পরিবারের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। আমরা ইতিমধ্যে মূল অভিযুক্তসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করেছি। এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর।”

প্রতিবেদক: শিমুল হাছান,
২৫ মার্চ ২০২৬