ফরিদগঞ্জে হেলে পড়েছে চারতলা ভবন

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার মিরপুর সড়কে একটি চারতলা ভবন পাশের আরেকটি চারতলা ভবনের দিকে হেলে পড়েছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পৌর কর্তৃপক্ষ, উপজেলা প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

নিরাপত্তার স্বার্থে তাৎক্ষণিকভাবে উভয় ভবনের বাসিন্দাদের ভবন ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটি তদন্তে ৪ সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পৌর শহরের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মিরপুর সড়কে দেলোয়ার হোসেনের মালিকানাধীন চারতলা ভবনটি কয়েক ইঞ্চি পাশের আক্তার পাটওয়ারীর চারতলা ভবনের দিকে হেলে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরের দিকে বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে দ্রুত প্রশাসনকে অবহিত করা হয়। পরে উপজেলা প্রশাসন, পৌর প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন।

পাশের ভবনের ম্যানেজার মাহা গাজী জানান, সোমবার সকালে ভবনটি কিছুটা হেলে পড়েছে বলে তাদের নজরে আসে। এরপর বিষয়টি স্থানীয়দের জানানো হলে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের দাবি, দুটি ভবনই পূর্বে ধানক্ষেতের জমির ওপর নির্মাণ করা হয়েছিল।

ফরিদগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কমান্ডার কামরুল ইসলাম জানান, ভবন হেলে পড়ার খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। নিরাপত্তার স্বার্থে তাৎক্ষণিকভাবে উভয় ভবনের বাসিন্দাদের দ্রুত ভবন ত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ফরিদগঞ্জ পৌরসভার নকশাকার আল আমিন জানান, ২০০৭ সালে ভবন দুটি পরপর নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে উভয় ভবনই চারতলা বিশিষ্ট। ভবনগুলোর বর্তমান অবস্থা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, ভবন হেলে পড়ার খবর পেয়ে দ্রুত পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলীকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্তে ৪ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা হলেন—গণপূর্ত বিভাগের এসডিও, পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী, উপজেলা প্রকৌশলী এবং ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কমান্ডার।

তিনি আরও জানান, তদন্ত কমিটি ঈদের পর ঘটনাটি পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন জমা দেবে। সেই প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আপাতত নিরাপত্তার স্বার্থে ভবন দুটিতে কেউ যেন বসবাস না করেন, সে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের এই নির্দেশনার পর ভবন দুটির বাসিন্দারা নিরাপদ স্থানে সরে গেছেন বলে জানা গেছে। তবে স্থানীয়দের মধ্যে এখনো ভবন দুটি নিয়ে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

প্রতিবেদক: শিমুল হাছান,
১৬ মার্চ ২০২৬