ফরিদগঞ্জে বিয়ের দাবিতে বিধবা নারীর অনশন, মারধর ও লাঞ্ছনার অভিযোগ

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে বিয়ের দাবিতে এক বিধবা নারীর অনশনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অনশনরত ওই নারীকে মারধর ও লাঞ্ছনার অভিযোগ উঠেছে অভিযুক্ত যুবকের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে।

উপজেলার রূপসা উত্তর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের হাজী বাড়ির বাসিন্দা শরিফ হোসেনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ তুলেছেন লাকি বেগম (৩৮) নামের এক বিধবা নারী। তিনি দুই সন্তানের জননী। তার এক ছেলে (১৬) ও এক মেয়ে (১২) বছর বয়সী। তার স্বামী জসিম উদ্দিন প্রায় ছয় বছর আগে মারা যান।

অভিযোগে জানা যায়, স্বামীর মৃত্যুরপর একই গ্রামের কির্তন বাড়ির শরিফ হোসেনের সঙ্গে বিধবা লাকি বেগম(৩৮) পরিচয় হয় এবং একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। লাকির দাবি, প্রায় চার বছর ধরে চলা এই সম্পর্কে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে শরিফ তার সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন।
তিনি আরও জানান, বিদেশে যাওয়ার আগে শরিফ তার কাছ থেকে দুই লাখ টাকা নেন, যা তিনি নিজের গহনা বিক্রি করে জোগাড় করেন। বিদেশে অবস্থানকালীন সময়েও শরিফ নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন এবং দেশে ফিরে তাকে ও তার সন্তানদের স্বীকৃতি দিয়ে বিয়ে করবেন বলে আশ্বাস দেন।

কিন্তু সম্প্রতি দেশে ফিরে শরিফ তাকে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে ঘোরাফেরা করলেও হঠাৎ করে এবং শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে। এখন সে অন্যত্র বিয়ের উদ্যোগ নেন বলে অভিযোগ করেন লাকি বেগম।

বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। তবে কোনো সমাধান না হওয়ায় সোমবার (২৩ মার্চ) সকালে শরিফের বাড়িতে গিয়ে বিয়ের দাবিতে অনশনে বসেন লাকি। এ সময় শরিফের মা, বোন ও পরিবারের আরেক নারী তাকে মারধর ও লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একপর্যায়ে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শরিফের মা। তার দাবি, “ছেলে বিয়ে করলে করুক, এতে আমাদের আপত্তি নেই। তবে আমার স্বামীর সম্পত্তি আমার নামে-সেখানে কাউকে জোর করে থাকতে দেওয়া হবে না।”

স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তফা জানান, কয়েকদিন আগে উভয় পক্ষকে নিয়ে বৈঠক হয়েছিল এবং ঈদের পর বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে অভিযুক্ত পক্ষ আর যোগাযোগ করেনি।

এদিকে স্থানীয়দের মতে, ঘটনাটি শুধু পারিবারিক বিরোধ নয়; এতে প্রতারণা ও শারীরিক নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, যা আইনি তদন্তের দাবি রাখে।

ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ফরিদগঞ্জ থানার এএসআই রাশেল মিত্র জানান, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে আগামী ২৫ মার্চ উভয় পক্ষকে থানায় ডেকে বিষয়টি নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আপাতত ভুক্তভোগী নারীকে তার বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধি/
২৪ মার্চ ২০২৬