ফরিদগঞ্জে বিএনপি ও বিদ্রোহী প্রার্থীর উত্তাপ, অতি ঝুঁকিপূর্ণ ৩৮ কেন্দ্রে

চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রেক্ষাপটে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে নির্বাচনী মাঠ। সম্ভাব্য উত্তেজনা ও সহিংসতার শঙ্কার মধ্যেই ভোটগ্রহণকে সামনে রেখে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি।

নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে উপজেলার ১১৮টি ভোটকেন্দ্রকে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় রাখা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্র পর্যবেক্ষণে স্থাপন করা হয়েছে মোট ৪৮৮টি সিসি ক্যামেরা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত থাকবেন প্রায় ২ হাজার ১২০ জন সদস্য, যার মধ্যে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ, গ্রাম পুলিশ ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।

উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৯১ হাজার ২৬৪ জন। তারা ১১৮টি ভোটকেন্দ্রের ৭৭৩টি বুথে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এরই মধ্যে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ৬৫১ জন নারীসহ মোট ৯ হাজার ৩৬৭ জন প্রবাসী ও সরকারি চাকরিজীবী ভোটার তাদের ভোট প্রদান করেছেন।

নির্বাচনী ঝুঁকি বিবেচনায় উপজেলার ৫১টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৩৮টি কেন্দ্রকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা ও বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে যেতে পারেন এবং ভোটের আগে ও পরে কোনো ধরনের সহিংসতা না ঘটে, সে লক্ষ্যে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থায় থাকবে ৩ প্লাটুন সেনাবাহিনী, ২ প্লাটুন বিজিবি, ১ প্লাটুন র‌্যাব, ২৯৮ জন পুলিশ সদস্য এবং গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৩ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন।

তিনি আরও জানান, ভোটগ্রহণ পরিচালনায় ১২৪ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ৭৩৭ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং ১ হাজার ৪৭৪ জন পোলিং এজেন্ট দায়িত্বে থাকবেন।

পাশাপাশি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সার্বক্ষণিক নজরদারি করবেন। কোনো ধরনের সহিংসতা বা প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে এবং এ বিষয়ে প্রশাসন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে থাকবে।

এদিকে নির্বাচনী পরিবেশে একদিকে উৎসবমুখর আমেজ থাকলেও অন্যদিকে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে কিছুটা শঙ্কা বিরাজ করছে। প্রচারণাকালীন কয়েকটি সহিংসতা এবং প্রার্থীদের মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ ভোটারদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। বিশেষ করে স্বতন্ত্র পরিচয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ও দলীয় প্রার্থীর বিরোধপূর্ণ সম্পর্ক কেন্দ্রগুলোর পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই।

তবে দীর্ঘদিন পর স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার প্রত্যাশায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ফরিদগঞ্জের মানুষ বাড়ি ফিরছেন, যা অনেকটা ঈদ উৎসবের আমেজ তৈরি করেছে। অনেক প্রবাসীও এবার ভোট দিতে দেশে এসেছেন।

তাদের প্রত্যাশা—দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ যেন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে বিঘ্নিত না হয় এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন হয়।

প্রতিবেদক: শিমুল হাছান,
১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬