Home / উপজেলা সংবাদ / ফরিদগঞ্জ / ফরিদগঞ্জে প্রবাসীর স্বপ্নভঙ্গ, প্রতারণায় কেনা জমি, আদালতের উচ্ছেদে নিঃস্ব পরিবার

ফরিদগঞ্জে প্রবাসীর স্বপ্নভঙ্গ, প্রতারণায় কেনা জমি, আদালতের উচ্ছেদে নিঃস্ব পরিবার

জীবনের সব সঞ্চয় খরচ করে মাথা গোঁজার ঠাঁই গড়তে গিয়ে প্রতারণার শিকার হলেন এক প্রবাসী। আদালতের রায়ে উচ্ছেদ অভিযানে ঘরবাড়ি হারিয়ে এখন নিঃস্ব তার পরিবার। খোলা আকাশের নিচে তিন অবুঝ সন্তান, বৃদ্ধা মা ও স্ত্রীকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।

ঘটনাটি ঘটেছে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের পূর্ব কাওনিয়া গ্রামে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) আদালতের নির্দেশে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, গ্রামের মো. শহীদুল্লাহ’র ছেলে সৌদি প্রবাসী মো. ওয়াসিম ২০২৩ সালের ১২ নভেম্বর ১০০৭৬/২৩ নং দলিলের মাধ্যমে স্থানীয় মো. গিয়াস উদ্দিন, শাহাবুদ্দিন ও আলাউদ্দিন আল মুন্নাদের কাছ থেকে ১৭ শতক জমি ক্রয় করেন। সরকারি নিয়ম মেনে খাজনা-খারিজসহ সব কাগজপত্র সম্পন্ন করে সেখানে একটি টিনের ঘর নির্মাণ করে পরিবার নিয়ে বসবাস শুরু করেন তিনি।
তবে ক্রয়ের সময় বিক্রেতারা জমিটি আদালতে চলমান মামলার নালিশি সম্পত্তি-এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে সরল বিশ্বাসে জমি কিনে প্রতারণার শিকার হন প্রবাসী ওয়াসিম।

প্রকৃতপক্ষে, জমিটি একই গ্রামের মো. বাবলুদের পৈত্রিক সম্পত্তি বলে দাবি করা হয়। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আদালতে মামলা চলছিল। পরবর্তীতে আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে বাদীর পক্ষে রায় দেন। সেই রায়ের আলোকে মঙ্গলবার আদালতের নির্দেশে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

উচ্ছেদ অভিযানে উপস্থিত ছিলেন ফরিদগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ.আর.এম. জাহিদ হাসান এবং সংশ্লিষ্ট আদালতের কর্মকর্তারা। অভিযানে প্রবাসীর পরিবারের বসতঘরসহ পুরো ১৭ শতক জমি উদ্ধার করা হয়।

ভুক্তভোগী প্রবাসীর স্ত্রী রেহানা আক্তার জানান, “আমার স্বামী চার বছর আগে প্রবাসে কঠোর পরিশ্রমের টাকা দিয়ে জমিটি কিনেছিলেন। কিন্তু বিক্রেতাদের প্রতারণার কারণে আজ আমরা সব হারিয়েছি। উচ্ছেদের আগে আমরা কোনো নোটিশ পাইনি। এখন আমাদের খোলা আকাশের নিচে থাকা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।”

এ সময় প্রবাসীর বৃদ্ধা মা ফাতেমা বেগমকে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়।

স্থানীয়রা এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রতারকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে মামলার বাদী মো. বাবলু বলেন, “পরিবারটির জন্য আমাদের সহানুভূতি রয়েছে। তবে আদালতের রায় অনুযায়ী আমরা আমাদের সম্পত্তির দখল বুঝে নিয়েছি। আইনগত সব প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে।”

এদিকে জমি বিক্রেতা মো. গিয়াস উদ্দিন, শাহাবুদ্দিন ও আলাউদ্দিন আল মুন্নার বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। মুঠোফোনেও সংযোগ মেলেনি।

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, জমি ক্রয়ের আগে যথাযথ যাচাই-বাছাই না করলে এমন প্রতারণার শিকার হওয়ার ঝুঁকি থেকেই যায়।

প্রতিবেদক: শিমুল হাছান,
৭ এপ্রিল ২০২৬