ফরিদগঞ্জে নেশার টাকা না পেয়ে ‘কুরআন পোড়ালো’ যুবক

ইফতারের পর নামায শেষে পবিত্র কুরআন শরীফ পড়ছিল মা সুফিয়া বেগম। সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে নেশাগ্রস্ত যুবক আবু জাফর সোহাগ(৩৫) নেশার টাকার জন্য মায়ের সাথে কথা কটাকাটিতে জড়িয়ে পড়েন। তখনও মা কুরআন শরীফের সামনে বসে ছিলেন। এক পর্যায়ে মায়ের হাত থেকে কুরআন শরীফ কেড়ে নিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় নেশাগ্রস্ত যুবক।

শরীর শিউরে উঠা এই লোমহর্ষক ঘটনাটি বৃহস্পতিবার (১০ জুন) ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৩ নং সুবিদপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের জমাদ্দার বাড়িতে ঘটে। পাষান্ড এই যুবক জমাদ্দার বাড়ীর প্রবাসী হান্নানের ছেলে।
সোমবার (১৩ জুন) দুপুর উত্তপ্ত গ্রাামবাসী লক্ষ্মীপুর চৌরাস্তা এলাকায় সোহাগকে গণধোলাই দিয়েছে। স্থানীয় দোকানদার জসিম উদ্দিন ও সাজু বলেন, ‘সোমবার জোহরের নামাযের পর এলাকার সব মসজিদ থেকে সোহাগের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলের পর সোহাগকে খুঁজে এনে গণধোলাই দেয়।’
তার আগে রোববার (১২ জুন) রাতে ইউপি চেয়ারম্যান মাওলানা শারাফাত উল্যাহ ও ইউপি সদস্য মো. দুলাল হোসেন বিষয়টি নিয়ে বৈঠকে বসে আবু জাফর সোহাগকে তওবা করিয়ে হুঁশিয়ারী করে দেন।

জানতে চাইলে ইউপি চেয়ারম্যান মাওলানা শরাফাত উল¬্যাহ তওবা করানোর বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, এ ধরণের ঘটনার খবর পেয়েছি। আইননুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পাষা- এ যুবকের চাচা ইউপি সদস্য মো. দুলাল হোসেন কুরআন পুড়িয়ে দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে চাঁদপুর টাইমসকে বলেন, ‘এ ধরণের জঘণ্য কাজের জন্য আমরা মর্মাহত। গ্রামবাসীদের নিয়ে তার বিচার করা হবে।’

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী জমাদ্দার বাড়ীর শাহআলম (৫০) ও সিরাজুল ইসলাম (৬০) ঘটনার বিবরণে বলেন, ‘তার মায়ের চিৎকারের পর আমরা এসে কুরআন শরীফের আগুন জ্বলতে দেখেছি। নিভানোর চেষ্টা করেও লাভ হয়নি। আগেই কুরআন শরীফের প্রায় ৭০ শতাংশ পুড়ে গেছে। সোহাগ মা-বাবার অবাধ্য ছেলে। সব সময় নেশাগ্রস্ত অবস্থায় থাকে। মায়ের সাথে প্রায় ঝগড়া করে।’

এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম চাঁদপুর টাইমসকে বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। ছেলেটি মানুষিক রোগী বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে।’

প্রতিবেদক- জহিরুল ইসলাম জয়, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

: আপডেট, বাংলাদেশ সময় ০৮:১০ পিএম, ১৩ জুন ২০১৬, সোমবার
ডিএইচ

Share