ফরিদগঞ্জে ১৩ দিনের নবজাতক রেখে প্রবাসী স্ত্রীর আত্মহত্যা
মাত্র তেরো দিনের এক নবজাতক ও তিন বছরের অপর এক সন্তানকে রেখে চিরতরে না ফেরার দেশে চলে গেলেন সুইটি আক্তার (২২) নামের এক প্রবাসীর স্ত্রী। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার পারিবারিক কলহের জেরে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে এই আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে।
বুধবার (২৮শে অক্টোবর) ভোররাতে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নের হর্নি দুর্গাপুর গ্রামের মোস্তফা রাঢ়ীর বাড়িতে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।
নিহত সুইটি আক্তারের স্বামী মোহাম্মদ হোসেন দীর্ঘদিন ধরে কাতার প্রবাসী।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সদ্য জন্ম নেওয়া নবজাতককে নিয়ে সুইটি আক্তার নিজ বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। ঘটনার দিন গভীর রাতে প্রবাসী স্বামী মোহাম্মদ হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে সুইটির কথা কাটাকাটি হয়। পরিবারের ধারণা, ওই কথাকাটাকাটির জেরে চরম অভিমান ও মানসিক অবসাদ থেকেই রাতের কোনো এক সময়ে বসতঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহননের পথ বেছে নেন তিনি। ভোরে পরিবারের লোকজন তাঁর ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে ফরিদগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আবু হানিফ সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেন।
ঘটনার বিষয়ে প্রবাসী স্বামী মোহাম্মদ হোসেনের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সুইটির কোলজুড়ে ছোট সন্তান থাকায় তিনি বাবার বাড়িতে ছিলেন। তবে ঠিক কী কারণে তিনি এই চরম পদক্ষেপ নিলেন, সে বিষয়ে তাঁর বাবার বাড়ির লোকজনই ভালো বলতে পারবেন।
অন্যদিকে, ঘটনার পর থেকে নিহতের ভাই বিল্লাল হোসেনসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা শোকেহত থাকায় গণমাধ্যমের সাথে কোনো কথা বলতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. এরশাদ উল্লা বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে এটি আত্মহত্যা বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা রুজু করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে আইনগত অন্যান্য প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
প্রতিবেদক: শিমুল হাছান,
২৮ অক্টোবর ২০২৬