ফরিদগঞ্জে টাকার অভাবে চিকিৎসা বন্ধ দিনমজুর জাকিরের

দিনমজুরের কাজ করে কোনোরকমে সংসার চালাতেন মো. শাকিল হোসেন জাকির। তার দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভর করেই চলত স্ত্রী ও তিন সন্তানসহ পাঁচ সদস্যের পরিবার। কিন্তু কাজ করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় আহত হওয়ায় এখন অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন তিনি। অর্থের অভাবে প্রয়োজনীয় অপারেশন ও ওষুধ কিনতে না পারায় গত ১৫ দিন ধরে চিকিৎসাবিহীন অবস্থায় বাড়ির বিছানায় কাতরাচ্ছেন জাকির।

জানা গেছে, চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা উত্তর ইউনিয়নের পশ্চিম গাব্দেরগাঁও গ্রামের বাসিন্দা মো. শাকিল হোসেন জাকির ওই এলাকার মৃত মো. আবুল হোসেনের ছেলে। দিনমজুরি করেই তার সংসারের যাবতীয় খরচ নির্বাহ হতো।

স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (৫ জানুয়ারি) প্রতিদিনের মতো পাশ্ববর্তী একটি গ্রামে শ্রমিকের কাজ করতে যান জাকির। কাজের একপর্যায়ে গাছ থেকে পড়ে গিয়ে মারাত্মকভাবে আহত হন তিনি। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান, তার বাঁ হাত দু’খণ্ড হয়ে গেছে এবং দ্রুত অপারেশন প্রয়োজন।

প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অর্থাভাবে উন্নত চিকিৎসা নিতে না পেরে তাকে বাড়িতে ফিরতে হয়। এরপর থেকেই তিনি তীব্র যন্ত্রণায় দিন কাটাচ্ছেন। আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সংসার চালানোও কঠিন হয়ে পড়েছে তার পরিবারের জন্য।

জাকিরের প্রতিবেশীরা জানান, “জাকিরের উপার্জনেই পরিবারটি চলত। এখন সে নিজেই শয্যাশায়ী। চিকিৎসার অভাবে তার অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। সরকার বা সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে এলে তার চিকিৎসা করা সম্ভব হবে।”

এ বিষয়ে অসহায় দিনমজুর মো. শাকিল হোসেন জাকির বলেন, “আমার হাতের অপারেশন ও প্রয়োজনীয় ওষুধের জন্য প্রায় এক লাখ টাকা দরকার। বর্তমানে টাকা না থাকায় ওষুধও কিনতে পারছি না। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে খুব কষ্টে আছি। কেউ যদি আমাকে সহযোগিতা করেন, তাহলে আমি আবার সুস্থ হয়ে কাজে ফিরতে পারবো।”

ফরিদগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান মিরাজ বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। লিখিত আবেদন পেলে বিধি অনুযায়ী তাকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হবে।”

এদিকে জাকিরের পরিবার তার চিকিৎসার জন্য সমাজের হৃদয়বান ও বিত্তশালী ব্যক্তিদের পাশাপাশি সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের জরুরি সহায়তা কামনা করেছে। সহযোগিতার জন্য জাকির হোসেন শাকিলের ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বর: ০১৯১৩৮৪২৩৫৩।

প্রতিবেদক: শিমুল হাছান,
২১ জানুয়ারি ২০২৬