ফরিদগঞ্জে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে পাটবীজ বিতরণ

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে দীর্ঘদিন পাট চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া কৃষকদের আবারও পাট চাষে আগ্রহী করে তুলতে উদ্যোগ নিয়েছে কৃষি বিভাগ। এর অংশ হিসেবে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে পাটবীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল ) ২০২৫-২৬ অর্থবছরের খরিপ-১ মৌসুমে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে এই সহায়তা প্রদান করা হয়। কর্মসূচির আওতায় ৩৫০ জন কৃষকের মাঝে আউশ ধান ও পাটের বীজ এবং সার বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে আরও ২০০ জন কৃষককে পাটের বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কল্লোল কিশোর কর্মকারের সভাপতিত্বে আয়োজিত বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়া।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ফাহিম হোসেন, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন এবং ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম ফরহাদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আওতায় প্রতিজন কৃষককে ১ কেজি পাটবীজ, ৫ কেজি ডিএপি ও ৫ কেজি পটাশ সার দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে উপজেলা পরিষদের সহায়তায় প্রতিজন পাটচাষী পেয়েছেন ১ কেজি বীজ, ১০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি পটাশ সার।

উল্লেখ্য, পরিবেশবান্ধব বিকল্প হিসেবে পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বাড়াতে সরকার ইতোমধ্যে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে পলিথিনের বিকল্প হিসেবে পাটের তৈরি ব্যাগ বাজারজাতের প্রচেষ্টা জোরদার করা হয়েছে। তবে বাস্তব চিত্রে ফরিদগঞ্জে গত কয়েক বছর ধরে পাট চাষে আগ্রহ কমে আসছিল।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত বছর উপজেলায় ১৪৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হলেও চলতি বছর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪৭ হেক্টরে। যদিও এই বৃদ্ধি সামান্য, তবুও সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন-সরকারি প্রণোদনা ও সচেতনতামূলক উদ্যোগের ফলে পাট চাষে কৃষকদের আগ্রহ ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাবে।

স্থানীয় কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, পাটের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে এ ধরনের সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

প্রতিবেদক: শিমুল হাছান,
২ এপ্রিল ২০২৬