ফরিদগঞ্জ

ফরিদগঞ্জের গ্রামীণ রাস্তাগুলো যেনো ডোবা-নালা

ফরিদগঞ্জের রাস্তাগুলো যেনো মরণফাঁদ (২)

ফরিদগঞ্জে গ্রামীণ কেয়ার রাস্তাগুলোও বর্তমানে অনেকটা মাছের খামার কিংবা ডোবা নালার মতো হয়ে গেছে। একটি গর্ত জেনো এক একটি মাছের খামারের মত। রিক্সা চালক হুমায়ুনের এ কথার সাথে পথচারীরাও সায় দেন। সচেতন গ্রামামবাসী ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ ‘ভাঙ্গা রাস্তা ফরিদগঞ্জের উন্নয়নে অন্তরায়’ যা স্থানীয় সাংসদসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিতে এখনো আসতে পারেনি।

ফরিদগঞ্জের বেশীরভাগ রাস্তার দশাই যেনো ভয়াল। এ উপজেলার উল্লেখযোগ্য রাস্তাাগুলোর মধ্যে চাঁন্দ্রা, গাজীপুর, পাইকপাড়া, ভোটাল, আষ্টা রাস্তাসহ বেশিরভাগগুলোই বিএনপি জোটের আমলে করা। পরবর্তীতে এগুলো তেমন কোনো সংস্কার করা হয়নি। বর্তমানে গ্রামীণ কেয়ার রাস্তাগুলো ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে যাত্রীবাহী বড় তো দূরের কথা ছোট ধরনের যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে গেছে।

ফরিদগঞ্জ উপজেলার একটা বিশাল অংশের জনগণ এই এলাকাগুলোতে বসবাস করে। কিন্তু এসব গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলো জেনো এক রকম মরন ফাঁদে পরিণত হয়েছে।

আমজাদ আলী নামের একজন জানান, গ্রাম এলাকা বলে অনেকেই হয়তো এর খবর রাখে না। রাাস্তাগুলো এতটাই ভাঙ্গা আর গর্তে ভরা যে শীত ও বর্ষায় দুই রূপ ধারন করে রাস্তা। বর্ষার মৌসুমে বৃষ্টির ফলে গর্তগুলো রূপ নেয় মরন ফাঁদে।’

রিক্সা চালক হুমায়ুনের সাথে আলাপ কালে তিনি বলেন, ‘বর্ষায় নাকি গর্তগুলোতে মাছ চাষ করা যাবে! গর্তগুলোতে পানি জমার ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনার স্বীকার হতে হয় পথচারীরা।’

শুষ্ক মৌসুমে গর্ত আর বালির ফলে ভূক্তভোগী পথচারীদের ভোগান্তির মাত্রাটা যেনো আরেকটু বেড়ে যায়।

ধুলো বালির ফলে পথচারীদের শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যায় ভূগতে হয়। প্রতিদিন এ রাস্তাগুলো দিয়ে হাজার ও পথচারীর চলাচল। কেউ স্কুলে, কেউ বা কলেজে আবার কেউ নিজ কর্মস্থলে পৌছাতে ও এ রাস্তাগুলো ব্যাবহার করেন।

অপরদিকে খানা-খন্দে ভরা রাস্তাগুলো দিয়ে শহর থেকে অনেক গাড়ী চালকই আসতে চান না। ফলে রোগী কিংবা লাশের গাড়ী নিয়ে আসতে গেলে ভাড়া গুনতে হয় স্বাভাবিকের চেয়ে ৫০-৬০ গুনের মতো। এছাড়া কেউ হঠাৎ অসুস্থ হলে এ্যাম্বুলেন্সযোগে সঠিক সময়ে হাসপাতালে পৌঁছারও কোনো নিশ্চয়তা নেই।

আর স্বাভাবিকভাবে ছোটোখাটো যানবহানের মধ্যে সিএনজি, ব্যাটারী চালিত অটো বাইক, বিমান বন্দর থেকে প্রবাসী যাত্রীদের নিয়ে আসা প্রাইভেটকারগুলো কোনোভাবে এসব রাস্তায় প্রবেশ করতে চান না।

সম্প্রতি ফরিদগঞ্জে মার্কেন্টাইল ব্যাংকে অগ্নিকা-ের বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করে একজন বাসিন্দা জানান, যদি আমাদের এলাকার কোন জায়গায় আগুন লাগে, তখন চাঁদপুর ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিতে হয়, যেহেতু ফরিদগঞ্জে কোনো ফায়ার স্টেশন নেই। আর তখন চাঁদপুর থেকে এ রাস্তা দিয়ে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ী আসতে আসতে সব ভস্মিভূত হয়ে যাবে।

দেলোয়ার হোসাইন

নিউজ ডেস্ক : আপডেট ০২:৩০ এএম, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, শক্রবার

ডিএইচ

Share