ফরিদগঞ্জবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ঐক্যের আহ্বান ডা. আবুল কালাম আজাদের

চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনের রাজনীতিতে সক্রিয় ব্যক্তিত্ব উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক মানবিক ডা. আবুল কালাম আজাদ ফরিদগঞ্জবাসীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়ে এক বিবৃতি প্রদান করেছেন। তিনি দল, মত, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বিবৃতিতে ডা. আজাদ বলেন, ফরিদগঞ্জ উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন—যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল ও শ্রমিক দলের সাংগঠনিক দায়িত্বে থাকা নেতাকর্মীরা সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়কবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট সকল নেতার প্রতি বিশেষ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

তিনি উল্লেখ করেন, ফরিদগঞ্জের জাতীয়তাবাদী আদর্শের কর্মীসমর্থকরা আলহাজ এম এ হান্নানের পক্ষে থেকে গণমানুষের স্বার্থ রক্ষায় নিজেদের রাজনৈতিক পদ-পদবি বিসর্জন দিয়ে ত্যাগের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। নানা প্রতিকূলতা ও সাংগঠনিক চাপে থেকেও তারা ঐক্যবদ্ধ অবস্থান বজায় রেখেছেন।

ডা. আজাদ প্রবাসে অবস্থানরত ফরিদগঞ্জবাসীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান।

তিনি বলেন, দূরদেশে থেকেও যারা এলাকার সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন এবং নির্বাচনকে ঘিরে জনমত গঠনে ভূমিকা রেখেছেন, তাদের অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। পাশাপাশি অনলাইন ও অফলাইনে সক্রিয় শুভানুধ্যায়ীদের ভূমিকাও তিনি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে উল্লেখ করেন।

সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নেওয়া ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকদের প্রতিও তিনি ধন্যবাদ জানান। বিশেষভাবে তিনি সেই সকল মা-বোন ও মুরুব্বিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, যারা নফল ইবাদত ও কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে দোয়া করেছেন।

নির্বাচনী প্রচারণাকালে তার বক্তব্য বা আচরণে কেউ অনিচ্ছাকৃতভাবে কষ্ট পেয়ে থাকলে তিনি আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

বিবৃতির শেষাংশে ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, “আসুন, আমরা সকলে আমাদের প্রিয় জন্মভূমি ফরিদগঞ্জের উন্নয়ন ও অগ্রগতির স্বার্থে সব রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করি।”

তিনি আরো বলেন, এ নির্বাচনে আমারা ব্যাক্তির বিরুদ্ধে নির্বাচন করেছি। আমাদের প্রান প্রিয় নেতা গরিব দুঃখী মেহনতি মানুষের বন্ধু দানবির আলহাজ এমএ হান্নান সাহেব দীর্ঘদিন দলের দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের নিয়ে একসঙ্গে রাজনীতি করেছেন। এ নির্বাচনে জনসাধারণ ও অবহেলিত নেতাকর্মীদের অনুরোধে আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি এবং সকলে মিলে আমাদের জয়ী করছেন। তাই কেউ কোন কিছুতেই বিচলিত হবেন না। আমার পূর্বের ন্যায় সব সময় অপম জনসাধারণের সাথে থাকবো।

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এম এ হান্নান ‘চিংড়ি’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দলের ভেতরে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত ও বহিষ্কারের মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তবুও একাংশ নেতাকর্মী ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে থেকে কাজ করেন এবং শত বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে শেষ পর্যন্ত চিংড়ি প্রতীকের বিজয় নিশ্চিত করেন।

প্রতিবেদক: শিমুল হাছান,
১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬