প্রভাতী,সাপ্তাহিক হাজীগঞ্জ এবং হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের প্রেক্ষাপট (২য় পর্ব )
অধ্যক্ষ ড.মো.আলমগীর কবির পাটওয়ারী
সাপ্তাহিক হাজীগঞ্জ এবং হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাব প্রসঙ্গ : সময় কেটে গেলো অনেক। বিদেশে ট্রাভেল এজেন্সির ম্যানেজার হিসেবে চাকুরি করেছি। বাবার মৃত্যুজনিত কারণে দেশে আসতে হলো। বাবার অছিয়ত রক্ষা করতে গিয়ে হাজীগঞ্জ নিজের এলাকায় ফিরে আসতে হলো। ওয়াক্ফ এস্টেটের দায়িত্ব নিতে হলো। পাশাপাশি মহিলা কলেজের প্রতিষ্ঠাকালীন কার্যক্রম থেকে প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। এ দু’প্রতিষ্ঠানের ঝামেলাপূর্ণ কর্মযজ্ঞ সম্পাদনের মধ্য দিয়ে সামাজিক দায়িত্ব পালন করছি। অতীতের প্রেরণায় এক সময় মনে হলো হাজীগঞ্জ থেকে একটি পত্রিকা বের করবো।
তবে নিয়মিত পত্রিকার খোরাক তথ্য-উপাত্ত, লেখা-লেখির জন্য লেখক, সাংবাদিকের প্রয়োজন। তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহে তাদের লেখা লেখির বিকল্প নেই। সেই ভাবনা চিন্তার ফসল নিয়মিত তুলতে হলে লেখালেখি এবং তথ্য সংগ্রহের জন্য হাজীগঞ্জে সাংবাদিক সৃষ্টি করা প্রয়োজন। সাংবাদিকতায় আগ্রহী এমন মানুষ সারা দেশের ন্যায় হাজীগঞ্জ উপজেলা পর্যায়ে তেমন ছিল না বললেই চলে। এমন কি সারা দেশে জেলা পর্যায়েই পত্রিকা কম। থানায় বা উপজেলার কথা বাদই দিলাম।
সে সময় উপজেলা পর্যায়ে পত্রিকা নেই বললেই চলে। পত্রিকা বের করলে তার খোরাক লেখা লেখি নিয়মিতভাবে পত্রিকায় যোগান পাওয়া কষ্টকর। এ কথা জেনেও পত্রিকা বের করার চিন্তা নিয়েই বিচরণ করছি। এ ভাবনা নিয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়ে আপাতত ভাবছি। এক পর্যায়ে স্কুল এবং কলেজে পড়া লেখা করেছে তাদের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টির চেষ্টা করি।
আগ্রহীদেরকে উৎসাহি করে ধরে রাখতে পারলে তাদেরকে পত্রিকায় সংশ্লিষ্ট করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে প্রেসক্লাব গঠনের চিন্তা চেতনার বিষয়টিতে বাস্তবায়নে অগ্রসর হওয়া সহজ হবে। এ সকল ভাবনা চিন্তা নিয়ে স্বপ্নের পথ চলা। পথ চলতে চলতে, এক পর্যায়ে হাজীগঞ্জ থেকে পত্রিকা বের করার বিষয়টি বাস্তবতার আলোকে ভালোভাবে বুঝার জন্য চাঁদপুর থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক চাঁদপুর এর প্রকাশক ও সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া জীবন ভাইয়ের বাসায় গেলাম। ওনার বাসায় পত্রিকার অফিস। তিনি দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি, ভালো মানুষ, সহজ-সরল মানুষ। তিনি পত্রিকা প্রকাশের বিষয়ে আমার আগ্রহ দেখে আমাকে সহযোগিতা করবেন বলে উৎসাহিত করেন। পরবর্তীতে তিনি তার সাপ্তাহিক পত্রিকায় সংবাদকর্মী আবশ্যক মর্মে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে আমাকে কৃতজ্ঞতার পাশে আবদ্ধ করে ছিলেন।
বিজ্ঞপ্তির বিষয়ের প্রেক্ষিতে আগ্রহী যারা যোগাযোগ করেছে তাদেরকে উৎসাহিত করলাম। অনেক বন্ধুদের মধ্যে আনোয়ার হোসেন বতু মিজি, আমার স্কুল জীবনের বন্ধু। সে আগে কখনো পত্র-পত্রিকায় না লিখলেও তার লেখালেখির হাত ভালো। কাজ-কর্মে নিবেদিত। সাহসী রাজনীতিবিদ, ভালো বক্তা। স্কুল জীবনে আমি হাজীগঞ্জ পাইলট হাই স্কুলে প্রফেসর মোজাফ্ফর স্যারের সংগঠন ‘মোজাফ্ফর ন্যাপের’ ছাত্র সংগঠন ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি ছিলাম। আর আনোয়ার হোসেন বতু বঙ্গবন্ধুৃ শেখ মুজিবর রহমানের মুজিববাদী ছাত্রলীগের সভাপতি ছিল।
দু’জন দু’ মেরুতে রাজনৈতিক বক্তব্যের মঞ্চে রাজনৈতিক বক্তব্যে প্রতিপক্ষের ভূমিকায় ছিলাম। কিন্তু আড্ডা দিতাম একসাথে। পূর্ব বাজারে তাদের ধানের ব্যবসার জন্যে গদি ঘর ছিল। তখন পূর্ব বাজার বলতে ধান পট্টিকে বুঝাতো। বতু অনেক সৌখিন মানুষ। এক সময়ে হুন্ডা নিয়ে চলতো। যা সে সময় ছিলো বিরল। পরবর্তীতে প্রাইভেট কারও ব্যবহার করতো ।
ছাত্র জীবনে ভালো ছাত্র ছিল এবং আমার ভালো বন্ধু। শাহ জামাল তালুকদার, কাজী নুরুল ইসলাম, মুন্সি বাড়ির ফারুক আহমেদ বাদল, ফখরুল ইসলাম, মমিন সরকার, আনোয়ার হোসেন সহ আরো অনেক বন্ধুরা আমার প্রতি অনেক আন্তরিক ছিলো। এদের মধ্যে পত্রিকা সংক্রান্ত বিষয়ে আনোয়ার হোসেন বতুকে তার আগ্রহের কারণে সাথে নিলাম। যেহেতু সে লিখতে পারে, আমাকে সময় দেয়, দলীয় কারণে বাজারের উপর তার অবস্থান আছে। তার সাথে দেলোয়ার হোসেন দেলু মিয়াজী বা দেলু ভাই, হলুদ পট্রির মোহাম্মদ হোসেন মিয়াজী, আলী আশরাফ দুলাল,হাসমত উল্লাহ হাসু ভাই,ইকবালুজ্জামান ফারুক সাধারণত একত্রে চলাফেরা করতো। আমরা একত্রে আড্ডা দিতাম। এ আড্ডা সামাজিকতা মাত্র। আনোয়ার হোসেন বতুর কারণে আমার সাথে ওনারা অনেক বেশি সম্পৃক্ত হয়ে ছিলেন। বড় মসজিদের হুজরা খানার দো’তলায় আমরা একত্রে বসতাম, চা চক্র হতো, নানামুখী আলোচনা হতো, গল্প-গুজবে সময় কেটে যেতো।
একত্রিত না হলে ভালোই লাগতো না। সব কিছুর মধ্যে দিয়ে আমার ধ্যান ধারণা এবং উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যে হচ্ছে পত্রিকা, সংবাদকর্মী তৈরি এবং প্রেসক্লাব গঠন। পত্রিকা বের করাই ছিল মূল প্রতিপাদ্য বিষয়। সে সময় আগ্রহী সংবাদকর্মী বের করা এবং তৈরি করা সহজ ছিলো না। সংবাদপত্র টিকিয়ে রাখতে গেলে সংবাদ সংগ্রহে আগ্রহী সংবাদকর্মীদেরকে উৎসাহিত করতে পারলে পত্রিকায় লেখা-লেখি পাওয়ার সমস্যা অনেকটা দূরীভূত হবে। এক কথায় বলতে গেলে, আগে তো কলা গাছের বাগান, তারপর হাতি পোষা। দু’টির সমন্বয় যেমন পরিপূরক, তেমনি সংবাদপত্রের সাথে সাংবাদিকও অবিচ্ছেদ্য অংশ। এসব বিবেচনায় পত্রিকা চালু হওয়ার পাশাপাশি, সংবাদকর্মী, সাংবাদিক সংগ্রহ, তৈরি করা তা সাংগঠনিকভাবে টিকিয়ে রাখার লক্ষ্যে ভাবনা হচ্ছে পত্রিকা এবং প্রেসক্লাব।
দু’ মিলে প্রেসক্লাব গঠন করা যাবে। সাংগঠনিক কাজের ধারাবাহিকতায় যা শিখেছি তার সোপান হিসেবে প্রেসক্লাব গঠনের লক্ষ্যে প্রথম ধাপে ‘আহ্বায়ক কমিটি’ গঠন করি। ৩ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটিতে আমি আলমগীর কবির আহ্বায়ক, এক সময় হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের ছাত্র সংসদের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন দেলু ভাই সিনিয়র সদস্য এবং আমার বন্ধু আনোয়ার হোসেন বতু সদস্য। এ ৩ জনকে নিয়ে ৭ আগস্ট ১৯৯৪ প্রেসক্লাব গঠনের জন্য আহ্বায়ক কমিটি গঠন করি। বিভিন্নমুখী চিন্তা ভাবনার পাশাপাশি পত্রিকা প্রকাশ করার বিষয়ে তাঁর অনুমোদন পাওয়া আবশ্যক। অনুমোদন না পেলে তা হবে লজ্জার। অনুমোদন পাওয়ার পর খবর সংগ্রহ করে যাচাই-বাছাই করে নিয়মিত ভাবে লেটার প্রেসে পত্রিকা প্রকাশ করাও কঠিন। একান্তই পত্রিকা সম্পর্কিত কাজে নিয়মিত পত্রিকা প্রকাশের জন্য একজন অভিজ্ঞ মানুষ অপরিহার্য। অন্যের ক্ষতি না করে নিয়মিত পত্রিকা প্রকাশ এবং মান ধরে রাখার লক্ষ্য বাস্তবায়ন আরো কঠিন।
উপজেলা চেয়ারম্যান এম.এ মতিন স্যারের টেবিলে সাংবাদিক ইকরাম চৌধুরীর সাথে পরিচয় হয়। মসজিদ অফিসে আসার দাওয়াত করি। জুমায়াকে উপলক্ষ করে তিনি মসজিদ অফিসে আসেন। তাঁর সাথে ঘনিষ্ট হলাম। সহযোগিতা চাইলাম। ইকরাম চৌধুরী সাহের খোলা মনের ও বড় হৃদয়ের মানুষ। এটাই তাঁর বংশানুক্রমিক যোগ্যতা বলে আমার মনে হলো। অনেক আগ্রহ ভরে তিনি আমাকে সহযোগিতার মনোভাব প্রকাশ করলেন। পত্রিকা প্রকাশ করার জন্য ‘হাজীগঞ্জ প্রেস’ এ নামে লেটার প্রিন্টিং প্রেস বসানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছি।
সাপ্তাহিক পত্রিকা ছাপানোর জন্যে প্রেস বসানোর কথা শুনে আরো অবাক হলেন। পত্রিকা প্রকাশনার কাজে তিনি নিজেই প্রস্তাব করলেন কাজী শাহদাত ভাই এর কথা। যদিও এর পূর্বে শাহাদাত ভাইয়ের সাথে আমার পরিচয় হওয়ার সুযোগ হয় নি। তিনি আরো বলেন- কাজী শাহদাতের বাড়ি হাজীগঞ্জের বলাখালে। তিনি ওনার চেয়ে বেশি সহযোগিতা করতে পারবেন।
তাঁকে যুক্ত করার প্রস্তাব ও পরামর্শ দেন। কাজী শাহাদাতের নাম পেয়ে আমি আরো খুশি হলাম,আশ্বস্থ হলাম, ভরসার জায়গা পেলাম। একদিন শাহদাত সাহেবের সাথে কথা বলার জন্য চাঁদপুর গেলাম। চাঁদপুর সরকারি কলেজের সামনে একটি ঘরে বসে পত্রিকার কাজ করছেন। সুন্দর হাতের লেখা। সংবাদ কাটাকাটি করছেন। আমাকে বসতে বললেন। আলোচনা করতে করতে পত্রিকা প্রকাশ সংক্রান্ত বিষয়ে সম্পর্কে বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত কথা হলো। পত্রিকা প্রকাশের কাজে অগ্রগতি সম্পর্কে আলোচনা হলো। সময় দিতে রাজি হলেন। ওনার আগ্রহে আমি অনেকটা নিশ্চিন্ত হলাম।
ওয়াক্ফ এস্টেট বা মসজিদের হুজরার দো’তলায় পত্রিকা প্রকাশ সংক্রান্ত বিষয় মোতাবেক দায়িত্ব ভাগ করে দিলাম। পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে আমাকেই সম্পাদকীয় দায়িত্ব পালন করতে হবে। সংবাদ গুছিয়ে পত্রিকা প্রকাশের দায়িত্ব কাজী শাহাদাত সাহেব পালন করবেন। তিনি প্রতি বৃহস্পতিবার এসে পত্রিকার লেখা-লেখি গুছাবেন। শুক্রবার পত্রিকা প্রকাশিত হবে, বিষয়টি পরিপূর্ণভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে সংশ্লিষ্ট জনদেরকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিলাম। সম্পাদনা পরিষদের সভাপতি হিসেবে অধ্যাপক জাকির স্যারের নাম প্রস্তবনায় উঠে আসলো। কাজী শাহাদাত ভাই ওনাকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রস্তাব করেন।
তৎকালীন চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজের প্রফেসর জাকির স্যার। তিনি আমার দাদাজান সহ আমাদের অতীত এবং ইতিহাস-ঐতিহ্যসহ আমাদের অবদানের বিষয়ে অনেক শ্রদ্ধাভরে কথা বলতেন। তিনি একজন কবি, সাহিত্যিক এবং সম্ভান্ত পরিবারের মানুষ। তাঁর সম্পর্কে আগে থেকেই আমার জানার সুযোগ হয়েছিল। তিনি হাজীগঞ্জ আসলেই মসজিদে নামাজ পড়তেন। হুজরা খানায় বসে আমার সাথে হাজীগঞ্জের নানা প্রসঙ্গ নিয়ে গল্প করতেন। পত্রিকার জন্য এমন একজন গুণী মানুষের প্রয়োজন।
কাজী শাহদাত ভাইও তাঁকে শ্রদ্ধা করতেন । শাহাদাত ভাইয়ের কথা বিবেচনায় নিয়ে আমি অধ্যাপক জাকির স্যারের চাঁদপুরের বাসা কবি সদনে চলে গেলাম। তিনি কবি, সাহিত্যিক এবং শিক্ষক। বড় মনের মানুষ। কিভাবে যে তিনি আমাকে বরণ করেছেন তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। তিনি আমার বাবার কার্যক্রম,পারিবারিক কথাসহ দাদাজানের অবদানের কথা পুনরায় বলতে লাগলেন। মনে হলো বলেই তিনি তৃপ্ত হচ্ছেন। আমিও বিমুগ্ধ চিত্তে কথা শুনছিলাম। এসব বলে আমাকে না খাইয়ে ছাড়লেন না। পত্রিকায় সম্পাদনা পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তাব করলাম। তিনি সন্তুষ্ট চিত্তে আমার প্রস্তাবে রাজি হলেন ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন।
আমি হাজীগঞ্জে এসে পরবর্তীতে হাজীগঞ্জের দু’একজন রাজনীতিবিদ বা সমাজপতির সাথে আলোচনা করা মাত্রই জাকির স্যারের কথা শুনে তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠলেন। মনে হয়েছে আমি প্রফেসর সাহেবকে সম্পাদনা পরিষদের সভাপতি অফার দিয়ে বিশাল ভুল করে ফেলেছি। ওদের সাথে তর্কে জড়ালাম না বরং চুপ থাকলাম। প্রফেসর সাহেবকে সম্মান দিয়েছি। ওনার সম্মান ধরে রাখা আমার দায়িত্ব। ভাবলাম হয়তো ওনার যোগ্যতাকে সমাজ পতিরা স্বীকৃতি দিতে চায় না, সম্মান দিতে চায় না। ওনার যোগ্যতাকে মেনে নিতে কষ্ট হয়। মন হলো ‘আপনা মাংসে হরীনা বৈরী’।
ভালো মানুষ প্রতিহিংসার স্বীকার হবেই। যোগ্যতাকে স্বীকার না করা, ভালোকে ভালো না বলা, এটাই সমাজের নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেউ কাউকে সহ্য করতে চায় না। ভালোকে ভালো বলতে চায় না। বরং ক্ষুত খোঁজে, বদনাম বলে তৃপ্ত হয়। নিজে নিজে তাই বুঝলাম। কাউকে বুঝতে দিলাম না। আমার বিশ্বাস ছিল – আমি ভুল করি নি। এরই মধ্যে পত্রিকার ডিক্লারেশানের কাজে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছি। হঠাৎ একদিন তা’ গ্রহণ করার জন্যে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের দপ্তর থেকে খবর পেলাম।
৬ মার্চ ১৯৯৫ জেলা প্রশাসক মো. গোলাম কিবরিয়া মহোদয় জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে আমার হাতে ডিক্লারেশান স্ট্যাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন। ডিক্লারেশান কাগজ হাতে পেয়ে মহাখুশি। মনে হলো- অনেক বড় প্রাপ্তি হাতে পেলাম। এম.পি মতিন স্যার এ বিষয়ে মৌখিকভাবে সমর্থন দিয়েছেন বলে শুনেছি। ওনার কাছে পত্রিকা অনুমোদনের বিষয়ে আইনানুগ কর্তৃপক্ষ জানতে চাইবেন।
এটা তখন আমার জানা ছিল না। স্যারও অনেক বড় মনের মানুষ। আমি বলার আগেই তিনি নিজ থেকেই সম্মতি দিয়েছেন। পত্রিকা প্রকাশে সহযোগীতায় আমি তার প্রতি কৃতজ্ঞ। পত্রিকা প্রকাশনার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। তখন সারা দেশেই থানা বা উপজেলা পর্যায়ে এবং সরকার কর্তৃক অনুমোদিত মফস্বল পর্যায়ে তেমন পত্রিকা নেই বললেই চলে। জেলার মধ্যে উপজেলা পর্যায়ে পত্রিকা। আমার মনে অনেক উৎসাহ কাজ করছে। সম্পাদক হিসেবে আমার দায়িত্বের অংশ হিসেবে সম্পাদকীয় লিখার কাজ এরই মধ্যে শুরু করেছি।
সরকারিভাবে অনুমোদিত পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে আমার সম্পাদকীয়। তবে এটি আমার দ্বিতীয় সম্পাদকীয়। প্রথমটি ‘প্রভাতী’ নামক দেয়ালিকার সম্পাদকীয় যা মিহির কুমার স্যারের বিশেষ দিক নির্দেশনা ও পরামর্শ মোতাবেক অতি ছোট্ট করে ওনার সহযোগিতায় লিখেছিলাম। সময় গড়িয়েছে অনেক। এখন সাপ্তাহিক হাজীগঞ্জ এর সম্পাদকীয় নিজের চিন্তা চেতনা, ধ্যান-ধারণা এবং স্বপ্নের আলোকে লিখেছি। নিজস্ব প্রেসে পত্রিকা ছাপানোর জন্য রজনীগন্ধ্যা মার্কেটের এখানে প্রিন্টিং প্রেস বসিয়েছি, সম্পাদনা পরিষদ নিয়োগ দিয়েছি। ‘হাজীগঞ্জ প্রেসে’র অফিস কক্ষে সবাই আসা যাওয়া করতেন।
আড্ডা দিতেন, গল্প করতেন, নামাজের সময়ে নামাজ পড়তেন। আমি কলেজ থেকে এসে বসতাম। বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্নমুখী কথা-বার্তা,আলাপ-আলোচনায় আমাদের সময় কেটে যেতো। অনকে আনন্দঘন পরিবেশ ছিল। প্রভাষক সেলিম সাহেব এবং পরে মাহবুবুল আলম চুন্নুও যুক্ত হলেন। আমাদের একত্রে চলাফেরা দেখে অনেকে তিরস্কারও করতেন। কারো কারো বিষয়ে বাজে মন্তব্য করতেন। আমি এ সবকে গুরুত্ব না দিয়ে কাজ করার চিন্তায় ব্যস্ত থাকতাম।
আমাদের সকলের মধ্যে দারুন উৎসাহের মধ্য দিয়ে পত্রিকা প্রকাশের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। পূর্ব সিদ্ধান্ত মোতাবেক বিশেষ দিন হিসেবে ১৪ এপ্রিল ১৯৯৫ পত্রিকার ১ম সংখ্যা প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিলাম। ১ বৈশাখ ১৪০২ বঙ্গাব্দ, ১৩ জিলক্বদ ১৪১৫ হিজরি রোজ শুক্রবার পবিত্র দিনে প্রথম প্রকাশ। উদ্বোধনী সংখ্যা প্রকাশিত হলো। সাপ্তাহিক হাজীগঞ্জ পত্রিকার উদ্বোধনী সংখ্যায় স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থীরাও কবিতা, প্রবন্ধ, রিপোর্ট লিখার কাজে এগিয়ে আসে। আনন্দঘন পরিবেশ। এতো দিনের সব কষ্ট আনন্দের মাঝে ভুলে গেলাম। অনেকটা মা এর মতো।
সাপ্তাহিক হাজীগঞ্জ পত্রিকায় আমার লেখা সম্পাদকীয়তে হাজীগঞ্জকে ঘিরে নিম্নের ৪টি বিষয় গুরুত্বের সাথে তুলে ধরি। যা হাজীগঞ্জবাসী এখন বাস্তবায়ন হতে দেখছে। কিন্তু আমি আজ থেকে ৩০ বছর আগে হাজীগঞ্জকে নিয়ে যে চিন্তা করেছি, যে স্বপ্ন দেখেছি, সে প্রেক্ষিতে আল্লাহপাকের নিকট শুকরিয়া হিসেবে সে বিষয়ে সম্পাদকীয়র আলোকে উল্লেখ করছি যে, প্রত্যাশা জীবনকে সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার দিগন্তে টেনে নেয়। ঐতিহ্যবাহী এবং সম্ভবনাবহুল এ এলাকার শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতির বিকাশ, তথ্যের বিনিময়, প্রতিভার স্ফূরণ এবং সময়ের চাহিদা মোতাবেক একটি পত্রিকার বিকল্প নেই। সেই দিক থেকে আমরা একটু পিছিয়ে। এ দৈন্যেতাকে ঘোচানই হবে সময়ের সর্বোত্তম সেবা। আর সে লক্ষ্যকে সামনে রেখে নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার মাধ্যমে মননশীল পাঠক ও সৃজনশীল লেখক সৃষ্টি করতে পারলে আমি এবং আমার সহযোগীদর সমন্বয়ে এ ক্ষুদ্র প্রয়াস কিছুটা হলেও স্বার্থক হবে।
প্রস্তবনায় প্রেসক্লাব : স্বার্থকতার সফল বাস্তবায়নে পেশাভিত্তিক সংগঠনের ভূমিকা অপরিহার্য। জাতীয় পত্রিকার পাঠক হিসেবে দেশে হাতে গোনা পত্রিকার পাঠকও হাজীগঞ্জে রয়েছে। দু’একটি পত্রিকার স্থানীয় প্রতিনিধিও এখানে কাজ করে যাচ্ছেন। সংবাদকর্মীর অভাবে আজও হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাব গঠিত হয়নি। এলাকার ঐতিহ্যের ধারক হিসেবে জনপ্রতিনিধিদের সমর্থন এবং সার্বিক সহযোগিতায় হজীগঞ্জ প্রেসক্লাব অচিরেই প্রতিষ্ঠিত হওয়ার দাবি রাখে।
প্রস্তবনায় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধ : আবশ্যক কার্যপ্রণালীর স্রোতধারায় শ্রদ্ধার প্রতিভাসে সমুজ্জল মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহ্যকে সমুন্নত রাখতে জাতীয় স্মৃতিসৌধ কিংবা ভাস্কর্য অঙ্গীকারের ধারায় উপজেলা পর্যায়ে হাজীগঞ্জে স্মৃতিসৌধ অবিলম্বে নির্মিত হবে এটাই প্রত্যাশা। প্রত্যাশার আলোক বলয়ের ঘূর্ণায়মান চাকায় ঘাত-প্রতিঘাতের সংঘাত অতিক্রম করে দেয় উদ্ভাবনের সন্ধান,তৃপ্ত হয় আত্মা। আত্মতৃপ্তির জন্য মানুষ সমাজে কাজ করে। ‘ভোগে আনন্দ নয়, ত্যাগেই আনন্দ’ এ মহত্বকে মনে প্রাণে বরণ করেই যুগে যুগে বহু সাধক, সমাজ কর্মী সমাজের কল্যাণে বিভিন্ন পেশামূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে অবদান রেখেছেন। যার ফলস্রুতিতে আজকের প্রজন্ম অনেক স্বর্থকতার সুখ ভোগ করছে।
প্রস্তবনায় হাজীগঞ্জ ফাউন্ডেশান : সুখের সামান্য অংশটুকুও যদি আমাদের ত্যাগে অন্যজনকে দিতে পারি সেটাই হবে পরম সুখ। আর তাই আসুন, আলো-আঁধারের দিগন্ত রেখায় চলমান পথে হাজীগঞ্জ এর বৃহত্তর কল্যাণে আরও একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে গড়ে তুলি হাজীগঞ্জ ফাউন্ডেশন। হাজীগঞ্জ ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করা নিশ্চয়ই একটি ভালো কাজ। আল্লাহর উপর ভরসা রেখে গণ মানুষের জন্য কাজ করলে আল্লাহ সফলতা দান করেন। গড়ে উঠবে হাজীগঞ্জ ফাউন্ডেশান।
প্রস্তবনায় হাজীগঞ্জ জেলা : শুভেচ্ছা নন্দিত হাজীগঞ্জ থানা সদর বাংলাদেশের অনেক জেলা সদরের চেয়ে সমৃদ্ধ বলে জনশ্রুতি রয়েছে। হাজীগঞ্জ-রামগঞ্জ সড়কে ডাকাতিয়ার উপর হাজীগঞ্জ সেতুর নির্মাণ কাজ সমাপ্তির পর হাজীগঞ্জ আন্ত:জেলা যোগসূত্রে আরও সমৃদ্ধশালী হবে। উন্নয়নের স্রোতধারায় অনেক জেলা সদরকে হাজীগঞ্জ ছাড়িয়ে যাবে। সময় ও যুগের চাহিদা মোতাবেক প্রতিষ্ঠিত করবে জেলা হিসেবে স্বীকৃতির দাবি। সে দাবিতে প্রশাসনের বৃহত্তর প্রয়োজনে দেশের জেলা তালিকা লিপিতে সংযোজন করবে ‘হাজীগঞ্জ জেলা’।
কৃতজ্ঞতার বরণঢালা হাতে নিয়ে পরম করুনাময়ের নিকট প্রার্থনা আল্লাহ আমাদেরকে ভালো কাজ করার তৌফিক দিন, সফলতা দান করুন- আমিন। উপরোক্ত ৪টি প্রস্তবনা আমার দ্বারা লিখিত সাপ্তাহিক হাজীগঞ্জের প্রথম সম্পাদকীয়তে উল্লেখ করি। ইতোপূর্বে,পত্রিকায় সম্পাদনা পরিষদে যাদেরকে অবস্থান দেয়া দরকার তা চূড়ান্ত করে দায়িত্ব ভাগ করে যে দায়িত্ব দিয়েছিলাম। তাঁরা হলেন : প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক আমি অধ্যক্ষ আলমগীর কবির পাটওয়ারী নিজে। সম্পাদনা পরিষদের সভাপতি- অধ্যাপক কবি জাকির হোসেন মজুমদার, যুগ্ম-সম্পাদক- কাজী শাহদাত, নির্বাহী সম্পাদক- আলী আশরাফ দুলাল, বার্তা সম্পাদক- আনোয়া হোসেন বতু, ম্যানেজার- দেলোয়ার হোসেন, সার্কুলেশান ম্যানেজার- আনোয়ারুল হক, বিজ্ঞাপন ম্যানেজার- মো. হোসন পাটওয়ারী। পত্রিকার ডিক্লারেশন মোতাবেক মুদ্রণে শওকত প্রিন্টার্স, হাজীগঞ্জ।
সে সময় পত্রিকা প্রকাশ করা একটা বিশেষ সম্মান এবং গৌরবের ছিল। আমি মনে করতাম পত্রিকা হচ্ছে সাহিত্য, সংস্কৃতি, উন্নয়ন এবং সমৃদ্ধির প্রতীক। এলাকাভিত্তিক এ বিষয়গুলো নিয়ে পজেটিভ ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে। এ চিন্তা চেতনার উপর পত্রিকা সংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট কাজ করে যাচ্ছি। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উল্লেখ্য যে, সে সময় ছাপার কাজ করা অনেক কঠিন ছিল। লেটার বা বর্ণ আলাদা-আলাদা বসিয়ে, একটা একটা শব্দ বানিয়ে বাক্য তৈরি করা অনেক কঠিন ও সময় সাপেক্ষ বিষয় ছিলো। অর্থাৎ পত্রিকার কলাম অনুসারে পাত বসিয়ে নিয়ম মোতাবেক বর্ণ, শব্দ সাইজ ছোট, বড়, মাঝারি যেখানে যা প্রযোজ্য তা সেট করে বাক্য গঠন করা, বানান ঠিক করে, প্রুভ কেটে সব এডজাস্ট করে পত্রিকা বের করা কতটা কষ্টকর, ধৈর্য এবং সময় সাপেক্ষ বিষয় তা দু’চার লাইনে বুঝানো সম্ভব নয়। ঢাকা থেকে কাঠের উপর সিলভারের ব্লকে সাইজ মোতাবেক ছবি বানিয়ে আনতে হতো।
তারপর সেট করতে হতো। অত:পর প্রিন্ট করা হতো। এভাবে দিন রাত কষ্ট করে পত্রিকা বের করতে হয়েছে। পত্রিকার অন্যান্য স্টাফ ছাড়াও আলী আশরাফ দুলাল ভাই এবং কাজী শাহদাত ভাই নিয়মিত স্টাফ হিসেবে দক্ষতা ও আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাদের সাথে প্রিন্টের স্টাফরাও পত্রিকা প্রকাশের পূর্ব রাত অনেক কষ্ট করতেন। পত্রিকা প্রকাশের পরিশ্রম অমূল্য। সাংবাদিকতায় আগ্রহী অধ্যয়নরত আমার কিছু স্নেহধন্য শিক্ষার্থী পর্যায়ক্রমে নিয়মিত এগিয়ে আসে।
তাছাড়া পত্রিকা সংক্রান্ত লেখা-লেখির পাশাপাশি বিভিন্ন কাজে অনেক উৎসাহ উদ্দীপনার সাথে তারা নিবেদিত ছিলো- জাকির মজুমদার, জহিরুল ইসলাম লিটন, হাবিবুর রহমান, খালেকুজ্জামান শামীম, আবু ইউছুফ, মিজানুর রহমান, ইমাম হোসেন মোল্লা, আরিফ ইমাম মিন্টু, গাজী সালাউদ্দিন, ইমাম হোসেন সেন্টু, নূরে আলম পাটওয়ারী প্রমূখ। এরই মধ্যে প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম করে যাচ্ছি। সাপ্তাহিক হাজীগঞ্জ পত্রিকা প্রকাশের স্বপ্ন না দেখলে সে সময় প্রেসক্লাব হতো না। পত্রিকার মূখ্য উপাদান সংবাদ। সংবাদের কারিগর সংবাদকর্মী, সাংবাদিক। পত্রিকা প্রকাশের জন্য পত্রিকার রিপোর্টার, সাংবাদিক প্রয়োজন। তাদের বা প্রেস কর্মীদের সংগঠন প্রেসক্লাব।
প্রেসকা¬ব গঠনের স্বপ্ন আমাকে পত্রিকা প্রকাশের অনেক আগে দেখতে হয়েছে। অন্যথায়, পত্রিকা প্রকাশ ও টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। যার কারণে ১ম সংখ্যার সম্পাদকীয়তে আমি হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাব গঠনের প্রস্তাবের বিষয়টি উল্লেখ করা সম্ভব হয়েছে। স্বপ্ন দেখেছি, স্বপ্নকে বাস্তবায়নের পথে হেঁেটছি। প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। কলেজ প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে গিয়ে সংগঠন তৈরির বিধি-বিধান তথা পর্যায়ক্রমিক ধারা যতটুকু জেনেছি সে আলোকে মহিলা মহাবিদ্যালয়ের কার্যকরি কমিটি গঠন সংক্রান্ত প্রক্রিয়া প্রেসক্লাব গঠনে আমার পাথেয় হিসেবে কাজ করেছে।
বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত সময়ে সময়ে প্রথমে মসজিদের হুজরাখানার দো’তলায় পরে হাজীগঞ্জ প্রিন্টিং প্রেসের পিছনের বা উত্তরে পত্রিকার অফিসে সবাই আসতেন, বসতেন ও আলোচনা করতেন। তাতে সুন্দর সময় কেটে যেতো। আর লক্ষ্যে পৌঁছানোর পথ সহজ হয়েছে। ইতোপূর্বে ৩ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটির আমি আলমগীর আহ্বায়ক, দেলু ভাই ও আনোয়ার হোসেন বতু স দস্য। পরবর্তীতে ১৩ সদস্যের ‘সাংগঠনিক কমিটি’ গঠন করি। সাংগঠনিক কমিটির সদস্যরা পূর্ণাঙ্গ প্রেসক্লাব গঠনের প্রধান অংশ হিসেবে কাজ করে।
তারা হলেন : ১. অধ্যক্ষ আলমগীর কবির পাটওয়ারী- সভাপতি, ২. কবি সামছুল হক মোল্লা- সহ-সভাপতি, ৩. আলী আশরাফ দুলাল- সহ-সভাপতি, ৪. ইকবালুজ্জামান ফারুক- সহ-সভাপতি, ৫. অধ্যাপক মাহমুদুল বাসার- সদস্য, ৬. মাহবুবুল আলম চুন্নু- সদস্য, ৭. আমীর হোসেন মজুমদার- সদস্য, ৮. ফারুক-ই-আজম- সদস্য, ৯. কাজী শহীদুজ্জামান ঝুটন- সদস্য, ১০. জাকির মজমদার- সদস্য, ১১. জহিরুল ইসলাম লিটন- সদস্য, ১২. হাবিবুর রহমান- সদস্য, ১৩. আবু ইউছুফ- সদস্য। তাঁদের ভূমিকায় প্রেসক্লাব গঠনের লক্ষ্যে গঠিত সাংগঠনিক কমিটিই জনমনে প্রেসক্লাব হিসেবে ফুটে উঠেছে।
লেখক: ড.মো.আলমগীর কবির পাটওয়ারী, প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ,হাজীগঞ্জ মডেল সরকারি কলেজ, হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর। ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । (২য় পর্ব )