সারাদেশ

প্রেমিকা হত্যার দায়ে কথিত শিক্ষক প্রেমিকের মৃত্যুদণ্ড

‎Monday, ‎01 ‎June, ‎2015  03:47:51 PM

বরিশাল করেসপপন্ডেন্ট, চাঁদপুর টাইমস:

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী সাওদা হত্যা মামলার রায়ে এক সময়ের প্রাইভেট টিউটর ও তার কথিত প্রেমিক রাসেল মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বরিশালের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচার মো. আনোয়ারুল হক আজ সোমবার বেলা ১১টায় এই রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপীলের জন্য ৭ দিনের সময় বেঁধে দিয়েছেন আদালত। রায় ঘোষণার পরপরই পুলিশের বেস্টনীতে একটি বিশেষ প্রিজন ভ্যানে করে রাসেলকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

দণ্ডিত রাসেল মিয়া একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্ট্যাডিজ বিভাগের ২য় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তিনি বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কেরামতপুর গ্রামের হারুন মাতুব্বরের একমাত্র ছেলে। নিহত সাওদা পাশ্ববর্তী হাতেমপুর গ্রামের মাদ্রাসা শিক্ষক মাওলানা আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে ছিলেন। স্কুলজীবনে সাওদার প্রাইভেট শিক্ষক ছিলেন দণ্ডিত রাসেল।

ঘোষিত রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট গিয়াসউদ্দিন কাবুল। এই রায়ের ফলে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং নিহত সাওদার আত্মাও এতে শান্তি পাবে বলে মনে করেন তিনি।

সাওদার পরিবারের পক্ষে আইন ও শালিস কেন্দ্র নিয়োজিত আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ ইমন মনে করেন, দৃষ্টান্তমূলক এই রায়ের ফলে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড নিরুৎসাহিত হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর ঘটবে না।

আসামির ফাঁসির রায় ঘোষণার পরপরই আদালতের বারান্দায় হাউমাউ করে কেঁদে ফেলেন নিহত সাওদার বাবা মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক। তিনি এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত ফাঁসি কার্যকরের দাবি জানান। তিনি বলেন, তার মেয়ের মতো আর যেন কাউকে এভাবে নৃশংসতার বলি হতে না হয়।

তবে এই রায়ে ন্যয় বিচার বঞ্চিত হয়েছে বলে মনে করেন দণ্ডপ্রাপ্ত রাসেল মিয়ার বাবা হারুন মাতুব্বর। রাসেল ওই হত্যা ঘটনায় জড়িত নয় দাবি করে তার বাবা বলেন, তিনি কৃষক। তার একমাত্র ছেলের লেখাপড়া বন্ধ করার জন্য কোন পক্ষের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন তারা।

আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নাজিমউদ্দিন আহম্মেদ পান্না মনে করেন, তার মোয়াক্কেল ন্যায় বিচার পায়নি। নিরপেক্ষ সাক্ষীদের যথাযথভাবে আদালতে উপস্থাপন করা হয়নি। তাই এই রায়ের বিরুদ্ধে তার মোয়াক্কেল উচ্চাদালতে আপীল করবেন।

২০১৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টার দিকে নগরীর ইশ্বরবসু রোডের মেস থেকে হেটে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাস জিলা স্কুলের কলেজ কম্পাউন্ডে যাচ্ছিলেন সাওদা। পথিমধ্যে ব্রাউন কম্পাউন্ডে তার পথরোধ করে এক সময়ের প্রাইভেট শিক্ষক ও কথিত প্রেমিক রাসেল মিয়া। এ সময় রাসেল তার প্রেমে সাড়া না দেয়ায় সাথে থাকা নতুন ধারালো দা নিয়ে সাওদার মাথা এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে পালিয়ে যায়। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ওইদিন দুপুরে তাকে বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওইদিন বিকেল সাড়ে ৪টায় তার মৃত্যু হয়। সাওদার মৃত্যুর খবরে বিশ্ববিদ্যালয়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। সাওদা হত্যার দিন সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জরুরী সিন্ডিকেট সভায় রাসেল মিয়াকে আজীবন বহিষ্কার করেন।

সাওদা হত্যার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সোচ্চার হয় বিভিন্ন সংগঠন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। হত্যাকাণ্ডের ১ সপ্তাহ পর রাসেলকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়।

এ ঘটনায় ওইদিনই সাওদার মা সাইদা বেগম বাদী হয়ে খুনী রাসেল ও তার সহযোগি বিপুল বাড়ৈকে আসামি করে কোতয়ালী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। কোতয়ালী পুলিশ দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০১৪ সালের ৩০ এপ্রিল সাওদার কথিত প্রেমিক রাসেল মিয়াকে একমাত্র অভিযুক্ত করে আদালতে এই মামলার অভিযোগপত্র জমা দেন। আদালত ২৭ জনের মধ্যে ১৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে সন্দেহাতীতভাবে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় একমাত্র আসামি রাসেল মিয়াকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। এই রায় ঘোষণা উপলক্ষ্যে আদালত পাড়ায় কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল।

চাঁদপুর টাইমস : প্রতিনিধিডিএইচ/২০১৫

নিয়মিত ফেসবুকে নিউজ পেতে ক্লিক লাইক দিন : www.facebook.com/chandpurtimesonline/likes 

চাঁদপুর টাইমস প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না

আপনার মন্তব্য লিখুন…

Share