প্রচণ্ড শৈত্যপ্রবাহে চাঁদপুরে ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে শিশু রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে তিন দিনে একশো’র বেশি শিশু রোগী ভর্তি ভর্তি হয়েছে। এসব রোগীরা জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়াসহ ঠান্ডাজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই শিশুরা ভর্তি হচ্ছে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে। হাসপাতালে অতিরিক্ত রোগীর চাপে শিশু ওয়ার্ডে বেড ছাড়িয়ে মেঝেতে বিছানা পেতে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে নার্স ও চিকিৎসকদের। গাদাগাদি পরিবেশে অবস্থান করতে গিয়ে রোগী ও স্বজনদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত তিন দিনে শুধু শিশু ওয়ার্ডেই শতাধিকের উপরে শিশু রোগী ভর্তি হয়েছে। এরমধ্যে গত মঙ্গলবার ৩০ নভেম্বর ২০২৫ ইং সারাদিনে নতুন করে ভর্তি হয়েছে সর্বমোট ৩৬ জন শিশু। ওই দিন পূর্বে ভর্তি ছিল ৯৪ জন এবং চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র দেওয়া হয় ৩৩ জনকে। পরদিন বুধবার ৩১ নভেম্বর সারাদিনে নতুন ভর্তি হয় ২৮ জন, পূর্বে ভর্তি ছিল ৯৯ জন এবং ছাড়পত্র পায় ২১ জন শিশু। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার সারাদিনে ঠান্ডাজনিত জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে প্রায় ৩০ জন শিশু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। ওই দিন শিশু ওয়ার্ডে মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১১৭ জনে। এদিন চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে ৩৯ জনকে। এছাড়াও হাসপাতালের কেবিন ও পেইং বেডে আরও ১০ থেকে ১৫ জন শিশু ভর্তি রয়েছে বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার ১ জানুয়ারি হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি বেডেই শিশু রোগীর অবস্থান করছে। অনেক ক্ষেত্রে মেঝেতেও বিছানা পেতে শিশু রোগীদেরকে সেবা দেয়া হচ্ছে। শিশুদের সঙ্গে অভিভাবকরাও সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন। প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্রের অভাব, কনকনে ঠান্ডা এবং অতিরিক্ত রোগীর চাপে চিকিৎসা সেবাও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।
চিকিৎসকরা জানান, বর্তমানে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, জ্বর, সর্দি ও কাশিসহ বিভিন্ন ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত শিশুর রোগীর সংখ্যাই বেশি। বিশেষ করে ৬ মাস থেকে এক বছর বয়সী শিশু রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেশি দেখা যাচ্ছে। ঠান্ডা আবহাওয়া, ঘন কুয়াশা ও শীত থেকে সঠিক সুরক্ষা না থাকায় শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গিয়ে দ্রুত সংক্রমিত হচ্ছে বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।
এ বিষয়ে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. আসমা চাঁদপুর টাইমসকে বলেন, বর্তমানে শীতের প্রকোপ অনেক বেশি। এতে করে ছোট শিশুদের নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টের মতো রোগ বেড়েছে। বিশেষ করে ছয় মাস থেকে এক বছর বয়সী শিশুরা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। অভিভাবকদের উচিত শিশুদের সবসময় গরম কাপড়ে রাখা, ঠান্ডা এড়িয়ে চলা এবং জ্বর, শ্বাসকষ্ট বা কাশির লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসা।
তিনি আরও বলেন, শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়ানো, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং খোলা ঠান্ডা বাতাস থেকে দূরে রাখলে অনেকটাই ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
শৈত প্রবাহ অব্যাহত থাকলে আগামী দিনগুলোতে শিশু রোগীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই সংশ্লিষ্টদের পাশাপাশি অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
প্রতিবেদক: কবির হোসেন মিজি/
২ জানুয়ারি ২০২৫
Chandpur Times | চাঁদপুর টাইমস Top Newspaper in Chandpur