এবার পূর্ণ শিক্ষামন্ত্রী হলেন এহছানুল হক মিলন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন শপথ গ্রহণ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিসভায় পূর্ণ শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। এর আগে তিনি শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা পৌনে ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবন-এর শপথ গ্রহণ কক্ষে বিএনপির অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন। শপথবাক্য পাঠ করান প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। পরে বিকেলে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মন্ত্রী পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন, যেখানে শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
আ ন ম এহসানুল হক মিলন নবম ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় থেকেই সারা দেশে পরিচিতি পান পাবলিক পরীক্ষায় নকলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে। তার সেই সুখ্যাতি এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক ত্যাগের মূল্যায়ন হিসেবে এবার তাকে প্রতিমন্ত্রী থেকে পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে শপথ নেয়ার মুহূর্ত থেকেই কচুয়া বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ শুরু হয়।
কচুয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি খায়রুল আবেদীন স্বপন বলেন, ‘মিলন সাহেব দুই দশক আগে দেশের শিক্ষার মান ফেরাতে পরীক্ষাগুলোকে নকলমুক্ত করেছিলেন। এমন একজন ত্যাগী ও আদর্শবান মানুষকে আবারও এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেয়ায় শুধু কচুয়াবাসী নয়, পুরো দেশবাসী আনন্দিত।’
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আ ন ম এহসানুল হক মিলন ও তার সহধর্মিণী নাজমুন নাহার বেবি অন্তত ১৯টি রাজনৈতিক মামলার শিকার হন। দীর্ঘ সময় নিজ এলাকা থেকে অনেকটা নির্বাসিত থাকার পর গণতন্ত্রের এই নতুন ভোরে তার প্রত্যাবর্তনকে ‘মজলুমের বিজয়’ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।
বিএনপি নেতা শাহজালাল প্রধান বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট আমলের দুঃশাসনে মিলন ভাই এলাকায় ফিরতে পারেননি। আজ গণতন্ত্রের মুক্তির সঙ্গে সঙ্গে তার মন্ত্রিত্ব আমাদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে।’
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মিলন ১ লাখ ৩৩ হাজার ৩২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আবু নছর মোহাম্মদ মকবুল আহমেদ, যিনি পেয়েছেন ৭০ হাজার ৩৬৮ ভোট।
ড. মিলন বাংলাদেশের একজন রাজনীতিবিদ, লেখক ও শিক্ষানীতিবিষয়ক গবেষক। ১৯৫৭ সালের ২৬ মার্চ চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। শিক্ষাজীবনে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্নের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে New York Institute of Technology থেকে এমবিএ ডিগ্রি লাভ করেন। কর্মজীবনে তিনি Brooklyn College এবং Borough of Manhattan Community College-এ সহকারী প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ঔষধ শিল্পে রসায়নবিদ হিসেবে কাজ করেন।
২০১৮ সালে মালয়েশিয়ার International Islamic University Malaysia থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তার গবেষণার বিষয় ছিল বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ভূমিকা।
রাজনৈতিক জীবনে মিলন ১৯৯৬ সালে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ওই নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগ প্রার্থী মহিউদ্দীন খান আলমগীর-কে পরাজিত করেন।
প্রতিবেদক: মুসাদ্দেক আল আকিব/
১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬