Home / উপজেলা সংবাদ / কচুয়া / পুলিশের হস্তক্ষেপে কচুয়ায় নবমুসলিম স্ত্রী ফিরলেন স্বামীর ঘরে
পুলিশের

পুলিশের হস্তক্ষেপে কচুয়ায় নবমুসলিম স্ত্রী ফিরলেন স্বামীর ঘরে

কচুয়ায় হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে মুসলিম যুবককে ভালোবেসে বিয়ে করার প্রায় ১১ মাস পর শ্বশুরবাড়িতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ ওঠা নবমুসলিম মরিয়ম আক্তার অবশেষে ফিরেছেন স্বামীর সংসারে। বুধবার দৈনিক চাঁদপুর সময়, চাঁদপুর টাইমসসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর পুলিশের হস্তক্ষেপে বিষয়টি সমঝোতার মাধ্যমে নিস্পত্তি হয়।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কচুয়া থানায় অনুষ্ঠিত সালিশ বৈঠকে সমঝোতার পর নতুন করে কাবিনের মাধ্যমে মরিয়মকে স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে স্বামীর বাড়িতে নিয়ে যান শ্বশুরবাড়ির লোকজন।

কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুল ইসলামের নেতৃত্বে এ সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পুলিশের এ উদ্যোগে পারিবারিক বিরোধের অবসান হওয়ায় মরিয়মের স্বামীর সংসারে ফিরে যাওয়ার পথ তৈরি হয়েছে।

কচুয়া থানার ওসি আজিজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর নববধূ মরিয়ম আক্তারের শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে থানায় ডেকে আনা হয়। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়। নতুন করে কাবিনের মাধ্যমে মরিয়মকে স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় এবং শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে বাড়িতে নিয়ে যান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কচুয়া উপজেলার নয়াকান্দি গ্রামের মনোরঞ্জন সরকারের মেয়ে মরিয়ম আক্তার প্রায় ১১ মাস আগে নিজ ধর্ম ত্যাগ করে ভালোবাসার টানে মনপুরা গ্রামের সৌদি আরবপ্রবাসী আব্দুল্লাহর ছেলে রাব্বীকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রী সংসারজীবন শুরু করলেও জীবিকার তাগিদে কিছুদিন পর রাব্বী সৌদি আরবে চলে যান। স্বামী প্রবাসে যাওয়ার পর থেকেই মরিয়মের ওপর শ্বশুরবাড়িতে নির্যাতন শুরু হয় বলে অভিযোগ ওঠে। মরিয়মের অভিযোগ অনুযায়ী, তার শাশুড়ি আমেনা বেগম ও খালাশ্বশুর আব্দুর রশিদ তাকে ঠিকমতো খাবার না দেওয়াসহ বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। একপর্যায়ে গত শনিবার সন্ধ্যায় তাকে তালাক দেওয়ার কথা বলে একটি সাদা স্ট্যা¤েপ জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় স্বামীর সংসারে তার অবস্থান অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ উদ্যোগ নিয়ে দুই পক্ষকে থানায় উপস্থিত করে। সেখানে আলোচনা ও সমঝোতার ভিত্তিতে মরিয়মকে পুনরায় স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বিকেলে তাকে স্বামীর বাড়িতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

একটি ভালোবাসার সম্পর্কের মধ্য দিয়ে নতুন জীবনের স্বপ্ন নিয়ে সংসার শুরু করেছিলেন মরিয়ম। কিন্তু স্বামী প্রবাসে যাওয়ার পর নির্যাতন ও তালাকের অভিযোগে সেই সংসার নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত পুলিশের হস্তক্ষেপে স্বামীর ঘরে ফিরে যাওয়ায় নতুন করে সংসারজীবন শুরু করার সুযোগ পেলেন তিনি।

প্রতিবেদক: জিসান আহমেদ নান্নু,
২২ অক্টোবর ২০২৬