Home / উপজেলা সংবাদ / ফরিদগঞ্জ / পুলিশের বেতনের বাইরে টাকা লাগলে আমি দেবো, তবুও মানুষকে হয়রানি করবেন না: এমপি

পুলিশের বেতনের বাইরে টাকা লাগলে আমি দেবো, তবুও মানুষকে হয়রানি করবেন না: এমপি

সারাদেশের ন্যায় চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে ৫৫তম মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য এম. এ. হান্নান বলেছেন, “পুলিশের বেতনের বাইরে যদি কোনো টাকা লাগে, আমি নিজেই দেবো। তবুও আমার ফরিদগঞ্জের নিরীহ মানুষকে হয়রানি করবেন না।” ১৯৭১ সালে যেই সকল মুক্তিযোদ্ধাগন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পরাধিন থেকে আমাদের এই দেশে স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন তাদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা। আমি সর্ব প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী থেকে শেরেবাংলা একে ফজলুল হক, মাওলানা ভাসানী, বঙ্গবন্ধু, জিয়াউর রহমানসহ এবং স্বাধীনতা যুদ্ধে যেই ৩০ লক্ষ মুক্তিযোদ্ধা জীবন দিয়েছিল, যারা পঙ্গু হয়েছে, এবং যেই মা বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে, এই পর্যন্ত যেই সকল মুক্তিযোদ্ধাগন দুনিয়াথেকে চলে গিয়েছেন তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ ২০২৬) ফরিদগঞ্জে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বীর মুক্তিযোদ্ধা, যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেটু কুমার বড়ুয়া সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে সংসদ সদস্য এমএ হান্নান এসকল কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, আমারা মানুষ হিসেবে সৃষ্টি হয়েছি। মানুষ হিসেবেই এই দুনিয়া থেকে বিদায় নিতে চাই। আমরা আমাদের প্রয়োজনে বিভিন্ন হুজুররা বিভিন্ন ফতুয়া দেয়। তদ্রুপ যেই সরকার ক্ষমতায় আসে তাদের চাহিদা মোতাবেক ইতিহাস তৈরি করতে চান। এই ইতিহাসের শেষ কবে হবে আমি যানি না। তবে আমাদের বর্তমান স্পিকার একজন মুক্তিযোদ্ধা। যদিও উনি বিএনপি করেন, বিএনপি’র স্থানীয় কমিটির সদস্য ছিলেন। এখন উনি বিএনপি করেন না। উনি সকল সংসদ সদস্যের অভিভাবক। উনার কাছে এই দেশের চাহিদা অনুসারে বলবো, এই বিতর্ক ইতিহাস বাদ দিয়ে সত্যিকার ইতিহাস লিপিবদ্ধ হয়। আমরা যাকে যেখানে সম্মান দেওয়া প্রয়োজন তাকে যেন সেখানে সম্মান দিতে পারি। তাহলেই এই দেশে সত্যিকারের উন্নতির শিকড়ে পোজবে। আমরা যদি ইতিহাস বিকৃত করি ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কি শিখবে। আমি নিজেও বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করেছি একজন মুক্তিযুদ্ধ বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করেছে। যারা বিএনপি করেন, যারা আওয়ামী লীগ করেন, যারা জামাত করেন, সবাই সত্যি কথা বলা শিখেন। আপনারা যদি মিথ্যা কথা বলতে পারেন, তার দারা পৃথিবীর সকল অপকর্ম করা সম্ভব। প্রিয় বিএনপি যারা করেন এখন দেখেন তারা বঙ্গবন্ধুর নাম নেয় না। বঙ্গবন্ধু উপাধি পেয়েছেন দেশের স্বাধীনতার পূর্বে ১৯৭০ সালে। স্বাধীনতার পর উনার অন্যায় আছে
যারা অন্যায় করেছে তাদের শাসন করতে পারে নাই। তাই উপকারের কথা শিকার করা উচিত কিনা। আর যদি মিথ্যা কথা বলি ভাই- বাপ সাড়ে তেরো বছর জেল খেটেছি। আমি কেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শেরেবাংলার , মাওলানা ভাসানীর নাম নিয়েছি, আমি তখন ক্লাস ফাইভে পড়ি। আমার স্বরন আছে সেইদি কার নেতৃত্বে মানুষ যুদ্ধে মাঠে নেমেছে। ৭ই মার্চের ভাষণে কি বলেছিল। সেটাও আমাদের স্বরন আছে। কিন্তু আমরা দলের স্বার্থে মিথ্যা কথা বলি। এই মিথ্যা কথা বাদ দিয়ে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মে সত্যি কথা জানাতে হবে এবং একটি সত্যিকারের ইতিহাস লিপিবদ্ধ করা উচিত। বঙ্গবন্ধুর জায়গায় বঙ্গবন্ধুর সন্মান, জিয়াউর রহমানের জায়গায় জিয়াউর রহমানের সন্মান, শেরেবাংলার জায়গায় শেরেবাংলার সন্মান, মাওলানা ভাসানীর জায়গায় ভাসানীর সন্মান, শহীদ সোহরাওয়ার্দী জায়গায় তার সন্মান যদি আমরা সত্যিকার ভাবে দিতে পারি। তাহলে ভবিষ্যতে প্রজন্মও আমাদেরকে সন্মান দিবে। আজকাল দেখা যায়, কিছু কিছু ছেলে মেয়ে আমি কুটুক্তি করবোনা তারা যেই সমস্ত ভাষায় ফেইসবুকে লেখে ভাগ্য ভালো আমি ফেসবুকে চালাই না। এইদেশের রাজনীতি ফেইসবুকে চলে গিয়েছে। এইদেশের কি হবে আমি জানি না। ফেইসবুকের রাজনীতি মিথ্যায় বরা। ১৯৯১ সালে আলমগীর হায়দার যখন ফরিদগঞ্জে এসেছিল আমি তখনও রাজনীতির সাথে জড়িত হইনাই । কিন্তু ১৯৭৮ সাল থেকে আমি ছাত্রদল করি। তখনো আমি ব্যাবসা করি। ১৯৯৬ সালে আপনাদের আলমগীর হায়দারকে এই মনিরুল ইসলাম চৌধুরী বাহির করে দিয়েছিল অফিস থেকে। সেদিন থেকে আলমগীর ভাইকে এমপি হিসেবে বলেছে আপনি আমার অফিসে বসেন। তখন আপনাদের অনেক নেতাকে দেখেছি। ২০০১ সালে যখন পূণরায় এমপি হয়েছেন তখন উনি আমার অফিসেই বসাতেন। আপনাদের গম, ভুট্টা, চাউলের জন্য আলমগীর হায়দারের কাছে যাইনাই। নেইও নাই।

তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগ আমলে জলিল সাহেব আমার পার্টনার ছিল মার্কেন্টাইল ব্যাংকের। আপনারা আমাকে আওয়ামী বানাইতে চেস্টা করেছেন আপনাদের এলাকার কিছু কিছু সন্তান। আমার কি অপরাধ ছিল। বেশি পুরনো ইতিহাস বলবো না। ২০২৮ সালে কি বলেছে। ২০১৮ তে কি বলেছে। আমি বলবো না। আমি শুধু আপনাদেরকে অনুরোধ করবো। এই মুক্তিযোদ্ধার হচ্ছেন জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। আপনারা সেদিন যদি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশ স্বাধীন না করতেন। আমরা কামার কুমার তাতেই কৃষক থাকতাম। আমরা শিল্পপতি হতাম না। আমরা ব্যবসায়ী হতে পারতাম না। আপনাদের এই অবদানের কথা আমরা ভুলি নাই বিদায় আপনাদের পাশে আমার সাধ্যমত এগিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্য হলেও সত্য আওয়ামী লীগের আমলে আমাদেরকে সেভাবে কাজ করতে দেয় নাই। আমি কোন আওয়ামী লীগ দের বিরুদ্ধে মামলা দেই নাই, ওরা আমার এলাকার সন্তান। কিন্তু কিছু কিছু সংগঠক মামলা দিয়ে ওই মানুষের কাছে ফায়দা লুটেছে। আপনার আম্মু মুক্তিযোদ্ধারা প্রতিবাদ করেন নাই। ওই ছেলেগুলো আমার বিএনপি করে নাই। বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে তারা চাঁদাবাজি করেছে এবং সমঝোতা করেছে থানার সাথে। ধরে নিয়ে এসেছে বসেছে তৎকালীন থানার ওসিসহ টাকা কামিয়েছে এর সাথে আমার বিএনপির লোকও জড়িত ছিল। প্রিয় এলাকাবাসী সময় অতিবাহিত করব না। ওসি সাহেব আছেন সাথে।

তিনি আরো বলেন, গতকাল ওসি সাহেবকে আমি টেলিফোন করেছিলাম বলেছি আমার কোন আত্মীয়-স্বজন নেই আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে আমার স্ত্রী আমার এক ছেলে এক মেয়ে ছাড়া আর কোন আত্মীয় নেই। কেউ যদি আমার নাম ভাঙ্গিয়ে মানুষের কাছে চাঁদা চায় জমি দখল করে তার বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনের আওতায় আনবেন সে যেই হোক। আমি তৎকালীন ওসি সাহেবকে বলেছিলাম, আপনার ভাইরে গোল বৈঠক কেন বসে। এই গোল বৈঠকখানায় দালাল বসে বসে মানুষদেরকে অত্যাচার করে, দারোগা সাহেবদের সহযোগিতায়। তৎকালীন ওসি সাহেব বলেছেন আমি তো বলি আমার কথা শুনেনা। উনার দারোগা সাবরা নাকি উনার কথা শুনে না পেয়ে নকাম বন্ধ হয়ে যায়। ওসি সাহেবকে বলেছি আপনি কেমন ওসি। যেই ওসির নির্দেশনা দারোগা সাহেবরা শুনবেনা? কেন শুনবেনা।

তিনি আরো বলেন, এখন আমি বর্তমান ওসি সাহেবকে বলেছি আপনারা যে বেতন পান সেই বেতন হয়তো আপনাদের সংসার চলে না। প্রিয় প্রশাসন ভাইয়েরা একজন মোয়াজ্জেম কয় টাকা বেতন পায় দেখেন। তাদের কারো চেহারা খারাপ না তাদের স্বাস্থ্য খারাপ না। যে যেভাবে চলতে চায় তাদেরকে আল্লাহই চালায়। তারপরও যদি আপনাদের চলতে কষ্ট হয় । আপনার কতজন দারোগা কতজন এসআই কতজন এএসআই, কত টাকা আপনাদের লাগে আমি আমার নিজ অর্থ থেকে দেব। আমার আমার ফরিদগঞ্জের নিরীহ মানুষদেরকে ধরে এনে অজথা বলবেন না এতো টাকা না দিলে এই এই মামলায় ঢুকিয়ে দেবো। এতো টাকা না দিলে অমুক মাডার মামলায় ঢুকাবো। আমি প্রশাসন সম্পর্কে অবগত। কারণ ১৯৮৫ সাল থেকে পুলিশের সাথে চলাফেরার অভ্যাস আছে। তাই প্রিয় ওসি সাহেব আপনাদের সরকারি বেতন-ভাতার বাইরে কত টাকা লাগবে আমাকে বলুন ৩ -৪ -৫ লক্ষ কত টাকা দিতে হবে আমি দিব। তবুও আমার ফরিদগঞ্জের সাধারণ জনগনকে অযথা হয়রানি করবেন না। নিরপেক্ষ বিচার করবেন নিরপেক্ষ তদন্ত করবেন। আল্লাই আপনাদের ব্যবস্থা করবে। শুনেন পুলিশের চাকরি অনেক ভালো চাকরি। যদি ভালো ভাবে কাজ করে সোয়াব পাবেন। একটা কথা আছে ওসি সাহেব মাইন্ড কইরেন না আমি শুনেছি , পুলিশের ছেলে মেয়েরা নাকি ল্যাংড়া হয় খোড়া হয়। আসলে যারা অন্যায় করে আল্লাহ তাদের বিচার করে।

তিনি বর্তমান ওসিকে উদ্যেশ্য করে বলেন, এই থানায় যতদিন আপনার ভাগ্যে আছে ততদিন সুন্দর ভাবে চালান। আবারো বলছি কত টাকা লাগবে আমাকে জানান আমি দেব। আপনি নিজ হাতে উনাদের ভাগ করে দিবেন। তারপরও সুষ্ঠু তদন্তে মানুষের বিচার করবেন। আর এইযে আপনাদের স্বাধীনতা দিবস দেখেন ৫৫ বছর হয়েছে না । আপনারা মুক্তিযুদ্ধারাতো সঠিক ইতিহাস জানেন জানেন না। শাবু পাটওয়ারী যা বলেছেন অনেটাই সত্যি বলেছেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ. আর. এম. জাহিদ হাসান, ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হেলাল উদ্দিন, সমাজসেবা কর্মকর্তা মাহমুল হাসান, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শাহাবুদ্দিন (শাবু) পাটওয়ারী, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা ইউনুছ হেলাল, প্রেসক্লাব সভাপতি মামুনুর রশিদ পাঠানসহ মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যরা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

প্রতিবেদক: শিমুল হাছান,
২৭ মার্চ ২০২৬