হাজীগঞ্জে পরিদর্শন শেষে যা বললেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী

কুমিল্লার ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে মন্দিরে হামলা এবং পুলিশের সাথে তৌহিদী জনতার সংঘর্ষের ঘটনার ৫দিন পর আজ রোববার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা.জাফরুল্লাহ চৌধুরী তাঁর নেতৃত্বে ভাসানী অনুসারী পরিষদের লোকজন।

তিনি প্রথমে হাজীগঞ্জ বাজার এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত দুটি মন্দির পরিদর্শন করেন। পরে তিনি নিহত চার জনের মধ্যে দুটি পরিবারের সাথে দেখা করেন।

ওই সময় তিনি পুলিশের সাথে সংঘর্ষে নিহত বড়কুল ইউনিয়নের রায়চোঁ গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে আল আমিন এবং রান্ধুনীমুড়া সেকান্দার আলী বেপারী বাড়ির ফজলুল হকের ছেলে ইয়াছিন হোসেন হৃদয়ের বাবা ও পরিবারের লোকজনদের সাথে কথা বলেন এবং হৃদয়ের কবর জিয়ারত করেন।

তিনি এ ঘটনায় পুলিশ ও সাংবাদিদের ভুমিকায় প্রশংসা করে বলেন, ‘আজকে সারা জাতির জন্য এটা দুঃখ জনক ঘটনা। এই ঘটনার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ও সরকারের জন্য ব্যার্থতা রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল একজন ভালো মানুষ, ভালো মন্ত্রী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা। কিন্তু গোয়েন্দা সংস্থা তাকে সঠিক তথ্য দেয়নি। তাকে বোকা বানিয়েছে। মিস লিড করেছে। কারণ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন,আমি সকল মন্দিরে নিরাপত্তা দিয়েছেন। কিন্তু সেটা বাস্তবে করা হয়নি। তাই এই দায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। এ জন্য আমি তার পদত্যাগ দাবি করছি।’

এর আগে তিনি সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি। তিনি আরো বলেন, ‘আমি আজ নিহতদের পরিবারের কাছে ক্ষমা চাইতে এসেছি। কারণ, আমরা ব্যর্থ হয়েছি তাদেরকে বাঁচাতে। তিনি বলেন, আমাদের গোয়েন্দা বাহিনী ভারতীয় গোয়েন্দা বাহিনীর পদস্থ কর্মচারী। সরকার হিন্দু-মুসলমান সবারই জানমালের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই সরকারের উচিত পদত্যাগ করে জাতীয় সরকার প্রতিষ্ঠা করা, গণতন্ত্র পুন:প্রতিষ্ঠা করা।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনি ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়িতে যান। প্রত্যেক মসজিদের ইমামদের হুকুম করুন, তারা যেন প্রতি ওয়াক্ত নামাজের সময় বলেন, ‘হিন্দু-মুসলমান ভাই ভাই।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভাসানী অনুসারী পরিষদের মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, ভাসানী অনুসারী পরিষদের প্রেসিডিয়াম সদস্য মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীর, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রেস উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু, শহীদ আসাদের ছোট ভাই ডা. নুরুজ্জামান, হাবিবুর রহমান রিজু, ভাসানী অনুসারী পরিষদের সদস্য ব্যারিস্টার সাদিয়া আরমান, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রচার ও মিডিয়া সমন্বয়ক হাসিবুদ্দিন সোহেল, রাজনৈতিক সমন্বয়ক ফরিদুল হক, সাংগঠনিক সমন্বয়ক ইমরান ইমন, অর্থ সমন্বয়ক দিদারুল ভূঁইয়া, সদস্য সারোয়ার তুষার, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মোস্তফা, ভাসানী অনুসারী পরিষদের ছাত্রনেতা ইসমাইল হোসেন সম্রাট প্রমুখ।

প্রতিবেদক: জহিরুল ইসলাম জয়, ১৭ অক্টোবর ২০২০

Share