Home / সারাদেশ / পদ্মায় ইউএনওর ওপর জেলেদের হামলা, পুলিশের ফাঁকা গুলি
পদ্মায়

পদ্মায় ইউএনওর ওপর জেলেদের হামলা, পুলিশের ফাঁকা গুলি

শরীয়তপুরের জাজিরার পদ্মা নদীতে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান চলাকালে জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উপর হামলা করেছে জেলেরা। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ও আত্মরক্ষার্থে নৌ-পুলিশ ৯ রাউন্ড ফাকা গুলি ছুড়ে। পরে পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানা-পুলিশ গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে।

শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে জাজিরা উপজেলার নাওডোবা ইউনিয়নের পাইনপাড়া এলাকার মাঝ পদ্মা নদীতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় আটক ১০ জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবুল বাশার ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যায় জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুল হাসান সোহেল, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবুল বাশার, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জামাল হোসাইন ও মাঝীরঘাট নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির আইসি মো. জহিরুল হকসহ নৌ-পুলিশের ফোর্স নিয়ে পদ্মা নদীতে অভিযানে যান। অভিযান চলাকালে ইলিশ মাছ ধরা অবস্থায় ও জাল নিয়ে মাছ ধরার প্রস্তুতিকালে ১০ জনকে আটক করা হয়।

এ সময় মাছ ধরার জন্য ব্যবহৃত ১টি ট্রলার ও দুই লাখ মিটার মাছ ধরার কারেন্ট জাল জব্দ করেন। এছাড়া জেলেদের কাছ থেকে ইলিশ মাছ জব্দ করা হয়, যা পরবর্তীতে স্থানীয় রূপ বাবুরহাট মাদ্রাসা ও এতিমখানায় দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে রাত সাড়ে ৯ টায় অভিযানের এক পর্যায়ে পাইনপাড়া মাঝীরচর এলাকায় হাই ভোল্টেজ বিদ্যুতের ১০ নম্বর পিলারের কাছে আসলে জেলেরা জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুল হাসান সোহেল, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবুল বাশার, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জামাল হোসাইন ও মাঝীরঘাট নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির আইসি মো. জহিরুল হকের ওপর প্রথমে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়।

হামলার ঘটনায় জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রশাসনের ৫ জনসহ মোট ১২ জন আহত হয়। আহতরা পরবর্তীতে বিভিন্ন জায়গায় প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৯ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে নৌ-পুলিশ। খবর পেয়ে পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানা-পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে।

পরে মাঝীরঘাট এসে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে আটককৃত ১০ জনের ১ জনকে ২ মাস, বাকি সবাইকে ১ মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং জব্দকৃত জাল পুড়িয়ে দেয়া হয়। এছাড়া জব্দকৃত ট্রলার বাজেয়াপ্ত করে নৌ-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

আটককৃতরা হলো, পাইনপাড়া এলাকার নুরুল হকের ছেলে দ্বীন ইসলাম (৪২), বড়কান্দি এলাকার ফজলের ছেলে শানোয়ার (২০), বড় নওপাড়া এলাকার দবির আকনের ছেলে রিয়াদ (২২), আ. বেপারি কান্দির করিম মালতের ছেলে আক্কাস মালত (৪০), একই এলাকার মোকলেছের ছেলে মোক্তার মিয়া (২০) ও আক্কাস মোড়লের ছেলে রাজিব মিয়া (২৮), বাওদিয়া এলাকার মালেক বেপারীর ছেলে শাকিল (১৯), ধোলাইপাড় এলাকার কাশেম সরকারের ছেলে মনির হোসেন (২৬), মোহর আলী মাদবর কান্দি এলাকার হান্নান ফকিরের ছেলে সুজাত ফকির (২০) এবং একই এলাকার আ. হান্নান ফকিরের ছেলে বাবুল ফকির (৪০)।

জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুল হাসান সোহেল বলেন, আমরা অভিযানে নামলে আমাদের ওপর ইটপাটকেল নিয়ে পাইনপাড়ার জেলেরা হামলা করে। পরিস্থিতি খাবার দেখে নৌ-পুলিশ ৯ রাউন্ড ফাকা গুলি ছোড়ে। পরে পদ্মা থানার পুলিশ খবর পেয়ে আমাদেরকে উদ্ধার করে। এই ঘটনায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হবে। এছাড়া আটককৃত জেলেদের মোবাইল কোর্ট মাধ্যমে জেল দেওয়া হয়েছে এবং জব্দকৃত জাল পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

বার্তা কক্ষ, ৯ অক্টোবর ২০২২