চাঁদপুর পৌর এলাকায় নির্ধারিত স্ট্যান্ড ছাড়াই দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে সিএনজি চালিত অটোরিকশা থেকে টোল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ২০০৮ সাল থেকে চালকদের কাছ থেকে এ টোল নেওয়া হলেও এখনো স্থায়ী কোনো স্ট্যান্ড গড়ে তোলা হয়নি বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
অভিযোগ রয়েছে, প্রতিদিন শহরের ওয়্যারলেস, বাবুরহাট, বাসস্ট্যান্ড এবং পালবাজার ব্রিজের গোড়ায় পৌরসভার লোকজন সিএনজি চালকদের কাছ থেকে গাড়ি প্রতি ১৫ টাকা করে নিয়মিত টোল আদায় করছেন।
অথচ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে, টার্মিনাল বা নির্ধারিত স্ট্যান্ড ছাড়া সড়ক বা মহাসড়কে কোনো ধরনের টোল আদায় করা যাবে না।
এ বিষয়ে এর আগেও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার আপত্তি জানানো হয়। ২০১২ সালের ১৫ এপ্রিল এবং ২০১৯ সালের ২২ মে পৌর কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে স্ট্যান্ডবিহীন টোল আদায় বন্ধের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে তার কোনো কার্যকর প্রতিফলন দেখা যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
নির্ধারিত স্ট্যান্ড ছাড়া পৌর টোল আদায় বন্ধের দাবিতে চলতি বছরের ১ এপ্রিল চাঁদপুর জেলা সিএনজি চালিত অটোরিকশা মালিক সমিতি, শ্রমিক ইউনিয়ন এবং জাতীয়তাবাদী সিএনজি শ্রমিক দলের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক, পৌর প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত আবেদনও করা হয়েছে।
এদিকে, সিএনজি চালকদের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগও দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে।
এছাড়াও ২০২৫ সালের ১৯ মে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহরের লেকের পাড় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সংলগ্ন সাবেক বেবীস্ট্যান্ড এলাকায় যাত্রী ছাউনী, পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং চালকদের বিশ্রামাগার নির্মাণের জন্য পৌর প্রশাসনকে চিঠি দেওয়া হলেও এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি।
জানা গেছে, চাঁদপুর সদরে নিবন্ধিত প্রায় ৫ হাজার সিএনজি স্কুটার রয়েছে। এছাড়া সদরের বাইরে আরও প্রায় ৫ হাজার মিলিয়ে মোট ১০ হাজার সিএনজি চালিত অটোরিক্সা এই শহরে চলাচল করছে। অথচ তাদের জন্য কোনো নির্ধারিত ও পরিকল্পিত স্ট্যান্ড না থাকায় সৃষ্টি হচ্ছে বিশৃঙ্খলা ও ভোগান্তি।
চাঁদপুর জেলা সিএনজি চালিত অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. রিপন হোসেন, পৌর অটোরিকশা শ্রমিক দলের আহ্বায়ক মনির মিয়াজী এবং জেলা সিএনজি চালিত অটোরিকশা মালিক সমিতির সহ-সভাপতি মঞ্জুর আলম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত কোনো বৈধ স্ট্যান্ড বা প্রয়োজনীয় সুবিধা না দিয়েই প্রতিদিন শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে নিয়মিত টোল আদায় করে আসছে। চালকরা প্রতিদিন টোল পরিশোধ করলেও শহরে সঠিকভাবে গাড়ি পার্কিংয়ের সুযোগ পাচ্ছেন না। এমনকি সড়কে যাত্রী তুলতে গেলেও ‘রং পার্কিং’ দেখিয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হচ্ছে।
তারা আরও বলেন, যদি টোল আদায় করা হয়, তবে আগে নির্ধারিত স্থানগুলোতে বৈধ স্ট্যান্ড গড়ে তোলা, পার্কিং সাইনবোর্ড স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি শহরের লেকের পাড়ে সাবেক বেবীস্ট্যান্ড এলাকায় যাত্রী ছাউনী, পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং চালকদের জন্য একটি বিশ্রামাগার নির্মাণের দাবিও জানান তারা।
এ বিষয়ে চাঁদপুর পৌর প্রশাসক এরশাদ উদ্দিন বলেন, যাত্রী ছাউনী, টয়লেট এবং চালকদের বিশ্রামাগার নির্মাণের উদ্যোগ ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে। লেকের পাড়সহ দুটি স্থানে টয়লেট নির্মাণের স্টিমেট সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে টেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে। এ প্রক্রিয়া শেষ হতে কিছুটা সময় লাগলেও আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে কাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
স্ট্যান্ড স্থাপনের বিষয়ে তিনি জানান, সিএনজি চালকদের সঙ্গে খুব শিগগিরই বৈঠকে বসা হবে। আলোচনা করে পৌরসভার উপযুক্ত জায়গা নির্ধারণের মাধ্যমে স্থায়ী স্ট্যান্ড গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তবে দীর্ঘদিন ধরে স্ট্যান্ড ছাড়া টোল আদায় চলতে থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে চালকদের মধ্যে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে সমস্যার সমাধান করা হবে, এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
প্রতিবেদক: কবির হোসেন মিজি
৯ এপ্রিল ২০২৬
Chandpur Times | চাঁদপুর টাইমস Top Newspaper in Chandpur