Home / উপজেলা সংবাদ / কচুয়া / নির্বাচিত হলে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত ইউনিয়ন গঠনে কাজ করবো: মো: আশিকুর রহমান

নির্বাচিত হলে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত ইউনিয়ন গঠনে কাজ করবো: মো: আশিকুর রহমান

কচুয়া উপজেলার ২নং পাথৈর ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনসাধারণের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী তরুন সমাজসেবক ও বিশিষ্ট ব্যাংকার মো: আশিকুর রহমান। তিনি ওই ইউনিয়নে আটমোর গ্রামের মিয়াজী বাড়ির সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে সন্তান। তার প্রয়াত বাবা বিশিষ্ট সমাজসেবক মো: মোবারক হোসেন মিয়াজী। তার প্রয়াত বড় ভাই মরহুম রফিকুল ইসলাম রনি কচুয়ার সর্বকনিষ্ঠ জাতীয় সংসদ সদস্য ছিলেন। বড় ভাই রাসেল মিয়াজী আজাদ ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কচুয়া মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। ছাত্রজীবন থেকে মো: আশিকুর রহমান সমাজসেবা ও এলাকার মানুষের প্রতি আন্তরিকভাবে কাজ করছেন। আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মো: আশিকুর রহমান ইউপি চেয়ারম্যান পদে লড়বেন এমন কথা এখন প্রতিটি মানুষের মুখে মুখে। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দিন তারিখ এখনও ঘোষনা না হলেও তিনি পাথৈর ইউনিয়নের প্রতিটি জনপদে প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। নিচ্ছেন সাধারণ মানুষের খোঁজ-খবর। পাশাপাশি দাঁড়াচ্ছেন প্রতিটি মানুষের পাশে। নির্বাচনকে ঘিরে তার স্বপ্নের কথা একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে নিম্ন তুলে ধরা হলো:
প্রতিবেদক: কেমন আছেন।
আশিকুর রহমান: আলহামদুল্লিাহ ভালো আছি।
প্রতিবেদক: কচুয়ায় ইউপি চেয়ারম্যান পদে কেনো প্রার্থী হচ্ছেন?
আশিকুর রহমান: প্রতিটি মানুষের স্বপ্ন থাকে জনসেবা করার। আমিও স্বপ্ন দেখছি সাধারণ মানুষের পাশে থাকার। আপনারা জানেন, আমার ভাই রফিকুল ইসলাম রনি এ উপজেলার সংসদ সদস্য ছিলেন। সাধারন মানুষের জনপ্রিয়তা নিয়ে তিনি সংসদ সদস্য হয়েছেন। আজকের এই ইউনিয়নের আমি দাঁড়িয়েছি কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের জন্য নয়, আমি দাঁড়িয়েছি একটি স্বপ্ন নিয়ে। একটি পরিবর্তনের স্বপ্ন, একটি উন্নয়নের স্বপ্ন, একটি ন্যায়ের সমাজ গড়ার স্বপ্ন। আমি মোঃ আশিকুর রহমান- এই পাথৈর ইউনিয়নের মাটি ও মানুষের সন্তান,এই জনপদের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, সংগ্রাম ও সম্ভাবনার সাথে যার জীবন জড়িয়ে আছে।
প্রতিবেদক: চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে সাধারণ মানুষের কল্যানে কি কাজ করতে চান।
মো: আশিকুর রহমান: ইতিহাস সাক্ষী- যে জাতি, যে সমাজ নিজের অধিকার নিয়ে সচেতন হয়েছে,
যে জনগণ অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে, তারাই পরিবর্তন এনেছে, তারাই উন্নয়ন গড়েছে। আজ সময় এসেছে।আমাদের পাথৈর ইউনিয়নকে নতুন করে গড়ার, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর, উন্নত ও নিরাপদ সমাজ রেখে যাওয়ার। কিন্তু বাস্তবতা বড়ই নির্মম। আজও আমাদের ইউনিয়নের অনেক রাস্তা ভাঙা, যুবকদের হাতে কাজ নেই, কৃষক তার ন্যায্য মূল্য পায় না, গরিব মানুষ তার প্রাপ্য সেবা থেকে বঞ্চিত। এই অবস্থা কি আমরা মেনে নেবো? এই অবহেলা কি আমাদের ভাগ্য হয়ে থাকবে? না, কখনোই না!
প্রতিবেদক: জনপ্রতিনিধি হয়ে অনেকেই প্রতিশ্রুতি ভুলে যায়। সে ক্ষেত্রে আপনি ওয়াদা পালন করবেন কী?
মো: আশিকুর রহমান: রাজনীতি মানে শুধু ক্ষমতার লড়াই নয়। রাজনীতি মানে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম,
রাজনীতি মানে মানুষের পাশে দাঁড়ানো, রাজনীতি মানে অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো। আমি সেই রাজনীতিতে বিশ্বাস করি। যেখানে থাকবে সততা, ন্যায়বিচার ও মানবিকতা। আমি প্রতিশ্রুতি দিতে আসিনি। আমি আপনাদের সাথে অঙ্গীকার করতে এসেছি। আমি নির্বাচিত হলে আমার অঙ্গীকার ইনশাআল্লাহ। বিশেষ করে আমি ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে প্রতিটি ওয়ার্ডে সমান উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে, আধুনিক ও টেকসই রাস্তা-ঘাট নির্মাণ করা হবে। যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে, কৃষকদের জন্য আধুনিক প্রযুক্তি ও ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা হবে। দুর্নীতিমুক্ত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ইউনিয়ন পরিষদ গড়ে তোলা হবে। গরিব, অসহায়, বিধবা ও বয়স্কদের অধিকার নিশ্চিত করা হবে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যক্ষাতে উন্নয়ন এনে একটি মানবিক সমাজ গড়া হবে
প্রতিবেদক: জনগনের উদ্দেশ্যে আপনার কি আহবান থাকবে?
মো: আশিকুর রহমান: আমি নেতা হতে চাই না, আমি আপনাদের সেবক হতে চাই। আমি সেই চেয়ারম্যান হতে চাই যার দরজা সবসময় আপনাদের জন্য খোলা থাকবে, যার কাছে গরিব-ধনী, ছোট-বড় সবাই সমান অধিকার পাবে। আপনাদের ভালোবাসা, আপনাদের সমর্থন, আপনাদের দোয়া। এই তিনটি শক্তিই আমার সবচেয়ে বড় পুঁজি। আমি জানি আপনারা পরিবর্তন চান, আপনারা একটি সৎ, যোগ্য ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব চান। আজ আমি আপনাদের কাছে শুধু একটি সুযোগ চাই। নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ, আপনাদের সেবা করার সুযোগ। আপনাদের একটি ভোট এই ইউনিয়নের ভাগ্য বদলে দিতে পারে। আসুন, আমরা সবাই মিলে শপথ করি। অন্যায়কে না বলবো, দুর্নীতিকে না বলবো, অবহেলাকে না বলবো। আমরা গড়বো একটি উন্নত, আধুনিক, আদর্শ পাথৈর ইউনিয়ন। একটি ইউনিয়ন- যেখানে থাকবে উন্নয়ন, যেখানে থাকবে ন্যায়বিচার, যেখানে প্রতিটি মানুষ পাবে তার প্রাপ্য সম্মান। সময় এসেছে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আপনি কি উন্নয়নের পক্ষে? আপনি কি সততার পক্ষে? আপনি কি পরিবর্তনের পক্ষে? যদি আপনার উত্তর “হ্যাঁ” হয় তাহলে আসুন, আমরা সবাই একসাথে এগিয়ে যাই। ইনশাআল্লাহ, আমরা জয়ী হবো। জনগণের ভালোবাসা ও দোয়ার শক্তিতে। আল্লাহ আমাদের সহায় হোন। ধন্যবাদ সবাইকে।

প্রতিবেদক: জিসান আহমেদ নান্নু,
৩০ মার্চ ২০২৬