আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিতে অনলাইনে নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনা করছে নির্বাচন কমিশন। ১৯ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া নিবন্ধন কার্যক্রম শেষ হয় ৫ জানুয়ারি । সোমবার ৯ টা পর্যন্ত মিনিট পর্যন্ত বিভিন্ন দেশ থেকে ভোট দেয়ার জন্য “পোস্টাল ভোট বিডি” অ্যাপে প্রবাসী নিবন্ধন করেছেন ১৪ লাখ ৩শ ২৫ জন।
ইসির ওয়েব সাইট (যঃঃঢ়ং://ঢ়ড়ৎঃধষ.ড়পা.মড়া.নফ/ৎবঢ়ড়ৎঃ/নু-পড়ঁহঃৎু) থেকে বিষয়টি জানা গেছে। ইসি জানিয়েছে,অ্যাপে নিবন্ধনকারীদের ঠিকানায় পোস্টাল ব্যালট ডাকযোগে পাঠানো শুরু হয়েছে। ভোটার ভোট দিয়ে ফিরতি খামে তা আবার রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠাবেন।

নির্ধারিত প্রতীকের মাপে বাড়াবাড়ি নয়
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রচারণার সময় নির্বাচন কমিশন নির্ধারিত মাপের বাইরে গিয়ে নির্বাচনি প্রতীক প্রদর্শন করা যাবে না বলে জানিয়েছে ইসি। প্রতীকের মাপ নিয়ে অতিরিক্ত প্রদর্শনী বা বাড়াবাড়ির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে সংস্থাটি। ৪ জানুয়ারি ইসির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে জানানো হয়, নির্বাচনি প্রতীকের দৈর্ঘ্য,প্রস্থ ও উচ্চতা; কোনোটিই ৩ মিটারের বেশি হতে পারবে না।
পাশাপাশি জীবন্ত কোনো প্রাণীকে নির্বাচনি প্রতীক হিসেবে ব্যবহার বা প্রদর্শন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পোস্টে আরও বলা হয়,‘প্রতীকের সাইজে বাড়াবাড়ি নয়, জীবন্ত প্রাণী ব্যবহার মোটেও কাম্য নয়’ এ স্লোগান সামনে রেখে সবাইকে নির্বাচনি আচরণবিধি মেনে চলতে হবে। ইসি জানায়,তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের শেষ ছিল রোববার।
রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে ৫ জানুয়ারি-৯ জানুয়ারি পর্যন্ত। আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০-১৮ জানুয়ারি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ ২০ জানুয়ারি। ২১ জানুয়ারি রিটার্নিং কর্মকর্তারা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেবেন। নির্বাচনি প্রচারণা শুরু ২২ জানুয়ারি। প্রচার চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত । ভোটগ্রহণ ১২ ফেব্রুয়ারি।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ১ হাজার ৮৪২টি মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০টি সংসদীয় আসনে ১ হাজার ৮৪২টি মনোনয়নপত্র বৈধ এবং ৭২৩টি মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে রংপুর অঞ্চলে ৩৩টি সংসদীয় আসনের বিপরীতে দাখিলকৃত বৈধ মনোনয়নপত্র ২১৯টি, বাতিলকৃত মনোনয়নপত্র ৫৯টি। রাজশাহী অঞ্চলে ৩৯টি সংসদীয় আসনের বিপরীতে দাখিলকৃত বৈধ মনোনয়নপত্র ১৮৫টি,বাতিলকৃত মনোনয়নপত্র ৭৪টি।
খুলনা অঞ্চলে ৩৬টি সংসদীয় আসনের বিপরীতে দাখিলকৃত বৈধ মনোনয়নপত্র ১৯৬টি, বাতিলকৃত মনোনয়নপত্র ৭৯টি। বরিশাল অঞ্চলে ২১টি সংসদীয় আসনের বিপরীতে দাখিলকৃত বৈধ মনোনয়নপত্র ১৩১টি, বাতিলকৃত মনোনয়নপত্র ৩১টি। ময়মনসিংহ অঞ্চলে ৩৮টি সংসদীয় আসনের বিপরীতে দাখিলকৃত বৈধ মনোনয়নপত্র ১৯৯টি, বাতিলকৃত মনোনয়নপত্র ১১২টি। ঢাকা অঞ্চলে ৪১টি সংসদীয় আসনের বিপরীতে দাখিলকৃত বৈধ মনোনয়নপত্র ৩০৯টি,বাতিলকৃত মনোনয়নপত্র ১৩৩টি।
ফরিদপুর অঞ্চলে ১৫টি সংসদীয় আসনের বিপরীতে দাখিলকৃত বৈধ মনোনয়নপত্র ৯৬টি,বাতিলকৃত মনোনয়নপত্র ৪৬টি। সিলেট অঞ্চলে ১৯টি সংসদীয় আসনের বিপরীতে দাখিলকৃত বৈধ মনোনয়নপত্র ১১০টি,বাতিলকৃত মনোনয়নপত্র ৩৬টি। কুমিল্লা অঞ্চলে ৩৫টি সংসদীয় আসনের বিপরীতে দাখিলকৃত বৈধ মনোনয়নপত্র ২৫৯টি,বাতিলকৃত মনোনয়নপত্র ৯৭টি।
চট্টগ্রাম অঞ্চলে ২৩টি সংসদীয় আসনের বিপরীতে দাখিলকৃত বৈধ মনোনয়নপত্র ১৩৮টি,বাতিলকৃত মনোনয়নপত্র ৫৬টি। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়েরের সময়সীমা ৫ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ৯ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত। নির্বাচন কমিশন ১০ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে আপিল নিষ্পত্তি করবে।

নির্বাচনে প্রার্থীর সর্বোচ্চ ব্যয়সীমা ২৫-৮৪ লাখ টাকা
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীরা সর্বোচ্চ ২৫ লাখ – ৮৪ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে পারবেন। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর আসনের ভোটার সংখ্যার ওপর নির্ভর করবে তার ব্যয়সীমা। আর এ ব্যয়সীমা লঙ্ঘন করলে হতে পারে সাত বছর জেল ও জরিমানা।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন,ইতোমধ্যে সংসদ নির্বাচনের আসনভিত্তিক ভোটার তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। মনোনয়নপত্র নেয়ার সময় সেই তালিকার সিডি প্রার্থিরা সংগ্রহও করেছেন। নির্বাচনি ব্যয় সেই তালিকা মোতাবেক আইনে নির্ধারিত সীমার মধ্যে রাখতে হবে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের অনুচ্ছেদ ৪৪ (খ) এর দফা তিন অনুযায়ী,কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নির্বাচনি ব্যয়,তাকে মনোনয়ন প্রদানকারী রাজনৈতিক দল থেকে তার জন্য কার ব্যয়সহ ভোটার প্রতি ১০ টাকা হারে অথবা ২৫ লাখ টাকার মধ্যে যা সবোর্চ্চ,তার অধিক হবে না।
আসনভিত্তিক ভোটার তালিকা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি ভোটার গাজীপুর-২ আসনে। নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানউল্লাহ এ বিষয়ে বলেন, আগের আইনটি সংশোধন করে ২৫ লাখ টাকা বা ভোটার প্রতি ১০ টাকা হিসেবে যে অংক বড় হবে সেই পরিমাণ অর্থই সংশ্লিষ্ট আসনের প্রার্থীরা ব্যয় করতে পারবেন, এমন বিধান আনা হয়েছে। এক্ষেত্রে কোনো আসনে ভোটার সংখ্যা কম হওয়ার কারণে যদি মাথাপিছু ১০ টাকা হারে ২৫ লাখ টাকার কম হয়, তবে ওই আসনের প্রার্থীরা সর্বোচ্চ অংক হিসেবে ২৫ লাখ টাকাই ব্যয় করতে পারবে।
আগের আইনে সর্বোচ্চ ব্যয়সীমা ছিল ২৫ লাখ টাকা। ইসি কর্মকর্তা বলছেন, আইনে নির্ধারিত ব্যয়সীমার ব্যত্যয় সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর জেল-জরিমানা করা হতে পারে। আরপিওর ৭৩ অনুচ্ছেন অনুযায়ী, ব্যয়সীমার বিধান না মানলে বা প্রতিপালনে ব্যর্থ হলে তা বে-আইনিকার্যের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হতে হবে।
এজন্য ন্যূনতম দু বছর থেকে সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড হতে পারে। উল্লেখ্য, হালনাগাদ অনুযায়ী, দেশে ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখের মতো। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে তারা ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন।
বর্তমানে চলছে প্রার্থিতা চূড়ান্তের কাজ। এবার ৫৯টি নিবন্ধিত দলের মধ্যে ৫১টি দল প্রার্থী দিয়েছে। দলগুলো ২ হাজার ৯১টি মনোনয়নপত্র দাখিল করেছে এবং স্বতন্ত্র থেকে ৪৭৮টি মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয়।

প্রতীক বরাদ্দের আগে নির্বাচনি প্রচারণা করা যাবে না
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দের আগে কোনো রাজনৈতিক দল, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি নির্বাচনি প্রচারণা চালাতে পারবেন না। ৫ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জনসংযোগ পরিচালক ও তথ্য কর্মকর্তা মো.রুহুল আমিন মল্লিক স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে,‘আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দের আগে কোনো রাজনৈতিক দল, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি নির্বাচনি প্রচারণা চালাতে পারবেন না।
২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পর নির্বাচনি আচরণ বিধিমালা মেনে প্রচারণার জন্য নির্বাচন কমিশন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে। ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার ৪৮ ঘণ্টা পূর্বে নির্বাচনি প্রচারণা সমাপ্ত করতে হবে।’

ভোট দেখতে ২৬ দেশ ও ৭ আন্তর্জাতিক সংস্থাকে আমন্ত্রণ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণে ২৬টি দেশ ও সাতটি আন্তর্জাতিক সংস্থাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন ।ইসির জনসংযোগ শাখার সহকারী পরিচালক মো. আশাদুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান,২৬টি দেশ ও সাতটি আন্তর্জাতিক সংস্থার ৮৩ জনকে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এ ছাড়া স্বপ্রণোদিত হয়ে যেসব বিদেশি পর্যবেক্ষক বা গণমাধ্যম নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আসতে চান, তাদের ১৫ জানুয়ারির মধ্যে আবেদন করতে হবে।
অন্যদিকে ইসি যাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে, তাদের ১৭ জানুয়ারির মধ্যে কমিশনকে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। আমন্ত্রিত দেশগুলো হলো— অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ফ্রান্স, জর্জিয়া, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, জর্ডান, কাজাখস্তান, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, মঙ্গোলিয়া, নিউজিল্যান্ড, নাইজেরিয়া, ফিলিপাইন, রোমানিয়া, রাশিয়া,দক্ষিণ আফ্রিকা, থাইল্যান্ড, উজবেকিস্তান, তুরস্ক, ভুটান, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ভারত ও মালদ্বীপ।
আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো হলো— সার্ক,কমনওয়েলথ, ওআইসি, অ্যানফ্রেলএ-ওয়েব, আইআরআই ও এনডিআই। বিভিন্ন দেশের নির্বাচন কমিশন প্রধান ও যেসব প্রতিনিধি ইসির আমন্ত্রণে আসবেন,তাদের যাতায়াতের বিমান ভাড়া ছাড়া অন্যান্য সব খরচ কমিশন বহন করবে।
তাদের জন্য পাঁচ তারকা হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করা হবে। বিদেশি পর্যবেক্ষকদের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও তথ্যকেন্দ্রও থাকবে। তফসিল অনুযায়ী, ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

জাতীয় নির্বাচনে নারী প্রার্থী ৬৮ জন
রাজপথের লড়াইয়ে, স্লোগানে-মিছিলে সামনের কাতারে থাকেন নারীরা। দেশে নারী-পুরুষ ভোটার সংখ্যা প্রায় সমান। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সে তুলনায় এবারও নারী প্রার্থী কম। সাইবার বুলিংসহ বিভিন্ন ভয়, রাজনৈতিক দলের কঠোর সিদ্ধান্তের অভাবসহ নানা কারণে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনটি ধর্মভিত্তিক দল বাদে ২৭টি দলের প্রতিশ্রুতি ছিল জুলাই সনদ সইয়ের পরবর্তী নির্বাচনে প্রতিটি দল কমপক্ষে ৫% নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেবে। ধাপে ধাপে তা বাড়িয়ে ৩৩% করা হবে। তবে মনোনয়নপত্র দাখিলের পর দেখা গেছে, বেশির ভাগ দলই প্রতিশ্রুতি পূরণ করেনি।
এক-এগারোর সরকারের সময় নির্বাচন কমিশন ২০২০ সালের মধ্যে ৩৩ % নারী নেতৃত্বের শর্ত বেঁধে দিলে তা-ও পূরণ করতে পারেনি রাজনৈতিক দলগুলো।
জানা গেছে,আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে দেশের ৩শ আসনে দু’হাজার ৫৮২টি মনোনয়ন জমা পড়েছিল।এর মধ্যে নারী প্রার্থীর মনোনয়নপত্র ছিল ১০৭টি। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর ৩৯ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। শেষমেশ নির্বাচনি প্রতিযোগিতার জন্য এখন পর্যন্ত টিকে আছেন ৬৮ নারী প্রার্থী।
তথ্য সূত্র-দেশের বিভিন্ন অনলাইন পোর্টাল ।
সৌজন্যে- চাঁদপুর টইমস
৬ জানুয়ারি ২০২৬
এ জি
Chandpur Times | চাঁদপুর টাইমস Top Newspaper in Chandpur