Home / জাতীয় / নিত্যপণ্যের চড়া দাম, অসহায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার
নিত্যপণ্যের

নিত্যপণ্যের চড়া দাম, অসহায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার

২০০ টাকার নিচে কোনো মাছ নেই। দেশি মুরগি ৫০০ টাকা। সোনালি মুরগির কেজি ৩০০ টাকা। ব্রয়লার মুরগি ১৬৫-১৭০ টাকা।

গরুর মাংস ৬৫০-৬৭০, খাসির মাংস ৯৫০-১০০০ টাকা। ৫০ টাকার নিচে চাল নেই। তেল ১৭০-১৭৫ টাকা, চিনি ৮০ টাকা। সব ধরনের সবজির দামও চড়া। এমন অস্থিতিশীল বাজার পরিস্থিতিতে অনেকটা অসহায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ। তাঁদের অনেকেই বলেছেন, বাজারে যেতে ভয় পান তাঁরা।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ভাটারা থানার নতুনবাজার, দক্ষিণ কুড়িল এলাকার জোয়ারসাহারা কাঁচাবাজার ও কালাচাঁদপুর এলাকার নদ্দা মোড়লবাজার ঘুরে এই চিত্র পাওয়া গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, তেল, পেঁয়াজ, মাছ, সবজিসহ নিত্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক আছে। তবে দাম নাগালের বাইরে। গত দুই সপ্তাহ বাজারে সয়াবিন তেলের সংকট থাকলেও গতকাল সরবরাহ ছিল ভালো। দোকানে তেল চেয়ে পাচ্ছেন ভোক্তারা। তবে পাঁচ লিটার বোতলের সংকট ছিল গতকালও। বিক্রি হয়েছে গায়ের দামে।

জোয়ারসাহারা বাজারের ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন, কম্পানিগুলো তেল দিচ্ছে এখন। তাই বাজারে সংকট নেই। তবে এক কেজি ও দুই কেজি তেলের বোতল দিলেও পাঁচ কেজি তেলের বোতল কম দিচ্ছে।

মুরগি ব্যবসায়ী ফিরোজ মিয়া বলেন, মুরগির খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় মুরগির দাম কেজিপ্রতি ১০-১৫ টাকা বেড়েছে। ডিমের দামও বেড়েছে, ডজন ১১৫ থেকে ১২০ টাকা।

দোকানিরা জানান, মাছের দাম এ বছরের শুরু থেকেই বাড়তি। চাষের প্রতি কেজি বড় রুই মাছ ৩০০-৩৫০ টাকা, এক কেজি ওজনের রুই মাছ ২৫০-২৭০ টাকায় বিক্রি হয়েছে গতকাল। তিন থেকে পাঁচ কেজি ওজনের কাতল মাছ ৩৫০-৪০০ টাকা কেজি। দুই থেকে তিন কেজি ওজনের কাতল ৩০০-৩৫০ টাকা আর এক থেকে দেড় কেজি ওজনের কাতল ২৪০-২৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

মাছ ব্যবসায়ী মো. রুবেল কালের কণ্ঠকে বলেন, বাজারে মাছের সরবরাহ ভালো। আড়ত থেকে বেশি দামে কিনে আনতে হচ্ছে বলেই বেশি দামে বিক্রি করতে হয়।

বাজারে গতকালও ৬০-৬৫ টাকার নিচে পেঁয়াজ পাওয়া যায়নি। দেশি ভালোমানের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬৫-৭০ টাকায়। ভারত ও মিয়ানমারের পেঁয়াজ ৬০-৬৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

জানতে চাইলে শ্যামবাজার পেঁয়াজ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও পেঁয়াজ আমদানিকারক হাজি মো. মাজেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাজারে এখন প্রচুর পেঁয়াজ আছে। আমদানি অনেক হচ্ছে। কিন্তু খুচরা ব্যবসায়ীরা আমাদের কাছ থেকে পেঁয়াজ কিনে প্রায় দ্বিগুণ দামে বিক্রি করে। ’

বাজারে সবজির পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও চড়া সবজির বাজার। কাঁচা মরিচের দাম বেড়ে ১২০ টাকা হয়েছে। করলা ১২০ টাকা, মটরশুঁটি ৮০ টাকা, টমেটো ৫০ টাকা, গোল বেগুন ৮০ টাকা, লম্বা বেগুন ৬০ টাকা, লাউ আকারভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শিম ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কাঁচা পেঁপে ৪০ টাকা, ক্ষীরা ৫০ টাকা, ফুলকপি-পাতাকপি ৪০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা, আলু ২০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

কাঁচামালের ব্যবসায়ী মো. সেজান বলেন, সবজির দাম চলতি সপ্তাহে বাড়েনি, যা বাড়ার আগেই বেড়েছে। কারণ শীতের সবজি কমে যাচ্ছে।

সুমন হাওলাদার নামের এক ক্রেতা বলেন, এমন কোনো পণ্য নেই যে কেজিপ্রতি ৩০-৫০ টাকা বাড়েনি। তার মধ্যে পেঁয়াজ ও তেলের দাম বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। তাই এখন বাজারে আসতে ভয় হয়।

তেলের সরবরাহের বিষয়ে জানতে চাইলে সিটি গ্রুপের পরিচালক বিশ্বজিৎ সাহা বলেন, ‘আমরা বাজারে তেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ দিচ্ছি। তেলের দাম বাড়তে পারে এমন গুজবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী মজুদ করে বাজারে সংকট তৈরি করেছি